জঙ্গি হামলায় দণ্ডিত আকায়েদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান যুক্তরাষ্ট্র আদালতের
আকায়েদ উল্লাহ
নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২১ | ০১:৪৬
নিউইয়র্কে জঙ্গি হামলায় দণ্ডিত বাংলাদেশি অভিবাসী আকায়েদ উল্লাহর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির আদালত।
আকায়েদ তার বক্তব্য নতুন করে দিয়ে শাস্তি কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। তার পরিবর্তিত বক্তব্য মিথ্যা প্রতীয়মান করে তা প্রত্যাখ্যান করেন বিচারক রিচার্ড সুলিভান।
আদালত বলেছেন, জুরিবোর্ডের দেওয়া দণ্ড ঠিক আছে।
২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বুকে পাইপবোমা বেঁধে নিউইয়র্ক স্কয়ারের কাছে ব্যস্ততম বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ ঘটান আকায়েদ। বিস্ফোরণে তিনিসহ চারজন আহত হন। পরে তাকে আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৮ সালে ম্যানহাটনের আদালতে আকায়েদের বিচার হয়। বিচারে সংঘবদ্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীর হয়ে তার কাজ করার বিষয়টি উঠে আসে। এ ছাড়া পুলিশের কাছে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি ও ফেসবুকে বিদ্বেষমূলক নানা পোস্ট বিচারে উঠে আসে। জুরিবোর্ড আকায়েদকে ৩০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
কিন্তু এখন আকায়েদ দণ্ড চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি আদালতে দাবি করেন, তিনি ইসলামিক স্টেটের (আইএস) হয়ে জঙ্গি কার্যক্রম চালাননি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বোমা ফেলবেন-এমন কথায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন। ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত হয়ে তিনি বোমাবাজি করেছেন। গ্রেপ্তারের পর পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তি থেকেও সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে আকায়েদ।
তবে আকায়েদের এই বক্তব্য গত ৩১ ডিসেম্বর প্রত্যাখ্যান করেছেন বিচারক রিচার্ড সুলিভান। বিচারক বলেছেন, আইএসের একটি ভিডিও দেখে আকায়েদ অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। আর তাদের নির্দেশ পালন করেছেন নিজে বোমাবাজি করে। তাছাড়া আকায়েদের ফেসবুক পোস্টসহ অন্যান্য গতিবিধি তার দাবিকে সমর্থন করে না। ফলে, তাকে দেওয়া জুরিবোর্ডের দণ্ড ঠিকই আছে।
৪ জানুয়ারি প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, জুরিবোর্ড রায় ঘোষণার পরই আকায়েদ চিৎকার করে নিজে আইএসের অনুসারী নন বলে দাবি করেন।
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সন্তান আকায়েদ। পারিবারিক অভিবাসনে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে তিনি ব্রুকলিনে থাকতেন।
গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে আকায়েদ স্বীকার করেন, তিনি আইএসের জন্য বোমা হামলা করেছিলেন। আকায়েদের কম্পিউটার তল্লাশি করে আইএসের নানা ধরনের প্রচারণাসামগ্রী পাওয়া যায়।
ফেডারেল গোয়েন্দারা দাবি করেন, ২০১৪ সাল থেকে আকায়েদ আইএসের দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে শুরু করেন। প্রচারণা ভিডিওর মাধ্যমে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি ইন্টারনেটে খুঁজতে শুরু করেন, কীভাবে বোমা তৈরি করা যায়। পরে ব্রুকলিনে নিজের বাসায় বসেই তিনি বোমা তৈরি করেন। তার বাড়ি থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আকায়েদ নিজেই পুলিশকে জানিয়েছিলেন, তার হামলার উদ্দেশ্য ছিল আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া। এ কারণে তিনি হামলার জন্য ব্যস্ত কর্মদিবস বেছে নেন।
২০১৭ সালে হামলার ঘটনার সময় আকায়েদের বয়স ২৭ বছর বলে জানানো হয়েছিল। বিচারে তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড হয়। বিভিন্ন ধারার অপরাধের পূর্ণ দণ্ড প্রকাশিত হলে তাকে বাকি জীবন কারাগারেই থাকতে হতে পারে।
আকায়েদের হামলার ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারিবারিক অভিবাসন বন্ধ করার জন্য তার উদাহরণ তুলে ধরেছিলেন। ওই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির ফলাফল হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
মার্কিন অভিবাসন নীতিতে আত্মীয়-স্বজনের বদৌলতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। ওই হামলাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প কংগ্রেসকে সেই সুযোগ পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন।