সুদের টাকা না পেয়ে নারী পোশাককর্মীকে পেটালেন ব্যবসায়ী
ফাইল ছবি
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ১৬:৪৩
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মোছা. তাহমিনা খাতুন (৩৫) নামের এক পোশাককর্মীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে মো. আমিরুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের সরাবপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে মারধরে গুরুতর আহত ওই পোশাকশিল্পের নারীকর্মীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তাড়াশ ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ওই রাতেই সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিষয়টি তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, চার বছর আগে মোছা. তাহমিনা খাতুন সাংসারিক প্রয়োজনে গ্রামের আরেক বাসিন্দা আমিরুল ইসলামের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা চড়া সুদে ঋণ নেন। পাশাপাশি তাহমিনা খাতুন ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করে দীর্ঘদিন ধরে সেই সুদের টাকা পরিশোধ করে আসছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস হলো সাংসারিক আর্থিক দৈন্যতায় তিনি আমিরুলের কয়েক মাসের সুদ পরিশোধ করতে পারেননি।
এদিকে ঈদের আগের দিন তাহমিনা ঈদ করতে পরিবারসহ বাড়িতে আসেন। এ খবর পেয়ে আমিরুল ইসলাম ঘটনার রাতে তাহমিনার বাড়িতে যান এবং সুদসহ আসল টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেন। এ সময় তাহমিনা আর্থিক দৈন্যতার জন্য আমিরুলের কাছে কয়েক মাস সময় চান। এ নিয়ে উভয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
স্থানীয়দের দাবি, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আমিরুল ওই নারীকে মারধর করেন। তাহমিনার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আমিরুল ইসলাম মারধরের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তা পরিশোধ না করে তাহমিনা ঢাকায় পোশাক কারখানায় কাজ করছেন। আর ঈদে বাড়ি আসায় পাওনা টাকা ফেরত দিতে তাকে তাগাদা দিয়েছি মাত্র।’
এ বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সুদের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক নারীকে মারধরের খবর পেয়েছি। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তবে এই ঘটনায় ওই পোশাককর্মী এখনো কোনো অভিযোগ দেননি।’
তিনি জানান, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
