ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সিরাজগঞ্জে গৃহকর্মীকে নির্যাতন, মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে গৃহকর্মীকে নির্যাতন, মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগ
×

সংগৃহীত

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬ | ২০:১৯ | আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ | ২২:৫৮

সিরাজগঞ্জে এক গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষক ও তাঁর চিকিৎসক স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা রেকর্ডে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত রোববার সকালে থানায় এজাহার জমা দেওয়ার পরও দুই দিন পার হলেও তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর বাবা রোববার সকালে সদর থানায় এজাহার জমা দেন। এতে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক শিউলি মল্লিকা ও তাঁর স্বামী সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার নুরুল হককে আসামি করা হয়। তবে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়নি।

এজাহারে বলা হয়, গত শনিবার বিকেলে কথিত স্বর্ণ চুরির সন্দেহে ভুক্তভোগী গৃহকর্মীকে গৃহকর্ত্রীর বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তল্লাশির নামে তাঁকে অপমান, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁকে থানায় নেওয়া হলে পুলিশের সামনেও চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। এক পর্যায়ে চুরির প্রমাণ না পেয়ে তাঁকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার পর পাল্টা অবস্থান নেন গৃহকর্ত্রী শিউলি মল্লিকা। তিনি নিজেই বাদী হয়ে আয়নার বিরুদ্ধে চুরির মামলা দায়ের করেছেন। ফলে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।

ঘটনাটি মীমাংসার জন্য বিবাদীপক্ষের লোকজনের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সোমবার সকালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মহিদুল হাসানের কক্ষে উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অভিযোগ ওঠা শিক্ষক-চিকিৎসক দম্পতি, ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে অধ্যক্ষ মহিদুল হাসান বলেন, উভয় পক্ষ নিজেরা কলেজে এসেছিল। শেষ পর্যন্ত মীমাংসা হয়নি বলে জেনেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনি বিব্রত।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার দুই নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আব্দুল মজিদ জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে সদর থানার ওসি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘মারধরের অভিযোগ করা হলেও গৃহকর্মীর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন বা আলামত দেখা যায়নি। তাই বিষয়টি মামলা না হয়ে জিডি হতে পারে। অন্যদিকে চুরির অভিযোগটি সরাসরি মামলা হিসেবে নেওয়া হবে।’

ওসির এই বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গৃহকর্মীর বাবা ও মায়ের অভিযোগ, এজাহার জমা দেওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলা রেকর্ড ঠেকানোর নানা চেষ্টা চলছে। এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে আপস-মীমাংসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে তারা কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি নন।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে-একজন গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলেও যদি মামলা গ্রহণে অনীহা দেখা যায়, তবে প্রান্তিক মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কতটা সহজ?

আরও পড়ুন

×