ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

বগুড়ায় হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু: ডিবির দাবি, আত্মহত্যা

বগুড়ায় হেফাজতে হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু: ডিবির দাবি, আত্মহত্যা
×

প্রতীকী ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, উত্তরাঞ্চল

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:৪২

বগুড়ায় অটোরিকশাচালক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের পরদিন জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে আসাদুজ্জামান আসাদ (৩০) নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে। হাজতখানার শৌচাগারে লুঙ্গি পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, আসাদ আত্মহত্যা করেছেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। গলায় ফাঁসের দাগ ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাননি চিকিৎসকরা।

আসাদুজ্জামান আসাদ বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা মধ্য উত্তরপাড়া গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে। তবে তিনি মাদকাসক্ত হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। চুরি-ছিনতাই করে নেশার টাকা জোগাড় করতেন। সারিয়াকান্দি উপজেলায় চালককে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় হওয়া মামলার প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। গতকাল রোববার তাকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা ছিল।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে আসাদকে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ডিবি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে নওগাঁ জেলার নাইম ও সুমন নামে আরও দুই সহযোগীর নাম বলেন। জিজ্ঞাসাবাদে আসাদুজ্জামান জানান, চালককে শ্বাসরোধ করে হত্যার সময় তিনি মাথা চেপে ধরে রেখেছিলেন। এর পর তারা একসঙ্গে ঘটনাস্থলেই ইয়াবা সেবনের পর ছিনিয়ে নেওয়া অটোরিকশা বিক্রির উদ্দেশ্যে লুকিয়ে ফেলেন।

আসাদুজ্জামানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবারই ডিবির একটি দল তাকে নিয়ে নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায়। তবে অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অভিযান শেষে রাতে তাকে আবার ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। রাতের খাবার খেয়ে তিনি হাজতখানায় ঘুমিয়ে পড়েন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ১০টার দিকে আসাদুজ্জামান হাজতখানার শৌচাগারে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি বের না হওয়ায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সন্দেহ হয়। তারা শৌচাগারে প্রবেশ করে দেখেন, পরনের লুঙ্গি ছিঁড়ে ভেন্টিলেটরের রডের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছেন আসাদুজ্জামান। পুলিশ সদস্যরা তাকে নামিয়ে মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল বলে জানান চিকিৎসকরা।

মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম রনি বলেন, হাসপাতালে আনার পর রোগীর গলায় একটি ফাঁসের দাগ পাওয়া গেছে। শরীরের অন্য কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ ইকবাল বাহার বলেন, হাজতখানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। হত্যা মামলার বাকি দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন বগুড়ার বউবাজার থেকে তিন ব্যক্তি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে সারিয়াকান্দি যান। পরে নির্জন এলাকায় চালক আব্দুল মান্নান মোল্লাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যান তারা। পরদিন সকালে উপজেলার কৈ-খালি বিলসংলগ্ন দড়িপাড়া এলাকা থেকে চালক মান্নানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১ জুলাই সারিয়াকান্দি থানায় হত্যা মামলা হয়।

আরও পড়ুন

×