যমুনেশ্বরী নদীতে ডুবে দুই বন্ধুর মৃত্যু
অহিদ ইসলাম ও মাসুদ রানা। ছবি: সংগৃহীত
রংপুর অফিস
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬ | ২১:৩৭
ঈদের দিন যমুনেশ্বরী নদীর পানিতে ডুবে মারা গেছেন অহিদ ইসলাম (১৫) ও মাসুদ রানা (১৬) নামের দুই কিশোর। একই গ্রামে বেড়ে ওঠা, একসঙ্গে জীবিকার তাগিদে ঢাকায় যাওয়া—সবশেষে মৃত্যুতেও একসঙ্গেই বিদায় নিলেন তারা।
শুক্রবার দুপুরে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ি এলাকায় যমুনেশ্বরী নদীতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়। তারা দুজনই একই ইউনিয়নের ডাঙ্গীরহাট তেলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত কিশোর মাসুদ রানা বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকতেন। সেখানে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। কোরবানির ঈদ করতে পরিবারের সঙ্গে গ্রামে এসেছিলেন। অন্যদিকে অহিদ ইসলামের বাবা গ্রামের ভ্যানচালক। সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রায় এক বছর আগে অহিদও ঢাকায় গিয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ শুরু করেন। ঈদের দুই দিন আগে তিনিও বাড়ি ফেরেন।
শুক্রবার সকালে আরও কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরের কাশিয়াবাড়ি এলাকার যমুনেশ্বরী নদীতে গোসল করতে যান অহিদ ও মাসুদ। গোসলের একপর্যায়ে নদীর পানিতে তলিয়ে যান তারা। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন নদীতে নেমে অহিদকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদকে নদী থেকে উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
স্বজনরা জানান, দুই বন্ধুর মধ্যে কেউই সাঁতার জানতেন না।
অহিদ ইসলামের মা কাজলী বেগম ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করে বলছেন, ‘বাবা অহিদ, তুই মোক ছাড়িয়া কোনটে নুকালু বাবা! মোর বুকটা যে খালি করি দিলু।’
মাসুদ রানার বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার একটাই ছেলে। ঢাকায় থাকতাম। ঈদ করতে গ্রামে এসে সব শেষ হয়ে গেল। কেন যে গ্রামে আসলাম! ঢাকায় থাকলে আজ আমার কলিজাটারে হারাতে হতো না।’
প্রতিবেশী তৈয়ব আলী বলেন, ‘ছেলে দুটির মধ্যে ভালো বন্ধুত্ব ছিল। অভাবের কারণে অল্প বয়সে কাজ করতে তারা ঢাকায় গিয়েছিল। ঈদ করতে এসে এভাবে মারা গেল, ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে। দুজনই ছিল পরিবারের একমাত্র ছেলেসন্তান।’
তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসান আল মামুন বলেন, ‘মাসুদ রানাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। আর অহিদ নামের একজন ঘটনাস্থলেই পানিতে ডুবে মারা গেছেন বলে শুনেছি।’
তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। নদীতে গোসলে নেমে মাসুদ ও অহিদ পানিতে ডুবে মারা গেছে। লাশ দুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
- বিষয় :
- নদী
- পানিতে ডুবে মৃত্যু
- কিশোরের মুত্যু
