ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রেরণা

অন্যের চেয়ে আলাদা হয়ে ওঠার ক্ষুধা থাকতে হবে

অন্যের চেয়ে আলাদা হয়ে ওঠার ক্ষুধা থাকতে হবে
×

জিমি হেনড্রিক্স

ইয়াসিন মাসুম

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩১

জিমি হেনড্রিক্স। আমেরিকান কিংবদন্তি গিটারিস্ট। প্রভাবশালী ‘রোলিং স্টোন’ ম্যাগাজিন থেকে শুরু করে পৃথিবীর আলোচিত সংগীত গবেষক, মিউজিশিয়ান এবং অগণিত শ্রোতা তাঁকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গিটারিস্টের স্থান দিয়েছেন। কিংবদন্তি এই গিটারিস্টের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন ইয়াসিন মাসুম

দর্শক-শ্রোতার কাছ থেকে আমি যা পাই, তা আমার স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। এ এমনই এক প্রাপ্তি, যার চেয়ে বেশি কিছু পাওয়ার নেই কারও। এভাবেই আরেকটি নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়ে যায় আমার সামনে। যদিও দর্শক-শ্রোতার কথা ঘূর্ণাক্ষরেও ভুলে বসি না আমি; তবে তাদের উন্মাদনা বা বাড়াবাড়ি রকমের উচ্ছ্বাসকেও পাত্তা দিই না মনে। ফলে ‘হায় স্রষ্টা, আমি এখন স্টেজে, এখন আমি কী করব?’–এমন অহমিকা জন্মায় না আমার ভেতর। বরং আমি অন্যদিকে মোড় ঘোরাই; অনেকটা নতুন মিউজিক বাজাতে শুরু করি।

আমার বিলাসিতা মানে...
পর্যাপ্ত টাকা আমার নেই। সে রকমটা আমি চাইও না। কেননা, সকালে ঘুম ভাঙার পর বিছানায় খানিকটা আড়মোড়া দেওয়া, তারপর চলে যাওয়া ইনডোর সুইমিংপুলে, তারপর একটু সাঁতার কেটে এসে নাশতার টেবিলে বসা, একটু বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়া, এক গ্লাস কমলার জুস কিংবা এ রকম কিছু একটা খাওয়া, তারপর বাথরুমে গিয়ে শেভ করা–এটুকুই যথেষ্ট আমার। আর বিলাসিতা? যদি কখনও পাহাড়চূড়ায় উঠে একটা তাঁবু গেড়ে থাকতে পারি, তাতেই খুশি!
 
স্টেজই আমার ঘর
স্টাইল তো সব মানুষই যে যার মতো করে। আমার উড়নচণ্ডী ভাব, ফ্রিকি হেয়ার স্টাইল না দেখে বরং যেন আমার বাজনা শোনে। আমাকে কেউ অনুসরণ করুক–সেটা আমি চাই না। একবার স্টেজে দাঁড়িয়ে আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম, কোনো এক রাতে গিটার জ্বালিয়ে দেব। কিংবা ভেঙে ফেলব বাজাতে বাজাতে। দর্শকরা বলে উঠেছিল, তবে তাই হোক। আমি বলেছিলাম, তোমরা কি সত্যি সেটি চাও? তারা বলেছিল, অবশ্যই চাই। জবাব দিয়েছিলাম, যেদিন খুব রাগ হবে, মনে হবে যথেষ্ট বাজানো হয়েছে, এবার আমার ক্ষান্তি দেওয়া উচিত, নিশ্চয়ই সেদিন ঘটাব এমন কাণ্ড। জানি এ ধ্বংসের প্ররোচনা; তবু বলি, দম ফেলার জন্য প্রত্যেক মানুষেরই একটা ঘর থাকা চাই। আমার ক্ষেত্রে, স্টেজই হলো ঘর!

গিটারেরও আছে ক্ষমতা
অনেকে জিমি হেনড্রিক্সকে গিটারিস্টদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পারফরম্যান্স আর্টিস্ট হিসেবে তুলে ধরতে চান। মঞ্চে নাকি আমি প্রতিটি মুহূর্তকে এক অভিনব প্রদর্শনীর মতো সাজিয়ে তুলি। আদতে এটি একেবারে মন্দ বলে না। তবে একটা কথা–সব ধরনের মিউজিক চাইলেই গিটারে তোলা যায় না। যদি তা করার উদ্দেশ্যে গিটারে হাত রাখেন আর বাজাতে শুরু করেন, তবে প্রকৃত অর্থে আপনি পুরো ব্যাপারটাই নষ্ট করে দেবেন। ফলে এমন চেষ্টা করবেন না। 

আলাদা হয়ে ওঠার ক্ষুধা 
সংগীতজীবন, নতুন গিটার স্টাইল এবং প্রচলিত নিয়ম ভাঙার সাহস নাকি আমাকে কেবল রক মিউজিকের কিংবদন্তি বানায়নি; সাহসই আমাকে ষাটের দশকের মিউজিকে কাউন্টার কালচারের আইকন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি আমি মানি না! আমি মনে করি, নতুন আইডিয়া, উদ্ভাবন, কিংবা নতুন যা কিছুই হোক না কেন, তার সন্ধান যদি আপনি পান, তবে পুরোনোর চোখ রাঙানিতে পাত্তা না দিয়ে, সেটির যত্ন নিন। অন্যদের চেয়ে আলাদা হয়ে ওঠার ক্ষুধা আপনার ভেতর থাকতেই হবে। একজন মানুষের জন্য এটিই যথেষ্ট! 

আরও পড়ুন

×