নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বী
ইয়েলেনা ইসিনবায়েভা ছবি : সংগ্রহ
ইয়াসিন মাসুম
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ইয়েলেনা ইসিনবায়েভা। দু’বার অলিম্পিক স্বর্ণজয়ী ও বিশ্ব রেকর্ডধারী রাশিয়ান সাবেক পোল ভল্ট খেলোয়াড়। সর্বকালের সেরা এই নারী পোল ভল্টারের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন ইয়াসিন মাসুম
বছরের পর বছর ধরে, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে নিতে, আমার দেহ-মন ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। একটার পর একটা প্রতিযোগিতায় জিতে যাচ্ছি, অথচ নতুন বিশ্ব রেকর্ড করতে পারছি না–এ নিয়ে নিরন্তর প্রত্যাশার চাপ ছিল আমার ওপর। প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য মেয়েরা যখন উচ্চতা অতিক্রম করে উচ্ছ্বাসে মাতোয়ারা, সমান উচ্চতা পাড়ি দেওয়ার পর আমার অনুভূতি হতো বিষাদমাখা। কেননা, একই উচ্চতা তো আমি বহুবার পাড়ি দিয়েছি। ফলে প্রতিযোগিতায় জিতে গেলেও নতুন কোনো গল্প তো লেখা হলো না! বিষয়টি একই সঙ্গে কঠিন ও মর্মযাতনার ছিল আমার জন্য। নিজেকেই বললাম, ‘বিষয়টিকে পাত্তা না দিয়ে, খানিকটা বিরাম নেওয়া যাক। এ সময় অন্যদের পারফর্ম দেখে কাটানো যাক সময়।’ ফলে প্রতিযোগিতা, ট্রেনিং–এক কথায় পোল ভল্ট সম্পর্কিত সব ব্যস্ততা থেকে খানিকটা বিশ্রাম নিয়েছিলাম আমি।
নতুন করে শুরু
২০১০ সালে নেওয়া সেই বিরতি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই হয়ে উঠেছিল আমার জন্য। আরেকটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, পুরোনো কোচ ইয়েভজেনিকে পুনঃনিযুক্ত করার। আমি মনে করি, ইয়েভজেনির সঙ্গে কাজ করা ছিল আমার জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত। কেননা, তাঁর ওপর আমার আস্থা ছিল; পোল ভল্টার হিসেবে আমি গড়ে উঠেছি তাঁরই হাতে। তিনি আমাকে নিজের কন্যার মতো ভালোবাসেন। তাঁকে আমি স্রেফ একজন কোচ হিসেবে দেখিনি। তিনি একাধারে আমার কোচ, আমার বন্ধু এবং আমার দ্বিতীয় পিতা। তাঁর ওপর আমার আস্থা শতভাগ। তাঁর অধীনে নিজেকে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী অনুভব করি আমি।
নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী
প্রথম প্রথম যখন ইয়েভজেনির অধীনে কোচিং করতাম, তখন কিছুই হারাইনি আমি। মিস করিনি কোনো প্রতিযোগিতাই। সব বিশ্বরেকর্ড ভেঙে, সব বড় প্রতিযোগিতা জিতে নিয়েছিলাম। ২০০৪ সালে আটটা বিশ্বরেকর্ড ভাঙি আমি। এর পরের বছর ৯টা। এরপরও যদি তাঁর সঙ্গেই থাকতাম, তাহলে হয়তো ত্রিশটি, কিংবা কে জানে, হয়তো চল্লিশটি বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ফেলাও সম্ভব ছিল আমার পক্ষে। নিজেকেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে গেছি সব সময়।
বিশ্বরেকর্ডের গুরুত্ব দ্বিতীয় অবস্থানে
২০০২ সালে শীত মৌসুম ভালোভাবেই শুরু করতে পেরেছিলাম আমি। কোচ ইয়েভজেনি ত্রোফিমভের তত্ত্বাবধানে খুব দ্রুতই ফল পেয়েছিলাম বলে খুশি ছিলাম আমি। আর ‘ওয়ার্ল্ড ইনডোর চ্যাম্পিয়নশিপ’–এ স্বর্ণপদক জয় আমাকে এনে দিয়েছিল আসন্ন অলিম্পিক গেমসে সফল হওয়ার আত্মবিশ্বাস। স্টকহোমে আমার বিশ্ব রেকর্ড আমাকে আবারও র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে এনে দেয়। এ এমনই এক অনুভূতি, যা ভেতর থেকে প্রেরণা জোগাচ্ছিল–আমার পক্ষে ৫ মিটার কিংবা তারও বেশি উচ্চতা পার হওয়া সম্ভব। তবে বিশ্বরেকর্ডের গুরুত্ব আমার কাছে দ্বিতীয় অবস্থানে; কেননা, কোনো প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়াটাই আমার প্রথম লক্ষ্য।
আমার বয়স যখন পনেরো, জিমন্যাস্টিক্সের কোচ বললেন, ‘পোল ভল্টে চেষ্টা করে দেখবে নাকি? কেননা, জিমন্যাস্টিক্সে মাস্টার হওয়ার কোনো সুযোগ তোমার নেই।’ না বলে দিলাম। কারণ, পোল ভল্ট খেলাটা কেমন–সেটিই জানতাম না আমি। অথচ এ পথে এসে নিজেই হয়ে উঠেছি নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী!
- বিষয় :
- রেকর্ড
