তারুণ্যের আড্ডা
ভোট, উচ্চশিক্ষা ও এপস্টেইন ফাইল
তরুণ মন যেখানে জড়ো হয় সেখানেই ওঠে আড্ডার ঝড়... মডেল: অমৃতা, সাজনিয়া ও তারেক; ছবি: সাহস
আশিক মুস্তাফা
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৪ | আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
অবসরে সামাজিক মাধ্যমের বাইরে কী করেন আপনি? এমন প্রশ্নের জবাব আপনার কাছে নাও মিলতে পারে। তবে তরুণরা এখনও প্রায় প্রতিদিনই আড্ডায় ঝড় তোলেন। অ্যাসাইনমেন্ট থেকে শুরু করে গ্রুপস্টাডি এবং অনলাইনের আলোচিত এপস্টেইন ফাইল কিংবা নির্বাচনে প্রথম ভোটটা কাকে দেবেন সবই থাকে তাদের আড্ডায়। তরুণদের সঙ্গে কথা বলে তাদের উদার মনের কথা লিখেছেন আশিক মুস্তাফা
আচ্ছা, অবসরে সামাজিক মাধ্যমের বাইরে কী করেন আপনি? এমন প্রশ্নের জবাবে গুলশানের এক করপোরেট অফিসে চাকরি করা তূর্য বলেন, ‘ঢাকার যান্ত্রিক জীবনে অবসর আর কোথায়? তবে উইকএন্ডে প্রায়ই আড্ডা দিই ভার্সিটি লাইফের বন্ধুদের সঙ্গে।’ কোথায় আড্ডা দেন? ‘এই তো কখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার কখনও বা কোনো ক্যাফেটারিয়াতে বসে। খোলা আকাশের নিচে আড্ডা দিতে এখন আর ভালো লাগে না। অবশ্য খোলা আকাশ এখন ঢাকায় কোথায় পাব বলেন? রাস্তাগুলোও এখন যেন পুলের নিচে; মানে রাস্তার ওপরে রাস্তা!’
আড্ডার বিষয়
কার্জন হলের সামনে দেখা ঢাকা বিশ্ববিদ্য়ালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের স্নাতক শিক্ষার্থী সুমাইয়া বরকতউল্লাহর সঙ্গে। তাঁকে আড্ডার বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করি। সুমাইয়া বলেন, ‘আড্ডার বিষয় ঠিক থাকে না আমাদের। আমরা প্রায় প্রতিদিনই আড্ডা দিই কার্জন হলের সামনে। ক্লাস শেষে বন্ধুরা কার্জন হলের ঘাসেই মেতে উঠি আড্ডায়। অ্যাসাইনমেন্ট থেকে শুরু করে গ্রুপস্টাডি এবং অনলাইনের আলোচিত এপস্টেইন ফাইল কিংবা নির্বাচনের কথাও। নির্বাচনে এবারই প্রথম ভোট দেব আমরা। কে কাকে কেন ভোট দেবেন এই নিয়েও চলে তর্ক-বিতর্ক।’
ফুলার রোডের ব্রিটিশ কাউন্সিল রিসোর্স সেন্টারের ক্যাফেটারিয়াতে ঢুকেই পাওয়া গেল বেশ কয়েক তরুণ-তরুণীকে। তারা আড্ডা দিচ্ছেন। কথা বলে জানা গেল, তারা প্রায় প্রতিদিনই আসেন বই পড়তে, মুভি নিতে, আড্ডা দিতে। আর আড্ডাটা প্রায়ই হয় হালকা স্ন্যাকসে অথবা কফির ধোঁয়ায় জমজমাট হয়ে ওঠে আড্ডার তর্ক-বিতর্ক।
হবে নাকি আড্ডা?
লাইফ কখনও বোরিং হয় না। মানুষ ইচ্ছে করেই বোরিং করে তোলেন। অফিসের কাজে বিপর্যস্ত? বাসায় গিয়েও নানা কাজে হয়তো বোরিং হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। শুনুন! হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি, একটা ছুটির দিনে কয়েকজন বন্ধুকে ফোন করে নিয়ে আসুন কোনো একটা ক্যাফেটারিয়াতে। দেখুন আড্ডা দিয়ে। কফির মগে চুমুক দিয়ে পুরোনো দিনের গল্প রতে করতে দেখবেন কখন দূর হয়ে গেছে বাস্তব জীবনের সব বোরিং তা টেরই পাবেন না। একটা আড্ডা দিয়েই দেখুন না!
কোথায় হবে আড্ডা?
আড্ডার জন্য অবশ্যই খোলা ময়দান ভালো। যেখানে নীল আকাশের দিগন্ত দেখতে পাওয়া যাবে সহজে। সবুজের সমারোহে হবেন মুগ্ধ। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যাবে একঝাঁক বুনো পাখি। কিন্তু হায়! ঢাকা শহরে পাবেন কোথায় এমন পরিবেশ? সুতরাং এই চিন্তা বাদ দিয়ে অন্য কিছু ভাবতে হবে–একটা নিরিবিলি পরিবেশ, হালকা মিউজিক, চারদিকে মনমাতানো একটা পরিবেশ, রঙের বাহার আর স্নিগ্ধতা। ভাবছেন এ রকম পরিবেশ আছে নাকি? হ্যাঁ, আছে। আপনি চাইলে সেসব জায়গায় গিয়ে কফির মগে চুমুক দিয়ে মুগ্ধ হবেনই হবেন। ভালোলাগা আপনাকে স্পর্শ করে যাবে এক নিমেষে। তবে এটাও ঠিক, আড্ডাবাজদের আড্ডার জায়গা দেখিয়ে দিতে হয় না। তারা যেখানে জড়ো হয় সেখানেই জমিয়ে তোলে আড্ডা।

কার্জন হলের সবুজ ঘাসে
কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়; দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এই কার্জন হল। এখানে এলেই মনটা সবুজ হয়ে যায়। উদার হয়ে যায়। প্রাণ খুলে কথা বলতে ইচ্ছে করে। গান গাইতে ইচ্ছে করে। সুর তুলতে ইচ্ছে করে। কার্জন হলের শরীর আর আশপাশে খুঁজে পাবেন তারুণ্যের ছোঁয়া। নিজেকেও তখন তরুণ হিসেবে আবিষ্কার করতে পারবেন। এছাড়াও ফুলার রোডের ফুটপাত ধরে আড্ডা জমে ওঠে আরও ভালোভাবেই!
টিএসসি ক্যাফেটারিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ক্যাফেটারিয়া চমৎকার একটি জায়গা। রয়েছে ক্যাফেটারিয়ার সামনে খোলা মাঠ। সেখানে বসে আকাশও দেখা যায় চমৎকার। যদিও এই ক্যাফেটারিয়াটি শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষকদের জন্য। এই ক্যাফেটারিয়া ভালো লাগবে এই কারণে–ভেতরে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আপনি এখানে পাবেন তারুণ্যের প্রাণের ছোঁয়া।
আড্ডা, কেবলই আড্ডা...
আড্ডায় কখনও হ্যাঁ, আবার কখনও না। সুতরাং আপনিই ঠিক করবেন আসলে আপনি কী চান? আপনি যদি আড্ডাকে সময় নষ্ট মনে না করেন তাবে আড্ডার প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন। আর কাজের ফাঁকে আড্ডা দিতে খোঁজে নিতে পারেন আড্ডা-কাজের যথার্থ স্থান।
কাজের ফাঁকে নয়, মাঝেমধ্যে শুধু শুধুই আড্ডা দিতে হয়। আড্ডাহীন জীবন বড্ড বোরিং। বড্ড একরোখা। বোরিং থেকেই নানারকম মানসিক রোগের জন্ম হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, কখনও বোরিং থাকা যাবে না। সবসময় হাসি-খুশি-প্রাঞ্জল থাকতে হবে। আর হাসি-খুশি-প্রাঞ্জল থাকতে হলে আপনাকে অবশ্যই ঘরে-অফিসে-কাজে আবদ্ধ হয়ে না থেকে কখনও কখনও আড্ডায়ও মেতে উঠতে হবে।
- বিষয় :
- তারুণ্য
