উদ্যোগ
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সংগীতের সুর
অবহেলিত শিশুদের গান শোনাচ্ছেন পিয়াল কান্তি শীল ছবি : সংগ্রহ
রুবেল মিয়া নাহিদ
প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
সংগীত মানুষকে হাসায়, কাঁদায়, ভাবায় এবং একই সঙ্গে উজ্জীবিত করে। সংগীত কোনো সীমানা মানে না। আনন্দ, বেদনা, ভয় কিংবা আশা–সব অনুভূতির সঙ্গেই তার গভীর সম্পর্ক। এই বিশ্বাস থেকেই সংগীতকে জীবনের পথ ও সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তরুণ স্বেচ্ছাসেবী ও সংগীতশিল্পী পিয়াল কান্তি শীল। তাঁর কাছে সংগীত শুধু বিনোদন নয়; এটি নিরাময়, নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং সমাজ বদলের এক শক্তিশালী হাতিয়ার।
মহেশখালীতে বেড়ে ওঠা পিয়াল ২০১৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনার জন্য কক্সবাজারে আসেন এবং ভর্তি হন কক্সবাজার কলেজে। নতুন শহর, নতুন পরিবেশ–এর মধ্যেই যুক্ত হন ইয়ুথ অ্যালায়েন্স ফর সাসটেইনেবল ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট বা ইয়াসিড-এর সংগীতভিত্তিক উদ্যোগ ‘টিচিং পিস থ্রু মিউজিক’ কর্মসূচির সঙ্গে। যেটি আমেরিকান সংগঠন পিচ থ্রু মিউজিক ইন্টারন্যাশনাল সহায়তা করছে। এখান থেকেই শুরু হয় তাঁর স্বেচ্ছাসেবী যাত্রা।
শুরুতে একজন সাধারণ স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে শিশুদের সংগীত শেখানো, ক্লাস আয়োজন ও কমিউনিটি কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন পিয়াল। কাজে নেমে দেখেন, জলবায়ু সংকট, দারিদ্র্য ও বাস্তুচ্যুতি শিশু ও কিশোরদের জীবনে শুধু বস্তুগত নয়, মানসিক সংকটও তৈরি করছে। উপকূলীয় এলাকা ও শরণার্থী শিবিরে বেড়ে ওঠা অনেক শিশু ভয়, অনিশ্চয়তা ও ট্রমার মধ্যে থাকে; নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না। তখন তার মনে হয়, শুধু ত্রাণ বা সহায়তা নয়–শিশুর মানসিক শান্তি ও আত্মপ্রকাশের জায়গা তৈরি করাও জরুরি। তিনি লক্ষ্য করেন, সংগীত কতভাবে শিশু-কিশোরের মানসিক চাপ কমাতে, আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নেতৃত্ব বিকাশে সাহায্য করতে পারে। তখনই উপলব্ধি করেন, সংগীত হতে পারে তাদের কথা বলার ভাষা।
বর্তমানে পিয়াল ওই কর্মসূচির মিউজিক প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে শুরু করা এই যাত্রায় গত ছয় বছরে তিনি হাজারো শিশু, কিশোর ও যুবকের সঙ্গে কাজ ও তাদের জীবন স্পর্শ করেছেন। কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে দুটি স্বেচ্ছাসেবী দল সক্রিয়ভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু, জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশু, পথশিশু, অনাথ শিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশু, কিশোর ও তরুণদের সংগীত শিক্ষা দিচ্ছেন। তিনি শুধু স্থানীয় যুবকদের নয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন-এর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদেরও প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যাতে তারা শিশু শিক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে।
আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পিয়াল বলেন, ‘সংগীতের শক্তি ব্যবহার করে একটি টেকসই সামাজিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শিশু, কিশোর ও যুবকেরা মানসিকভাবে শক্তিশালী হবে, নেতৃত্ব শিখবে এবং সমাজের জন্য কাজ করবে।’
বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
- বিষয় :
- উদ্যোগ
