উদ্যোগ
প্রান্তিকে মানবিক যাত্রা যে সংগঠনের
প্রান্তিক মানুষের মাঝে নরিশের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা ছবি : সংগ্রহ
রুবেল মিয়া নাহিদ
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৬:৫১ | আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ | ১২:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার প্রান্তিক এক গ্রামে থাকেন শাহিদা বেগম। তিন সন্তানের মা তিনি। অসুস্থ স্বামী, অনিয়মিত দিনমজুরি আর প্রতিদিনের অভাব–এই তিন বাস্তবতার মধ্যেই চলে সংসার। অনেক রাত গেছে, হাঁড়িতে ভাত ওঠেনি। সন্তানের ক্ষুধার্ত মুখের দিকে তাকিয়ে বুকের ভেতর অসহায় কান্না চেপে রাখতে হয়েছে তাকে। এই কঠিন সময়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে শাহিদা বেগমের হাতে পৌঁছে যায় নরিশ বাংলাদেশের খাদ্যসহায়তা। চাল, ডাল, তেল, লবণসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সেই প্যাকেট তার পরিবারের কাছে কেবল খাবারই ছিল না; যেন অন্ধকার ঘরে হঠাৎ জ্বলে ওঠা এক টুকরো আলো।
‘সেদিন বাচ্চাগুলা পেট ভরে ভাত খাইছিল’, চোখভেজা কণ্ঠে বলেন শাহিদা বেগম। ছোট বাক্য কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে ক্ষুধা, কষ্ট, স্বস্তি আর মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়ানোর গল্প!
শাহিদা বেগমের মতো দেশের প্রান্তিক বহু পরিবার এখনও প্রতিদিন লড়াই করে এক বেলার খাবারের নিশ্চয়তার জন্য। কারও ঘরে অসুস্থ উপার্জনক্ষম মানুষ, কারও আয় অনিয়মিত, কারও পরিবারে শিশুর সংখ্যা বেশি। এই পরিবারগুলোর কাছে খাদ্য সহায়তা শুধু সাময়িক ত্রাণ নয়, এটি বেঁচে থাকার সাহস, আগামী দিনের ভরসা।
এই বাস্তবতার মাঝেই নীরবে কাজ করে যাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ নরিশ বাংলাদেশ। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়, যখন দেশের বহু মানুষ কাজ হারিয়ে খাদ্য সংকটে পড়ে, তখন প্রবাসে থাকা কিছু তরুণ-তরুণী মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে শুরু করেন এই উদ্যোগ। তাদের লক্ষ্য ছিল সহজ কিন্তু গভীর, দেশের দরিদ্রতম মানুষের কাছে খাদ্য ও মৌলিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। নরিশ বাংলাদেশের কার্যক্রমের বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ধারাবাহিকতা। বড় প্রচারণা বা প্রদর্শনের বদলে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সরাসরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার এই প্রক্রিয়াই প্রবাসী দাতাদের আস্থা তৈরি করেছে।
নরিশ বাংলাদেশের কার্যক্রম এবং আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে এর প্রতিষ্ঠাতা ফারেস ভূঁইয়া বলেন, ‘হাজারো মানুষের নীরব মানবিক বিপ্লবেরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ নরিশ। এখানে প্রতিটি খাদ্য প্যাকেট শুধু সহায়তা নয়, প্রতিটি উদ্যোগ শুধু দান নয়, বরং মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার প্রমাণ। এই ছোট ছোট কাজ আমরা আগামীতে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে চাই।’
- বিষয় :
- উদ্যোগ
