ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

উদ্যোগ

আড়ালে থাকা ​মানবিক পাঠশালার এক শিক্ষক

আড়ালে থাকা ​মানবিক পাঠশালার এক শিক্ষক
×

বৃদ্ধাশ্রমে ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে এভাবেই খাবার তুলে দেন সৈয়দ মঞ্জুর-এ-খোদা - ছবি : সংগ্রহ

রুবেল মিয়া নাহিদ

প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬ | ০৭:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

সময়টা আত্মপ্রচারের। সামান্য কাজ করেই সামাজিক মাধ্যমে ঢাকঢোল পেটানোর প্রতিযোগিতায় যখন মেতে আছেন অনেকে, ঠিক তখন উল্টো চিত্রও দেখা যায়। সমাজে এমন কিছু মানুষ আছেন যারা সম্পূর্ণ স্রোতের বিপরীতে হাঁটেন। প্রচারের আলো থেকে বহুদূরে নিজেকে নীরবে-নিভৃতে রেখে সমাজের অবহেলিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য কাজ করে যান একাগ্রচিত্তে। তেমনই একজন অনুকরণীয় সৈয়দ এ.এফ.এম মঞ্জুর-এ-খোদা; যিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, মেধা ও মনন দিয়ে সমাজকে আলোকিত করছেন, আবার অন্যদিকে নিজের সর্বস্ব দিয়ে আর্তমানবতার সেবা করে যাচ্ছেন। অথচ বরাবরই  তিনি প্রচারবিমুখ।

​অনুপ্রেরণায় বাবা-মা: মানুষের মানবিক বোধ গড়ে ওঠার পেছনে থাকে পারিবারিক শিক্ষা। সৈয়দ মঞ্জুর-এ-খোদারও মানবিক কাজের পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা। শৈশব থেকেই বাবা-মার আদর্শ, পরোপকারী মানসিকতা এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা তাঁর জীবনকে গভীরভাবে উপলব্ধি করতে শিখিয়েছে। মূলত বাবা-মার দেখানো পথ এবং তাঁদের দেওয়া আদর্শিক অনুপ্রেরণাকে ধারণ করেই তিনি আজীবন মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

​জীবসেবা ও অনুরাগ 
​সৈয়দ মঞ্জুর-এ-খোদার সকালটা শুরু হয় এক অভূতপূর্ব মানবিক দৃশ্যের মধ্য দিয়ে। রোজ বাসার ছাদে আসে অসংখ্য জালালি কবুতর। তিনি পরম মমতায় তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। তাঁর এই ছাদ যেন এক টুকরো শান্তির নীড়, যেখানে প্রতিনিয়ত জীবসেবার এক অনন্য নজির স্থাপিত হচ্ছে।
​সমাজ সংস্কার ও তরুণ্যের জয়গান 
​তরুণদের সেবামূলক মানসিকতা গড়ে তুলতে  প্রতিষ্ঠা করেন যুব সংগঠন। সংগঠনের প্রধান হিসেবে তিনি যুবসমাজকে রক্তদান, দুর্যোগ মোকাবিলাসহ নানা সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমে নিয়োজিত রেখেছেন। তাঁর দিকনির্দেশনায় একঝাঁক তরুণ আজ দেশের সেবায় নিজেদের উৎসর্গ করছেন।

​মানবসেবার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
​সমাজ ও দেশের যেকোনো সংকট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৈয়দ মঞ্জুর-এ-খোদার হাত সবার আগে প্রসারিত হয়। দেশের যেকোনো প্রান্তে দুর্যোগ দেখা দিলে তিনি দ্রুত ত্রাণ ও সাহায্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এছাড়াও তাঁর মানবিক কার্যক্রমের পরিধি বহুদূর বিস্তৃত। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বৃদ্ধাশ্রম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে তিনি পুষ্টিকর খাবারের আয়োজন করে থাকেন। ​শিক্ষার প্রতি অনুরাগ থেকে প্রতি বছর তিনি অগণিত দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বিনামূল্যে শিক্ষা সরঞ্জাম–বই, খাতা, কলম ইত্যাদি বিতরণ করেন, যা অনেক শিশুর শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া রোধ করছে।
​মানুষের কল্যাণে: ​বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সমাজসেবা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ​সৈয়দ মঞ্জুর-এ-খোদা বলেন, ‘আসল সেবা সেটিই, যা গোপনে করা হয়। মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগগুলো মূলত সেবারই অংশ। এসব উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকুক, এটিই আমার চাওয়া!’ 

আরও পড়ুন

×