উদ্যোগ
প্রত্যন্ত গ্রামে শিশুদের ঈদ রাঙানো উদ্যোগ
গ্রামের মাদ্রাসার শিশুদের ঈদ রাঙিয়ে তোলা নরিশ বাংলাদেশের উদ্যোগ ছবি : সংগ্রহ
রুবেল মিয়া নাহিদ
প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬ | ০৬:৫৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
রংপুরের কুতুবিয়া নূরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের নূরানি বিভাগের ছোট্ট শিশু রাফি। ঈদের সকাল তার কাছেও আসে। কিন্তু নতুন পোশাক, উৎসবের খাবার বা পারিবারিক উচ্ছ্বাস তার জীবনে ধরা দেয় না। বাবা হারানোর পর মায়ের সংগ্রামী জীবনে ঈদ মানে কেবলই বেদনার একটি দিন। তবে এবারের ঈদ তার কাছে ঈদ হিসেবেই ধরা দিল।
শুধু রাফি নয়, এমন অসংখ্য এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মুখে ঈদের হাসি ফোটাতেই এবার মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসে নরিশ বাংলাদেশ। রংপুরের বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে দুপুরের খাবারের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশেষ মানবিক আয়োজন করে নরিশ বাংলাদেশ। সেই আয়োজনে শিশুদের পরিবেশন করা হয় কাচ্চি বিরিয়ানি। খাবারের টেবিলে বসে তাদের উচ্ছ্বাস, হাসি আর নির্ভার আনন্দ যেন ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে।
এক প্লেট খাবার শুধু ক্ষুধা মেটায়নি; বরং সেই মুহূর্তে তা হয়ে উঠেছিল ভালোবাসা আর আপন করে নেওয়ার অনন্য অনুভূতি। শিশুদের সেই হাসি আর আনন্দঘন মুহূর্ত যেন বলে দেয়, ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল পাওয়ায় নয়, বরং ভাগ করে নেওয়াতে নিহিত!
এই মানবিক উদ্যোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না নরিশ বাংলাদেশের ঈদ কার্যক্রম। ঈদুল আজহার পবিত্র শিক্ষা– ত্যাগ, সহমর্মিতা ও ভাগাভাগির বার্তা পৌঁছে দিতে দেশজুড়ে পরিচালিত হয় নরিশ বাংলাদেশ কোরবানি প্রোগ্রাম-২০২৬। এ বছর সংগঠনের উদ্যোগে চারটি গরু ও ১৮টি ছাগল কোরবানি করা হয়। পরে সেই কোরবানির মাংস দেশের বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুস্থ, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়। অনেক পরিবারের কাছে এটি ছিল বছরের একমাত্র ঈদের মাংস পাওয়ার মুহূর্ত, যা তাদের জীবনে এনে দেয় অপ্রত্যাশিত আনন্দ ও স্বস্তি।
রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বিধবা রহিমা বেগম বলেন, ‘বহু বছর পর এবার ঈদের দিনে আমার ঘরে মাংস এলো।’
এমন অসংখ্য পরিবারে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেয় নরিশ বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবীরা। উত্তরবঙ্গে নরিশ বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবক মো. মুহতাসিম আবশাদ জিসানের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু সহায়তা পৌঁছে দেওয়া নয়; মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের অনুভব করানো– তারা একা নয়। শিশুদের হাসি এবং অসহায় মানুষের কৃতজ্ঞতাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন।’
নরিশ বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ফারেস ভূঁইয়া বলেন, ‘ঈদের প্রকৃত শিক্ষা ত্যাগ ও ভাগ করে নেওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করতে পারলেই উৎসবের পূর্ণতা আসে। এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো ও অসহায় পরিবারের ঘরে কোরবানির মাংস পৌঁছে দিতে পারা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।’
এক প্লেট খাবার, সামান্য কিছু কোরবানির মাংস হয়তো সাধারণ মনে হয়। কিন্তু যাদের জীবনে অভাব নিত্যসঙ্গী, তাদের কাছে এটাই ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ। সেই আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েই নরিশ বাংলাদেশ আবার প্রমাণ করেছে– মানবতার সবচেয়ে সুন্দর রূপ হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো!
- বিষয় :
- উদ্যোগ