ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিউশনির টাকায় গাছ লাগানো তরুণ

টিউশনির টাকায় গাছ লাগানো তরুণ
×

মুখে অক্সিজেন মাস্ক, হাতে গাছ এবং প্ল্যাকার্ড হাতে মো. এনামুল হক ছবি : সংগ্রহ

মো. হারুন মিয়া 

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

চারদিকে গাছ কাটা ও বন উজাড়ের ফলে পশু-পাখিদের আশ্রয়স্থল সংকুচিত হচ্ছে। মানুষ গাছ লাগায় না শুধু কাটে; এমন চিন্তাভাবনা থেকে মো. এনামুল হক গাছ লাগানো শুরু করেন। মানুষকে সচেতন করতে মুখে অক্সিজেন মাস্ক পরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে থাকেন। নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নোয়াদিয়া গ্রামের এই তরুণের বাবা কৃষক আর মা গৃহিণী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে এনামুল চতুর্থ। অভাবে বেড়ে ওঠা এনামুলের গাছ পালার প্রতি মায়া শৈশব থেকে। ২০১৫ সালে রওশন ইজদানি একাডেমি হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৭ সালে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ ফাইভ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি। এরপর ভর্তি হন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ডইঞ্জিনিয়ারিংয়ে। স্নাতক শেষ করে বর্তমানে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে নিজ উদ্যোগে গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় বৃক্ষ রোপণ শুরু করেন এনামুল। টিউশনির টাকায় গাছের চারা কেনেন। 

‘গাছ বাঁচান, প্রকৃতি বাঁচান, প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচবো’ স্লোগানকে ধারণ করে তিনি নিয়মিত বৃক্ষ রোপণ করছেন। এই পর্যন্ত কুমিল্লা, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ এবং কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৫ হাজার গাছ লাগিয়েছেন। 

এনামুলের ব্যতিক্রমধর্মী একটি বিষয় সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। তিনি স্কুল-কলেজের সামনে এক হাতে গাছের চারা এবং মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন; যাতে শিক্ষার্থীরা গাছের গুরুত্ব প্রকৃতিতে কতটা তা বুঝতে পারেন। এনামুল তাঁর নিজ এলাকার এবং পরিচিতজনদের মধ্যে কারও মৃত্যু হলে এবং কেউ জন্ম গ্রহণ করলে তাঁর নামেও বৃক্ষ রোপণ করেন। 
তাঁর এমন আচরণে অনেকে হাসিঠাট্টা করলেও তিনি এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন এবং মানুষকে গাছের গুরুত্বের কথা বোঝাতে থাকেন। মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে এবং গাছের অপরিসীম গুরুত্ব তুলে ধরতে এনামুল সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুক পেইজ খোলেন। বর্তমানে তাঁর আইডি এবং পেইজ মিলিয়ে ৬০ হাজারের বেশি অনুসারী। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হয়ে অনেকেই তাঁকে এখন ‘গ্রিনম্যান এনামুল’ নামে ডাকেন। এমন উদ্যোগ কেন নিলেন? জানতে চাইলে এনামুল হক বলেন, ‘আগামী প্রজন্মের জন্য অক্সিজেন, বিশুদ্ধ বাতাস, ছায়া, ফলমূলের উৎস, তাপমাত্রা কমাতে এবং বাংলাদেশকে সবুজায়নের স্বপ্ন নিয়ে এই উদ্যোগ নিয়েছি। আমি আমার নিজের জন্য গাছ লাগাই না। আমি লাগাই প্রকৃতি রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য। যখন রাস্তায় দাঁড়াই বৃক্ষরোপণের প্রচারের জন্য মানুষ আমায় পাগল বলে ও হাসে। অনেকে ভিক্ষুকও মনে করে। তাতে আমার বিন্দু পরিমাণ কষ্ট নেই। আসুন, আমরা পশু-পাখির কথাও একটু চিন্তা করি। পলিথিন ব্যবহার কমিয়ে সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি!’ u

আরও পড়ুন

×