নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খাচ্ছেন?
রাগ নিয়ন্ত্রণ কিংবা ঘুমের জন্য ওষুধের ওপর নির্ভর করবেন না... মডেল: মৌ, বর্ষা ও অনিক; ছবি: সাহস
ইয়াসিন মাসুম
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫১
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঘুমের ওষুধ কেবলই মানুষকে ঘুমিয়ে থাকতে সাহায্য করে না বরং বিপজ্জনক মাতলামিতেও ঠেলে দেয়। ‘এমন জটিল আচরণ যেমন ঘুমের মধ্যে গাড়ি চালানো রোগীদের সঙ্গে সঙ্গে অন্যদের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে।’ এ কথা বলেছেন রাসেল ক্লাটগ নামে একজন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক। তিনি আবার আমেরিকার ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এরও প্রধান।
অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া: এ ছাড়াও ঘুমের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া। এর ফলে মুখের ভেতর শুকিয়েও যায়। এসবই এর ছোটোখাটো প্রতিক্রিয়া। তীব্র অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়ায় দম বন্ধ হয়ে আসা থেকে শুরু করে গুরুতর শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কঠিন সতর্কতা: স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির জন্য সব ঘুমের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা সিগারেটের প্যাকেটের মতো করে এই ওষুধের গায়েও পরিষ্কার করে লেখার কথা সুপারিশ করেছিল আমেরিকার ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’। সব তথ্য যাচাই-বাছাই করে তারা এমন সুপারিশ করেছিলেন। এ ছাড়াও ওষুধ প্রস্তুতকারীদের বলা হয়েছিল–স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের চিঠি দিয়ে ঘুমের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জানাতে। ঘুমের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথাও ওষুধ বিক্রির আগে রোগীদের জানিয়ে দিতে। তা ছাড়া ওষুধ কোম্পানিগুলোকে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর ক্ষেত্রে গবেষণায় মন দিতে।
পূর্ব সতর্কতা: এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার পর যখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন তখন শুরুতে আপনি চিকিৎসককে আপনার যে কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগের কথা জানান। ওষুধ নেওয়ার আগে ওষুধ প্রয়োগ সম্পর্কিত নির্দেশিকাটি পড়ে নিন। ওষুধের মাত্রা বাড়ানো-কমানোয় অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ থাকা জরুরি। নেশা জাতীয় কোনো ওষুধ নিলে তাও পরিত্যাগ করুন। আর হুটহাট করে যেমন এটি খাওয়া যাবে না, তেমনি কোনো ব্রেক ছাড়া বন্ধও করা যাবে না। সব কিছুতেই চিকিৎসকের পরামর্শ থাকা চাই।
ভালো ঘুমের জন্য করণীয়: প্রতিদিন রুটিন করে একই সময় ঘুমান ও ঘুম থেকে উঠুন। ঘুমের দু’ঘণ্টা আগে ব্যায়াম করা যাবে না। খেয়ে ঘুমানো যাবে না। দুপুর ৩টার পর ঘুমাবেন না। অন্ধকার, খুব ঠান্ডা বা অনেক গরম এমন জায়গায় ঘুমাবেন না। শোয়ার ২০ মিনিটে যদি ঘুম না আসে তবে উঠে এমন কিছু করুন যাতে ঘুম আসে। আর ঘুমের ২০ মিনিট আগে সব ছেড়ে ছুড়ে রিলাক্সড হয়ে যান।
সুস্থ থাকতে যতটুকু ঘুম চাই: প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। তবে এই ঘুমটা রাতে হলে ভালো। অর্থাৎ দিনের ঘুম এড়িয়ে চলুন। এভাবে চালিয়ে যান ঘুমের রুটিন। এতে করে আপনার দুশ্চিন্তা আর ঘুমের ভৌতিক রোগ আশা করি সেরে যাবে সহজে! u
- বিষয় :
- রাগ নিয়ন্ত্রণ