বিদ্রোহের চেতনায় নাট্যোৎসব
আগামী ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ হবে শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সৈয়দ জামিল আহমেদ নির্দেশিত নাটক ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ - সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৯:৩৩ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:০৮
নাটককেন্দ্রিক কর্মশালা, নাট্যোৎসব ও প্যারা থিয়েটার– এই ত্রয়ীর সমন্বয়ে গত ৮ আগস্ট শুরু হয় স্পর্ধা ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভের দেড় মাসব্যাপী নাট্যোৎসব।
২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সৈয়দ জামিল আহমেদের নির্দেশনায় শহীদুল জহিরের উপন্যাস অবলম্বনে ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ মঞ্চস্থ করার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে স্পর্ধা ইনডিপেনডেন্ট থিয়েটার কালেকটিভ। স্পর্ধা নির্মাণ করছে সংস্কৃতির মুক্তির উচ্চারণ, নতুন প্রজন্মের আত্মাঙ্ক্ষা বহিঃপ্রকাশের চিত্র।
শুরু থেকে এই দলটি এক অন্তর্গত প্রগাঢ় সংস্কৃতি অন্বেষার মাধ্যমে মঞ্চে তুলে এনেছে ৪.৪৮ মন্ত্রাস, বিস্ময়কর সবকিছু, আমি বীরাঙ্গনা বলছি, তবুও জেগে উঠির মতো বুদ্ধিবৃত্তিক ও নান্দনিক নাট্য প্রযোজনা।
এ বছর দলটির সাত বছর পূর্তি সামনে রেখে আয়োজিত হচ্ছে দেড় মাসব্যাপী নাট্যোৎসব ‘উৎসবে স্পর্ধা: বিদ্রোহের চেতনায় দিন প্রতিদিন’। তিনটি পর্বে বিভক্ত এই উৎসবের সূচনা, প্রণোদনা ও পরিপূর্ণতায় রয়েছে প্রতিবাদী চেতনার নাট্যভাষা, নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতার উন্মোচন এবং থিয়েটার চর্চার এক বিকল্প অন্বেষণ।
উৎসবের সূচনা হয় ‘পূর্বরঙ্গ পর্বে’র মাধ্যমে, যা মূলত পাঁচটি ভিন্নধর্মী কর্মশালার এক সৃজনী মেলবন্ধন। স্পর্ধার তরুণ সদস্যদের পরিচালনায় আয়োজিত এ কর্মশালাগুলো সিনেমাটোগ্রাফি, চিত্রনাট্য, সেট ডিজাইন ও ইনস্টলেশন আর্টের মতো বিষয় নিয়ে আয়োজিত হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর শুরু হবে উৎসবের দ্বিতীয় পর্ব ‘উত্তাল তরঙ্গ’। এখানে প্রদর্শিত হবে তিনটি নাটক। ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা এবং সন্ধ্যা ৭টায় শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে সৈয়দ জামিল আহমেদ নির্দেশিত ‘আমি বীরাঙ্গনা বলছি’ নাটক। ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা, ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা এবং সন্ধ্যা ৭টায় একই হলে মঞ্চস্থ হবে মহসিনা আক্তার নির্দেশিত নাটক ‘তবুও জেগে উঠি’।
১২ সেপ্টেম্বর বাতিঘর আর্ট স্পেসে সৈয়দ জামিল আহমেদের নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হবে ব্রিটিশ নাট্যকার ডানকান ম্যাকমিলানের ‘এভরি ব্রিলিয়ান্ট থিং’ নাটক অবলম্বনে ‘বিস্ময়কর সবকিছু’। নাটকে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অন্তর্লীন যাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এই পর্বে আরও থাকবে চারটি কর্মশালা এবং একটি বাহাস। যেখানে থিয়েটারবিষয়ক মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে প্রসারিত হবে নাট্যবোধ।
উৎসবের শেষাংশ ‘অন্তিম ভাটি’ যেন থিয়েটার থেকে প্রকৃতির দিকে অভিযাত্রা। এই পর্বে আয়োজন করা হয়েছে ‘ট্রেকিং অভিজ্ঞতাজাত প্যারাথিয়েটার’।
