অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বললেন
‘সাম্যবাদী’ কবিতার শত বছরেও প্রতিষ্ঠা পায়নি সাম্যের আদর্শ
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৫ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানুষের ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে তার মানবিক মর্যাদা ও অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। অথচ তাঁর ‘সাম্যবাদী’ কবিতা রচনার এক শতাব্দী পরও সমাজে বৈষম্য রয়ে গেছে, প্রতিষ্ঠা পায়নি সাম্যের আদর্শ। নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের প্রভাব সমাজে যথাযথভাবে প্রতিফলিত না হওয়াকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলা একাডেমির শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে নজরুল চর্চা কেন্দ্র-বাঁশরী আয়োজিত আলোচনা, আবৃত্তি ও সংগীতানুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আনু মুহাম্মদ।
আলোচনা পর্বের পাশাপাশি ছিল কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনা। বাঁশরীর শিল্পীরা ‘জয় হোক’ গান পরিবেশন করেন। এ ছাড়া ‘ঈশ্বর’, ‘নারী’, ‘কুলি-মজুর’, ‘মানুষ’, ‘পাপ’সহ নজরুলের ১১টি কবিতা আবৃত্তি করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী টিটু মুন্সী।
নজরুলের সাহিত্যকর্মের বহুমাত্রিকতা তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, সাম্যবাদী কবিতা রচনার পাশাপাশি হামদ, নাত ও গজলও লিখেছেন কবি। মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁর সৃষ্টিতে এই বৈচিত্র্য এনেছে। অথচ বর্তমান পৃথিবীতে মানুষের পরিচয় ও মর্যাদার চেয়ে হিন্দু-মুসলমান বিভাজন নিয়ে আলোচনা বেশি হচ্ছে। ‘সাম্যবাদী’ কবিতা রচনার ১০০ বছর পরও এমন পরিস্থিতি বেদনাদায়ক।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, জীবদ্দশায় নজরুলের লেখা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল, তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছে। কারাগারে থেকেও তিনি লেখালেখি বন্ধ করেননি। দেশের নানা প্রতিবাদ ও আন্দোলনে নজরুলের সাহিত্য প্রেরণা জুগিয়েছে। কিন্তু তাঁর চিন্তা ও সৃষ্টিকে পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়ন করা হয় না। ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ নজরুলকে সামগ্রিকভাবে উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। আজ কবি বেঁচে থাকলে তাঁর বক্তব্যের কারণে কী সমালোচনা বা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো, এমনকি মৃত্যুর পর তাঁর দাফন নিয়েও প্রশ্ন উঠত কিনা– সেই আশঙ্কার কথাও বলেন আনু মুহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন নজরুল চর্চা কেন্দ্র-বাঁশরীর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, নজরুল চর্চা করতে গিয়ে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। তারপরও কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন নজরুলের কবরে ফুল দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের কাছে নজরুলের চেতনা ধারণ করা শুধু বার্ষিক কোনো আয়োজনের বিষয় নয়, প্রতিদিনের চর্চার অংশ।
- বিষয় :
- সংস্কৃতি