ঢাকায় ‘লালন সন্ধ্যা’
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে গতকাল শনিবার গান পরিবেশন করে ব্যান্ড ‘লালন’ সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
ধর্ম, জাত কিংবা সামাজিক বিভাজনের বাইরে মানুষ যে এক অভিন্ন সত্তা, সেই দর্শনই বারবার ফিরে এসেছে ফকির লালন শাহের গানে। সময় বদলেছে, সংগীতের পরিবেশনাতেও এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু লালনের গানের মানবতাবাদী আবেদন আজও অমলিন।
সেই দর্শন ও সুরের উত্তরাধিকারকে ঘিরে গতকাল শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বসেছিল ‘লালন সন্ধ্যা ২০২৬’।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (আইজিসিসি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাউল গান, বাঁশির সুর, লালনগীতির সমবেত পরিবেশনা এবং আধুনিক সংগীতায়োজনের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় ফকির লালন শাহের কালজয়ী সৃষ্টি ও দর্শনের নানা দিক। লোকজ ঐতিহ্য থেকে সমকালীন সংগীতের ভাষায় লালনের গান কীভাবে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, পরিবেশনাগুলোতে ছিল তারই প্রতিফলন। সাত শতাধিক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে মিলনায়তন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফকির লালন শাহকে মানবতার আলোকবর্তিকা হিসেবে অভিহিত করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর ভাষ্যে, ‘সমুদ্রে দিক হারানো কোনো জাহাজ যেমন পথ খুঁজতে আলোকস্তম্ভের দিকে তাকায়, লালনও তেমনি মানবতার পথ দেখান।’
সন্ধ্যার শুরুতেই মঞ্চে ওঠে বাংলাদেশের বাউলশিল্পী শফি মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন একটি দল। লালন শাহের মরমি দর্শনে নিবেদিত এই শিল্পীদের পরিবেশনায় উঠে আসে বাংলার গ্রামীণ বাউল ঐতিহ্যের আধ্যাত্মিক আবেদন। লোকজ সুর ও দরদমাখা কণ্ঠে পরিবেশিত গানগুলো দিয়ে তৈরি হয় সন্ধ্যার আবহ।
এরপর বাঁশির সুরে শ্রোতাদের অন্য এক সংগীতজগতে নিয়ে যান গাজী আবদুল হাকিম। প্রয়াত লোকসংগীতশিল্পী ও ‘লালনসম্রাজ্ঞী’ হিসেবে পরিচিত ফরিদা পারভীনের স্বামী গাজী আবদুল হাকিমের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান লোক ও ঐতিহ্যবাহী সংগীতের শিল্পী নাসরিন আক্তার বিউটি। ধ্রুপদি রাগের সুরের সঙ্গে বাংলা লোকসংগীতের মেলবন্ধনে তাদের পরিবেশনা শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
এরপর অচিন পাখি কালচারাল একাডেমির শিক্ষার্থীরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন লালনগীতি। একক কণ্ঠের বদলে দলীয় পরিবেশনায় লালনের গানগুলো নতুন মাত্রা পায়। তরুণ শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে মরমি এই গান মনে করিয়ে দেয়, লালনের সৃষ্টি শুধু অতীতের কোনো সংগীত-সম্পদ নয়; বর্তমানেও তার চর্চা ও প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে।
সন্ধ্যার শেষ পর্বে মঞ্চে আসে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যান্ড ‘লালন’। নিগার সুলতানা সুমির নেতৃত্বে দলটি লালনগীতির চিরায়ত সুরের সঙ্গে সমকালীন সংগীতায়োজনের সমন্বয় ঘটায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সংসদ সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন ধারার শিল্পী, সাবেক রাষ্ট্রদূত, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, গবেষকসহ বিশিষ্টজন। শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী এবং ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনসের (আইসিসিআর) সাবেক বৃত্তিপ্রাপ্তরাও এতে অংশ নেন।
- বিষয় :
- লালন উৎসব