ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

৪৫ বছরে নিজেরা করি সংগঠন

‘প্রান্তিকের কল্পজগৎ’ প্রদর্শনীতে ভূমিহীন মানুষের শিল্পকর্ম

‘প্রান্তিকের কল্পজগৎ’ প্রদর্শনীতে  ভূমিহীন মানুষের শিল্পকর্ম
×
×

ছবি-সংগৃহীত

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:২৮ | আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ১১:১০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ভূমি নেই, তবু ভূমি ঘিরে আছে জীবনের কত গল্প, শ্রমের স্মৃতি, অধিকার আদায়ের লড়াই আর আগামীর স্বপ্ন! সেই গল্প ও কল্পনারই প্রকাশ ঘটেছে শিল্পকর্মে। ভূমিহীন মানুষের নিজেদের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে বেঙ্গল শিল্পালয়ে শুরু হয়েছে ‘প্রান্তিকের কল্পজগৎ’ শীর্ষক প্রদর্শনী।     

নিজেরা করি সংগঠনের ৪৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ প্রদর্শনীতে ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে কাজ করেছেন বৃত্ত আর্টস ট্রাস্টের শিল্পীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন চিত্রশিল্পী আবুল বারক আলভী ও খুলনার ভূমিহীন নেত্রী রাহেলা বেগম। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজন।

মাহবুবুর রহমানের কিউরেশনে আয়োজিত প্রদর্শনীটি প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রর্দশনীতে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বায়োস্কোপের আয়োজন।

প্রদর্শনীর কাজগুলো তৈরির পেছনে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জনপদের মানুষের জীবন ও অভিজ্ঞতা। খুলনার পাইকগাছা, নাটোরের বাগাতিপাড়া, নোয়াখালীর চরজব্বর এবং টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীর ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর সদস্যরা নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করেছেন নানা শিল্পমাধ্যমে। ছাপা কাপড়, অ্যাপ্লিকের কাজ ও সফ্ট স্কাল্পচারের মতো মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন ভূমি, শ্রম, দৈনন্দিন জীবনের আনন্দ এবং টিকে থাকার সংগ্রাম। 

এ প্রদর্শনীতে ভূমিহীন মানুষ শুধু শিল্পকর্মের বিষয় নন; তারা নিজেরাই সৃষ্টির অংশীদার। ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর সদস্য ও শহরের শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালায় ভাবনা ও শিল্পচর্চার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে কাজগুলো তৈরি হয়েছে। 

‘নিজেরা করি’ নামে ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত অধিকারভিত্তিক সংগঠনটির পথচলার সঙ্গেও এই আয়োজনের যোগ রয়েছে। নিজেদের অধিকার আদায়ে স্বনির্ভর ও স্বাধীন সংগঠন গড়ে তোলা এবং সম্মিলিতভাবে দাবি জানানোর সক্ষমতা তৈরিতে ভূমিহীন জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত করাই সংগঠনের কাজের লক্ষ্য।

নিজেরা করি মনে করে, ‘সাংস্কৃতিক চর্চা কেবল বিনোদন বা শিল্পের প্রকাশ নয়। গান, নাটক ও শিল্পের মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের জীবনকে প্রভাবিত করা সামাজিক ও অর্থনৈতিক শক্তিগুলো বুঝতে শেখে; বৈষম্যের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখতে পারে।’ প্রদর্শনীতেও ভূমি ও জীবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার প্রকাশ ঘটেছে।

২০২৫ সালের শেষ নাগাদ সংগঠনটির কর্মএলাকায় ভূমিহীন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল ১১ হাজার ৫৮৩টি দল। এসব দলের সদস্য সংখ্যা দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯১৭। এর মধ্যে নারী দল ছিল ছয় হাজার ৭৫৭টি। সম্মিলিত সংগঠন ও আন্দোলনের মাধ্যমে দলগুলো প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সরকারি ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নারীর অধিকার এগিয়ে নেওয়া এবং মৌলবাদকে চ্যালেঞ্জ করার লক্ষ্যে কাজ করে।

আরও পড়ুন

×