পুলিৎজার
দেশের গর্ব ফাহমিদা
ফাহমিদা আজিম
আশিক মুস্তাফা
প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২২ | ১৩:২৫
সাংবাদিকতায় নোবেলখ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার পেয়ে আবার বিশ্বদরবারে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন আরেক বাংলাদেশি। এবার মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার জিতে নিয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান চিত্র ও অলংকরণ শিল্পী ফাহমিদা আজিম। চীনের উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের কাহিনি নিয়ে তৈরি কমিকস্ট্রিপের জন্য দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এ পুরস্কার জিতেছেন তিনি।
ইলাস্ট্রেটেড রিপোর্টিং অ্যান্ড কমেন্টারি বিভাগে ২০২২ সালের জন্য ফাহমিদার সঙ্গে পুরস্কার জেতেন মার্কিন গণমাধ্যম দ্য বিজনেস ইনসাইডারের অ্যান্থনি ডেল কোল, জশ অ্যাডামস এবং ওয়াল্ট হিকি। সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত- 'হাউ আই এসকেপড আ চায়নিজ ইন্টার্নমেন্ট ক্যাম্প' বা 'যেভাবে চীনা বন্দিশিবির থেকে পালিয়ে এসেছি' শীর্ষক কমিকস্ট্রিপের জন্য তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়। চীনের উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতন ও জুমরাত দাউত নামের এক মুসলিম নারীর চীনা ক্যাম্প থেকে পালানোর গল্প কার্টুনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এই কমিকস্ট্রিপে। সাংবাদিকতা ও প্রকাশনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রতিবছর পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হয়।
বিজনেস ইনসাইডার ও জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে দেওয়া জুমরাতের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে মূলত কমিকস্ট্রিপটি তৈরি করা হয়েছে। এর কার্টুনগুলো এঁকেছেন ফাহমিদা। গত ডিসেম্বরে ইনসাইডারে তাঁদের কমিকস্ট্রিপ প্রকাশিত হয়। এই কমিকস্ট্রিপ সম্পর্কে পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ বলছে, তাঁরা উইঘুরদের ওপর চীনা নিপীড়নের একটি শক্তিশালী ও অন্তরঙ্গ কাহিনি বলার জন্য গ্রাফিক রিপোর্ট ও কমিকস মাধ্যম ব্যবহার করে সমস্যাটিকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে গেছেন। রাজনৈতিক সূক্ষ্ণদৃষ্টি, সম্পাদকীয় দক্ষতা, জনসেবার মূল্য বহন করা এডিটোরিয়াল কার্টুন ও অন্যান্য আলংকারিক কাজের (স্টিল ছবি, অ্যানিমেশন বা উভয়ই) জন্য তাঁদের এ পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে। বিজয়ীরা পেয়েছেন ১৫ হাজার ডলার।
এর আগে ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো এক বাংলাদেশি পুলিৎজার পেয়েছিলেন। রয়টার্সের পাঁচ ফটো সাংবাদিকের সঙ্গে তখন এ সম্মান অর্জন করেন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী পনির হোসেন। তবে ফাহমিদা হচ্ছেন প্রথম কোনো বাংলাদেশি-আমেরিকান যিনি এ পুরস্কার পেলেন।
ফাহমিদা ছয় বছর বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় পাড়ি জমান। ভর্তি হন ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি স্কুল অব আর্টসে। সেখান থেকেই কমিউনিকেশন্স আর্টে স্নাতক করেন। লেখাপড়ার শুরু থেকেই তিনি চিত্রশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটনের সিয়াটলে স্থানীয় এক প্রতিষ্ঠানে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছেন।
মানুষের বিশেষ বৈচিত্র্যময় জীবন-যাপন তাঁর আগ্রহের বিষয়। সেই প্রতিপাদ্যকে কাজে লাগিয়ে তিনি আঁকেন এবং লেখালেখি করেন। এমনকি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মানুষদের খাদ্যাভাসকেও তিনি তাঁর লেখায় ও আঁকায় তুলে ধরেন। তাঁর চেতনায় সব সময় উজ্জীবিত থাকে মুসলিম নারীর অধিকার ও মর্যাদা। 
ফাহমিদা আজিম তাঁর 'সামিরা সার্ফ' বইয়ের অলঙ্করণের জন্য এ বছরই পেয়েছেন 'গোল্ডেন কাইট' পুরস্কার। ২০২০ সালে 'মুসলিম উইমেন আর এভরিথিংস' ও ২০২১ সালে 'আমিরার পিকশ্চার ডে' গ্রন্থের প্রচ্ছদের জন্যও পুরস্কার পেয়েছিলেন এ নারী। নিজের লেখা মুসলিম উইমেন আর এভরিথিংসহ বিভিন্ন বইয়ের ইলাস্ট্রেশনও করেছেন তিনি। বর্তমানে ওয়াশিংটনের সিয়াটলে বসবাস করছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের বইভিত্তিক অনলাইন হলিডে হাউসকে এক সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশব, প্রিয় বই ও বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা তথ্য দেন ফাহমিদা। বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস 'তোমাকে' খুঁজছেন। এই বইটি পড়ার খুব ইচ্ছে। কারণ বইটি তাঁর মায়েরও প্রিয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের খাবারসহ স্থানীয়দের কাছে অপরিচিত খাদ্যই তাঁকে বেশি আকৃষ্ট করে।
১৯১৭ সাল থেকে পুলিৎজার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সাংবাদিকতা, লেখালেখি ও আলোকচিত্রের জন্য ১৫টি বিভাগে এবং বই, নাটক ও সংগীতের জন্য সাত বিভাগসহ মোট ২২ বিভাগে এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এবারের পুরস্কার দেওয়া হয় গত মে মাসে। তবে ফাহমিদার বাংলাদেশি পরিচয়টি এতদিন অজানা ছিল।
