ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্মৃতিতে ‘লাল জুলাই’

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের স্মৃতিতে ‘লাল জুলাই’
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫ | ২২:৪২

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিতে ‘লাল জুলাই’ নিয়ে শিল্পকলা একাডেমিতে সেমিনার ও নাটক মঞ্চায়ন করা হয়েছে। ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ মাসব্যাপী রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার ছিল বিশেষ কর্মসূচি ‘লাল জুলাই’। 

এদিন দুপুর ১২টায় একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক আয়োজনে শুরু হয় দিনের কার্যক্রম। উদ্বোধন করেন শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের বাবা সাহরিয়া খান পলাশ ও মা সানজিদা খান দিপ্তী। উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ ওয়ারেছ হোসেনসহ বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক ও কর্মকর্তারা। এই আয়োজনে ২০ ফুট ব্যাসার্ধের একটি সাদা বৃত্তে আন্দোলনে শহীদ, আহত ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতিনিধিত্বে লাল রঙে হাতের ছাপ দেওয়া হয়, যা আন্দোলনের চেতনার প্রতীক হয়ে ওঠে।

শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়া খান পলাশ বলেন, আজকে লাল জুলাইয়ের এই কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে, এর পেছনে অনেক রক্ত ঝরেছে। এসব রক্ত পুরো দেশের মা-বাবার সন্তানদের, মা-বাবাদের। এই রক্তের কারণেই এইদিনে ফেসবুক প্রোফাইলটা সবাই লাল করেছিল।
বিকেল ৪টায় একাডেমির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় ‘জুলাই-২৪ এর গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কৃতির সংগ্রাম’ শীর্ষক সেমিনার। গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্য আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মফিজুর রহমান লালটু, সঞ্চালনা করেন জাকির হোসেন।

সেমিনারে আনু মুহাম্মদ বলেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশের মানুষ গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিল এবং জীবন দিয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকার তার বিপরীতে হাঁটছে। এ কারণে মানুষ নতুন করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে শ্রমজীবী মানুষের কোনো দাবি এ সরকার কর্ণপাত করছে না।

সাংবাদিক আবু সাঈদ খান বলেন, একটা সাম্প্রদায়িক দক্ষিণপন্থি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী সামনে আসার চেষ্টা করছে। বামপন্থি ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর ঐক্য আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরও বক্তব্য দেন দীপা দত্ত, দীনবন্ধু দাশ, সৈয়দ আবুল কালাম, কবি রঘু অভিজিৎ রায় প্রমুখ।

সন্ধ্যা ৭টায় জাতীয় নাট্যশালার মূল হলে মনসুন বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানকে উপজীব্য করে নির্মিত নাটক ‘রি-রিভোল্ট’ মঞ্চস্থ হয়। নাট্যরচনায় ও নির্দেশনায় ছিলেন নায়লা আজাদ, পরিবেশনায় ছিল ‘টিম কালার’। নাটকটিতে প্রতিবাদী সংগীত, হিপ-হপ, গ্রাফিতি, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে একুশ দিনের আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে অংশ নেন ২০ জনেরও বেশি তরুণ শিল্পী। কোরিওগ্রাফি করেন উম্মে হাবিবা ও সাগত মজুমদার।

নাটকটির সঙ্গে সম্পৃক্তরা জানান, ‘রি-রিভোল্ট’ নাটক হলো একুশ দিনের বিক্ষোভ ও সহিংসতা এবং পরবর্তী গণহত্যার রাস্তার শক্তির প্রতিনিধিত্বকারী নাটকীয় নৃত্য। যেহেতু আমরা কেবল রাস্তার ওপর মনোযোগ দিচ্ছি, তাই আমরা রাস্তার সংগীত এবং নৃত্য, র্যা প ও হিপ-হপ ব্যবহার করেছি। এগুলো প্রতিবাদের সবচেয়ে জরুরি, আপসহীন, নির্মমভাবে সৎ এবং গভীর কাব্যিক প্রকাশ।

আরও পড়ুন

×