ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

টক্সিক সম্পর্ক জীবনের জন্য হতে পারে নীরব বিষ

টক্সিক সম্পর্ক জীবনের জন্য হতে পারে নীরব বিষ
×

ফাইল ছবি

আফরিনা আক্তার

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৫ | ০০:৩৯ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৫ | ১৪:২১

‘কখনোই এমন কাউকে ভালোবাস না, যে তোমাকে সাধারণ মনে করে।’ –অস্কার ওয়াইল্ড

ভালোবাসা সব সম্পর্কের মহৌষধ হলেও সব ভালোবাসা বা সম্পর্ক নিরাপদ হয় না। কিছু ভালোবাসার গল্পে সুখের সন্ধান কেবলই কল্পনার দৃশ্যপটেই সীমাবদ্ধ থাকে। ভালোবাসা এমন এক অনুভূতি; যা প্রতিটি সম্পর্কে উদারতা, সহানুভূতি, কমনীয়তা, দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক মেলবন্ধন ও অন্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। কিন্তু কোনো সম্পর্কে ভালোবাসা যখন পারস্পরিক বোঝাপড়ার নামে অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা, সহানুভূতির পরিবর্তে অহংকার ও অবজ্ঞার জন্ম নেয়, সে সম্পর্ক তখন ধীরে ধীরে মধুরতা থেকে নীরব বিষে পরিণত হয়। 

যেভাবে চিনবেন সম্পর্কটি টক্সিক কিনা

ব্যক্তিভেদে সম্পর্কের ধরন ভিন্ন হয়, আবার সম্পর্কের সংজ্ঞাও একেকজনের কাছে একেক রকম। তবে আপনার সঙ্গী যদি প্রতিনিয়ত আপনাকে ছোট করে কথা বলে, সবার সামনে অসম্মান করে, যে কোনো কাজে জবাবদিহিতা চায়, নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, সব সময় আপনাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে তাহলে সেই সম্পর্ককে টক্সিক বলা যায়।

বেরিয়ে আসার উপায় 

সীমানা নির্ধারণ করুন: টক্সিক সম্পর্ক থেকে মানসিক প্রশান্তির প্রধান উপায় হলো সুস্পষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা এবং প্রয়োজনে সম্পর্ক থেকে সরে আসা। সম্পর্কে মাঝেমধ্যে খুঁটিনাটি ঝগড়া, মতভেদ বা অসন্তোষ দেখা দিতেই পারে, তা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু যখন দেখবেন এমন সমস্যা প্রায়ই পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং প্রতিবারই মাত্রাতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তখন তা প্রশ্রয় দেওয়া বা নীরবে মেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। নিজের মনকে শক্ত করুন এবং স্পষ্টভাবে সেসব ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ থেকে বিরত থাকুন। এটা শুধু ফোনকল, টেক্সট, ইমেইল বা সোশ্যাল মিডিয়ায় যোগাযোগ বন্ধ নয় বরং এটি সামগ্রিক বিচ্ছিন্নতাকে বোঝায়। 

আবেগ নিয়ন্ত্রণ করুন: একটি টক্সিক সম্পর্ক যদি টেনে নিয়ে যান ভবিষ্যতে হয়তো আপনাকে আরও কষ্ট দেবে; যা থেকে আপনি চাইলেও বের হয়ে আসতে পারবেন না। তাই আপনার দুঃখ, রাগ, অস্বস্তি বা বিভ্রান্তি যাই হোক না কেন তা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

নিজেকে সময় দিন: নিজের অনুভূতিগুলোর যত্ন নিন। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়াম করুন। নিজের যত্নে আলাদা করে সময় বের করুন এবং সেই সময়ই আপনার ভালো লাগার কাজগুলো করুন। যেমন– ছবি আঁকা, গান শোনা, বই পড়া, টিভি শো বা সিনেমা দেখা, ভ্রমণ করা ইত্যাদি। 

সুস্থ নেটওয়ার্ক তৈরি করুন: আপনার বিশ্বস্ত কোনো বন্ধু, মা-বাবা, ভাইবোন বা কাছের কেউ, যে কিনা আপনাকে সমর্থন করে এবং আপনার খেয়াল রাখে, তাদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন এবং তাদের সঙ্গে একটি যোগাযোগের নেটওয়ার্ক তৈরি করুন। নিজের অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করুন। তাহলে দেখবেন নিজের হতাশা এবং বিষণ্নতা অনেকটা কমে যাবে।

ইতিবাচক ভাবুন: টক্সিক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরই অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। অনেকেই নিজের সম্পর্কে একটা নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন; যা একদমই করা উচিত হবে না, বরং সেখান থেকে বেরিয়ে নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতন হোন এবং নিজেকে প্রস্তুত করুন। 

টক্সিক মানুষের আচরণ প্রসঙ্গে সরকারি তিতুমীর কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মোহা. সোলায়মান আলী বলেন, ‘টক্সিক মানুষের আচরণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তারা বেশিমাত্রায় স্বার্থপর হয় ও বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাই তাদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা মেইনটেইন করে চলতে হবে। সমঝোতামূলক আচরণ করতে হবে। যেহেতু তার সম্পর্কে আপনি জানেন তাই সে যে কোনো ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দেখালেও কাউন্টার প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি কেউ আপনার সঙ্গে প্রায়ই এ ধরনের আচরণ করেন, সম্ভব হলে এমন ব্যক্তি থেকে দূরে সরে যাওয়া উচিত।’ 

তার মতে, নিজের মানসিক শান্তির জন্য টক্সিক সম্পর্ক ছেড়ে দেওয়া দুর্বলতা নয়। ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমান, নিজেকে ব্যস্ত রাখুন পড়াশোনায় বা সৃজনশীল কাজে, নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন, সুস্থ সম্পর্কের দিকেই মনোনিবেশ করুন অথবা প্রয়োজনে কাউন্সেলিং গ্রহণ করুন।

আরও পড়ুন

×