ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

আন্তরিক কথা, সুন্দর আচরণ

আন্তরিক কথা, সুন্দর আচরণ
×

প্রথম সাক্ষাতে সঙ্গীর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন ছবি: শৈলী

আশিকা নিগার

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৬

কথা বলতে হয় খুব বুঝেশুনে। কেননা কথা আপনাকে যেমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে, তেমনি কথাই আপনাকে অন্যের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে। হোক বন্ধু, আত্মীয়, সঙ্গী কিংবা সদ্য পরিচিত কেউ–সবার সঙ্গে কথা বলার কায়দাটা আগে রপ্ত করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, একই ক্লাসে পড়াশোনা, কয়েক বছরের পরিচয়ের পর আলাদাভাবে দেখা করার মুহূর্ত যখন আসে, তখন অনেকে ঘাবড়ে যান। তখন কথা বলতে গিয়ে এমন কিছু ভুল করে ফেলেন, এত অবাঞ্ছিত কথা বলেন যা হিতে বিপরীত হয়ে যায়। যার সঙ্গে কথা বলবেন তিনি হয়তো আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ভাবনা নিজের মধ্যে পুষে রাখবেন। সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় কোথায় গিয়ে গড়াবে, তার ইঙ্গিত অনেকটা মিলতে পারে আপনার কথা বলার ধরন থেকেই। কথা বলার সময় ছোটখাটো ভুলের কারণেও মন কষাকষি হতে পারে। 
অতিরিক্ত আত্মপ্রশংসা
কথা বলার সময় কিছু আদবকেতা মানতে হবে। কথা বলতে বলতে অতিরিক্ত আত্মপ্রশংসা করা যাবে না। অনেকে মনে করেন নতুন কারও সঙ্গে দেখা হলেই নিজেকে জাহির করতে হবে। সবসময় যদি নিজেকে জাহির করার চেষ্টা করেন, তাহলে তা সামনে যিনি থাকেন তার বিরক্তির কারণ হতে পারে। যেমন, ‘আমি খুব জনপ্রিয়’, ‘আমার অনেক অর্জন আছে’ এসব কথায় আপনার আত্মবিশ্বাস নয়, বরং আত্মকেন্দ্রিকতা ফুটে ওঠে। পরিবর্তে গল্প হোক দুজনের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহ নিয়ে। 
অন্যের কথা না শোনা
সবাই সামনের মানুষটির কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে চান না। চান নিজেরটা বেশি করে বলতে। এটি ঠিক নয়। বন্ধু-জীবনসঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন কিংবা যেকোনো ব্যবসায়িক পার্টনারের সঙ্গে, কথা বলতে হবে সামনের মানুষকে গুরুত্ব দিয়ে। তার কথাও শুনতে হবে। হতে পারে তিনি তার জীবন নিয়ে ভাবনার কথা বলছেন, কিংবা তার কোনো সফলতা কিংবা ব্যর্থতার কথা বলছেন। সেগুলো শুনুন। ভালো শ্রোতা হয়ে উঠুন। নয়তো সামনের মানুষটির কাছে আপনি প্রিয় হয়ে উঠবেন না। 
অতি দ্রুত কথা বলা
সবসময় কথা বলতে হবে রয়েসয়ে। হড়বড় করে সব বলে ফেললেই হবে না। এতে সামনের মানুষটি হয়তো কিছুই বুঝবে না। এমনভাবে কথা বলতে হবে যেন বাক্য, শব্দ ভালো করে বোঝা যায়। সেইসঙ্গে আপনি কী বোঝাতে চেয়েছেন সেটিও যেন সঙ্গীর কাছে স্পষ্ট হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। প্রয়োজনে বাসায় নিজে নিজে ধীরে ধীরে কথা বলার অনুশীলন করুন।  
সীমালঙ্ঘনকারী প্রশ্ন
কারও সঙ্গে পরিচয়ের পর কখনোই শুরুতে  ‘বেতন কত?’, ‘প্রেম করো?’, ‘আগে কারও সঙ্গে সম্পর্কে ছিল?’–এসব প্রশ্ন করা যাবে না। এগুলো সামনের মানুষটির ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করে এবং তাঁকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলে। আলাপ হোক সাধারণ বিষয় বা কাজ, শখ, ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, বই বা সিনেমা নিয়ে। 
নিজেরটাই ঠিক
অনেকে নিজের ভাবনার বাইরে যেতে চান না। সবসময় ভাবেন তিনি যা ভাবছেন তাই সঠিক। এ ধরনের আচরণ ঠিক নয়। মানুষ মাত্রই ভুল। আপনারও ভুল হতে পারে–ভাবনা এমন রাখাই শ্রেয়। নয়তো অন্যের কাছে আপনি খুব প্রিয় হয়ে উঠতে পারবেন না। বরং আপনার সঙ্গে কথা বলে সামনের জন অস্বস্তিতে পড়বেন। 
বার বার মুখ স্পর্শ করা, আঙুল আঁকড়ে থাকা 
কারও সঙ্গে কথা বলার সময় যদি বার বার মুখে স্পর্শ করেন, যদি পা ক্রস করে দাঁড়ান কিংবা নিজের হাতের আঙুল আঁকড়ে থাকেন, তাহলে সেসব অভ্যাস বাদ দিন। এগুলো মূলত উদ্বেগ, নার্ভাসনেস, দ্বিধাগ্রস্ততা, চিন্তা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবে হয়ে থাকে। এগুলো হতাশা, মানসিক চাপ, উত্তেজনার লক্ষণও প্রকাশ করে। আবার, কথা বলার সময় আঙুল দিয়ে কোনোকিছুকে নির্দেশ করাকে অভদ্র ও আক্রমণাত্মক হিসেবে ধরা হয়। 
মোবাইল ফোনে ডুবে থাকা
এখন মানুষ এক মুহূর্তের জন্যও ফোন থেকে চোখ সরাতে চায় না। কারও সঙ্গে কথা বলার সময় যদি বার বার মোবাইল ক্রল করেন, তাঁর কথায় মনোযোগ না দেন, তাহলে তা শোভনীয় নয়। এতে সামনের ব্যক্তি বিভ্রান্তিতে পড়বেন। তাঁর কাছে মনে হবে আপনি তাঁকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। বার্তাটি স্পষ্ট যে আপনার মনোযোগ অন্য কোথাও। এটি কেবল অসম্মানজনক নয়, বরং সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দেহ তৈরি করে। এ কারণে কথা বলার সময় অকারণে মোবাইল স্ক্রল করা বন্ধ রাখুন। ফোন সাইলেন্ট রাখতে পারেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ কল এলে রিসিভ করুন। 
সহানুভূতিশীল না হওয়া 
কথা বলার সময় সামনের জনের ওপর সহানুভূতিশীল হোন। তাঁকে আঘাত করে কিংবা ছোট করে কথা না বলাই ভালো। কথার জাল পেঁচিয়ে তাঁকে হীনমন্যতায় না ফেলা-ই ভালো। বরং তিনি যেমনভাবে নিজের কথা বলতে চান ঠিক তা শুনুন। খেয়াল রাখবেন সামনের মানুষটি যেন আপনার সঙ্গে কথা বলে আরামবোধ করেন। 
সূত্র: ভেরি অয়েল মাইন্ড 
 

আরও পড়ুন

×