ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

গরমে স্কুলগামী শিশুর যত্ন

গরমে স্কুলগামী শিশুর যত্ন
×

গরমে সুস্থ থাকতে শিশুর পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি মডেল: পারিসা; ছবি: কাব্য

স্মৃতি চক্রবর্তী

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৭:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকার মিরপুরের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি (ছদ্মনাম) সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সকালের সমাবেশে দাঁড়িয়ে থাকার সময় মাথা ঘোরা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে জানা যায়, দীর্ঘ সময় রোদে থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান না করায় তার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছিল।
রাফির মা শারমিন আক্তার বলেন, ‘আগে বুঝতে পারিনি যে গরমে শিশুর এত বেশি পানি প্রয়োজন হয়। এখন স্কুলে যাওয়ার আগে পানির বোতল ও হালকা খাবার দিতে ভুল করি না।’ এ ধরনের ঘটনা এখন অনেক পরিবারেই দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু দূর থেকে হেঁটে বা দীর্ঘ সময় যানজটে থেকে বিদ্যালয়ে যায়, গরমে তাদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি আরও বেশি।
দেশজুড়ে চলমান তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে স্কুলগামী শিশুরা। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হলেও গরমের তীব্রতা কমছে না। প্রচণ্ড রোদ, অতিরিক্ত ঘাম, পানিশূন্যতা এবং হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যা শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘শিশুর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা বড়দের তুলনায় কম। ফলে তারা দ্রুত পানিশূন্যতা ও গরমজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান ও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা জরুরি।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক অভিভাবক পড়াশোনা ও খাবারের দিকে যত্নবান হলেও গরমে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। অথচ স্কুলে যাওয়ার আগে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি পান করানো, সঙ্গে বিশুদ্ধ পানির বোতল দেওয়া এবং অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। পাশাপাশি তরমুজ, বাঙ্গি, শসা ও ডাবের পানির মতো পানিসমৃদ্ধ খাবার শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে বিদ্যালয়ে দীর্ঘ সময় খোলা মাঠে কার্যক্রম পরিচালনা না করে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক কার্যক্রম বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুলের সময়টায় শিক্ষার্থীর মূল দায়িত্ব শ্রেণিশিক্ষকের। ফাস্ট ফুড জাতীয় খাবারের পরিবর্তে শিশুর হালকা খাবার খেতে উৎসাহ দেওয়া, শিশুর পোশাক-আশাকের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। বেশি ছোট শিশুদের ক্লাস রুমে বসিয়ে রাখা বেশ কষ্টকর। এই গরমে বিরতির সময় শিশুদের দৌড়ঝাঁপ করা থেকে বিরত রাখতে শিক্ষকদেরই উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের মধ্যে ক্লাসরুমে বসে বসেই ছড়া-কবিতা বা গল্পের আসর জমাতে কিংবা বসে খেলতে উৎসাহিত করতে হবে। 
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, গরমের মধ্যে শিশু বাসায় ফেরার পর সঙ্গে সঙ্গে অভিভাবকরা তাদের দ্রুত যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এজন্য যত দ্রুত সম্ভব, শিশুর পোশাক বদলে গায়ে-মাথার ঘাম মুছে দিন। পানি ও তরল খাবার দিন। তাদের ভালোভাবে গোসল করিয়ে দিন। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন। স্কুলের পোশাক, খাবারের বাটি, পানির বোতল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করুন। 
গরমের সময় শিশুর পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। স্কুলে যাওয়ার আগে বা বাড়িতে ফেরার পর শিশুকে সুতি ও হালকা রঙের পোশাক পরান। এ ধরনের পোশাক শরীরকে তুলনামূলক শীতল রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বাইরে বের হলে ছাতা বা ক্যাপ ব্যবহার করলে রোদের প্রভাব কিছুটা কমানো সম্ভব।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের শিশু-কিশোর ও পারিবারিক মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে শিশু বিরক্ত, অস্থির ও মনোযোগহীন হয়ে পড়তে পারে। এ সময় তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে সহানুভূতিশীল আচরণ করা প্রয়োজন।’ 

আরও পড়ুন

×