ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঘর সাজানোর নান্দনিক পণ্য

ঘর সাজানোর নান্দনিক পণ্য
×

ছোট ছোট উপকরণ দিয়ে ঘরে আনুন নান্দনিকতার ছোঁয়া

রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

নীড় ছোট? ক্ষতি নেই। ছোট ঘরটিই আকর্ষণীয় ও নান্দনিক করে সাজাতে পারেন। সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে সুসজ্জিত ঘরে ফিরে পেতে পারেন প্রশান্তি। আজকাল বাজারে ঘর সাজানোর শৌখিন জিনিসপত্রের দেখা মিলছে। ফেসবুক, রিলস ও শর্টসের কল্যাণে শৌখিন মানুষদের ঘর সাজানোর ভিডিও ঘুরেফিরে হোমপেজে আসছে। তাতে বেড়ে যাচ্ছে গৃহবধূদের ঘর সাজানোর নেশা। শুধু গৃহবধূ বললে ভুল হবে, শিক্ষার্থী, ব্যাচেলর নারী-পুরুষেরও ঝোঁক বেড়েছে। অনেকের মনে এ প্রশ্ন উঁকি দেয়–ঘর সাজাতে কি আসলেই অনেক টাকা লাগে? কোথায় গেলে কম দামের নান্দনিক পণ্য পাওয়া যাবে?
ঘর সাজাতে পারবেন বাজেটের মধ্যেই। বসার ঘর, শোবার ঘর, ঘরের কোণ, বেসিনের পাশের স্থানটি সাজাতে পারেন নিজের মনের মতো। কেবল জানতে হবে কোথায় কোন পণ্যটি রাখবেন সে বিষয়। কথা তা নয়। আগে বলি ঢাকার কোথায় গেলে পাবেন রুচিশীল ঘর সাজানোর হস্তপণ্য। ঘরের জন্য বাঁশ ও বেঁতের বিভিন্ন আকারের ট্রে, কাঠের আয়না, গুজরাটি সুতার বোনা আয়না, ল্যাম্পশেড, মাটির হাঁড়ি-পাতিল-ওয়ালমেটসহ নানান জিনিস, কাঠ ও মেটালের তৈরি বিভিন্ন শোপিস-স্যুভেনিয়র, পাটের তৈরি শিকা, ম্যাক্রম, ড্রিম ক্যাচার ইত্যাদি কিনতে চলে যেতে পারেন রাজধানীর দোয়েল চত্বরে। সেখানে ঘর সাজানোর এত বৈচিত্র্যপূর্ণ জিনিস রয়েছে, যা দেখলে আপনি বিস্মিত হবেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধরনের গাছ, প্লান্টার সেট, কৃত্রিম গাছ-ফুল, মাটি ও বিভিন্ন ধাতবের ফুলের টপ, বুলবুলি পাখির বাসা, রঙিন কুলা, মাটির পাত্র-সরা, উইন্ডচাইম, পুতুলসহ নানা পণ্য কিনতে পারবেন। সেসবের দামও হাতের নাগালে।  ৫০-১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫-৭ হাজার টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন বিভিন্ন পণ্য। দোয়েল চত্বর ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ ও বেতের ট্রের দাম ৩০০-৫০০ টাকার মধ্যে, ফুলের টবসহ শিকা ১৫০-২৫০ টাকা, ডেকোরেটিভ আয়না (ছোট-মাঝারি-বড়) ৩০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা, সাইকেল আকারের প্লান্টারসহ অন্যান্য প্লান্টারের দাম ৬০০-এক হাজার ৮০০ টাকা, বিভিন্ন ধরনের ল্যাম্পশেডের দাম এক হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকা।  
ঘর সাজানোর মনোরম জিনিস কিনতে ঢুঁ মারতে পারেন ধানমন্ডি ২৭-এর জয়িতায়। সেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হাতে তৈরি বিভিন্ন পণ্য পেয়ে যাবেন। ল্যাম্পশেড, খাঁচা, ওয়াল ডেকোর, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, ওয়াল স্টিকার, সিরামিক বা চিনামাটির জিনিসপত্র, কাঠ দিয়ে তৈরি শখের শিল্পকলা এবং কুরুশ বা সূচিকর্ম করা জিনিস পাওয়া যায় জয়িতায়। 
কম দামে ঘরের জন্য পণ্য কিনতে চলে যেতে পারেন ঢাকা কলেজের সামনে। সেখানে কিছু মাটির ওয়ালম্যাট, কবি-সাহিত্যিকদের প্রতিকৃতিসংবলিত মাটির ওয়ালম্যাট, ওয়াল ডেকোর, গাছের জন্য টব ছাড়াও বাঁশ ও বেতের জিনিস পাবেন। ধানমন্ডির আবাহনী মাঠের এদিকেও পেয়ে যাবেন গাছসহ কিছু পণ্য। মিরপুরের ২ নম্বর কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এবং মিরপুরের হার্ট ফাউন্ডেশনের সামনে কয়েকটি দোকান পাবেন, যেখানে পাবেন ঘর সাজানোর নান্দনিক পণ্য। দামও খুব চড়া নয়। তবে কেনার সময় দামাদামি করে কিনলে ঠকতে হবে না। 
মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ থেকে একটু সামনে এগোলেই পাবেন স্মার্ট হ্যান্ডিক্র্যাফটের দেখা। স্মার্ট হ্যান্ডিক্র্যাফটে বেশ কয়েক বছর ধরে ঘরের সব নান্দনিক পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে বাঁশ-বেতের সোফা থেকে শুরু করে স্টুল, দোলনা, ম্যাক্রম, উইন্ড চাইম, মাটি-বাঁশ-বেঁতের ট্রে, বিভিন্ন আকার ও শেডের আয়না, ওয়াল হ্যাঙ্গিং, ওয়াল বুকশেলফ, কর্নার বুকশেলফ, আরামদায়ক চেয়ার, বাবুই পাখির বাসা, প্লান্টার সেট, কৃত্রিম ও তাজা গাছ, ফুলসহ বাহারি পণ্য। অন্যান্য জায়গার তুলনায় এখানে পণ্য কিছুটা দামি। তবে অনেক সুন্দর ও ইউনিক পণ্য পাবেন স্মার্ট হ্যান্ডিক্র্যাফটে। স্মার্ট হ্যান্ডিক্র্যাফট থেকে ৩০০ থেকে ১০-১৫ হাজার টাকার মধ্যে পছন্দের পণ্য কেনা যাবে। 
আরও আধুনিক পণ্য কিছুটা চড়া দামে কিনতে পারবেন আড়ং থেকে। আড়ংয়ের ঘর সাজানোর পণ্যগুলোও কিন্তু দারুণ। পাইকারি দামে ঘরের নান্দনিক পণ্য কিনতে পারবেন চকবাজার,  শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজার থেকে। বাজেটের মধ্যে ঝাড়বাতিও পেয়ে যাবেন সেখানে। 
ঘর সাজানোর নান্দনিক ও বাহারি সব পণ্য কেনা যাবে অনলাইন থেকেও। বিশেষ করে নন্দিতা কুটির, ফার্নিশিং হোম, আর্ট অ্যান্ড ডেকোর, শপ অন বাজেটসহ বিভিন্ন অনলাইন পেজে পাওয়া যায় মনের মতো পণ্য। এ অনলাইন উদ্যোগগুলোয় মিরর কাম জানালা, ল্যাম্প ও ল্যাম্পশেড, র‌্যাক, মিরর, প্রজাপতি আকারের বুকশেলফসহ বাহারি পণ্য পাওয়া যায়। চাইলে পছন্দের ডিজাইনে পণ্য কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন। কৃত্রিম অর্কিড ও বিভিন্ন ফুল দিয়ে দেয়াল সাজাতে চাইলে সুমিস আর্ট অ্যান্ড ক্র্যাফট, এস কে অনলাইনে ঢুঁ মারতে পারেন। শপ অন বাজেট থেকে অল্প দামে স্ট্রিং লাইট, ওয়ালম্যাট, ওয়াল স্টিকার ইত্যাদি কেনা যাবে। 

আরও পড়ুন

×