প্রাইমার ব্যবহারের সাতকাহন
মডেল: প্রকৃতি; ছবি: মঞ্জু আলম
আফরিনা আক্তার
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:২৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাজসজ্জার জগতে প্রাইমারকে বলা হয় গোপন অস্ত্র বা জাদুকরি রহস্য। কারণ এটি শুধু সাজের ক্ষেত্রে প্রস্তুতিমূলক স্তর হিসেবে কাজ করে না, বরং মেকআপ প্রয়োগের জন্য একটি মসৃণ ও ত্রুটিহীন ভিত্তি তৈরি করে। এ ছাড়া এটি আপনার সামগ্রিক চেহারার সৌন্দর্য ও মেকআপের স্থায়িত্ব বাড়ায়। সেই সঙ্গে ত্বকের সূক্ষ্ম রেখাগুলো পূর্ণ করে। তবে সব ধরনের ত্বকের জন্য একই প্রাইমার যথেষ্ট নয়। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঔজ্জ্বল্য নিয়ন্ত্রণ করতে সিলিকনভিত্তিক ম্যাটিফাইং প্রাইমার ব্যবহার করুন। আবার শুষ্ক ত্বকের জন্য হাইড্রেটিং, ওয়াটারবেসড প্রাইমার ব্যবহার করুন।
প্রাইমার ব্যবহারে কিছু উপকারী হ্যাকস
বেসড মেকআপের প্রস্তুতিতে: ত্বক পরিষ্কার করে ময়েশ্চারাইজার দিয়ে ত্বক প্রস্তুত না করলে কখনোই প্রাইমার সঠিকভাবে কাজ করবে না। তাই সাজের শুরুতেই পরিষ্কার মুখে হালকা ময়েশ্চারাইজার দিয়ে তারপর প্রাইমার প্রয়োগ করুন। ফাউন্ডেশন বা কনসিলার লাগানোর আগে প্রাইমার তিন থেকে পাঁচ মিনিটের জন্য সেট করুন। সে ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণের বেশি প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত নয়। অন্যান্য প্রোডাক্ট লাগানোর আগে প্রাইমার ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি আপনার ত্বকে মখমলের টেক্সচার অর্জন করতে সাহায্য করে। ফলে মেকআপ সহজে গ্লাইড করে এবং ভালোভাবে মিশে যায়।
ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার: আপনার ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ প্রাইমার মিশিয়ে নিন। ফাউন্ডেশনে সামান্য প্রাইমার আপনার মেকআপে ভারী ফর্মুলাকে পাতলা করতে সাহায্য করে। শুধু ফাউন্ডেশন লাগানোর পরিবর্তে, ফাউন্ডেশনের সঙ্গে প্রাইমার মিশিয়ে লাগালে এটি আরও প্রাকৃতিক লুক দেয়।
চোখের পাতায় মসৃণতায়: চোখের পাতায় প্রাইমার লাগালে আইলাইনার এবং আইশ্যাডো আগের তুলনায় আরও বেশি মসৃণ দেখায়। এটি চোখের ভাঁজ পড়া রোধ করে মেকআপের স্থায়িত্ব বাড়ায়। তাই চোখের মেকআপের আগে আঙুল দিয়ে চোখের পাতায় হালকা প্রাইমার লাগান।
লিপস্টিক দীর্ঘস্থায়ী করতে: ফেস প্রাইমার ও আই প্রাইমারের মতো লিপ প্রাইমারও পাওয়া যায়। লিপস্টিক লাগানোর আগে সামান্য পরিমাণ প্রাইমার ব্যবহার করুন। এতে লিপস্টিক লাগানো হলে এটি আপনার সহজে স্লাইড করে এবং বেশিক্ষণ টিকিয়ে রাখে। এ ক্ষেত্রে লিপ প্রাইমার না থাকলে এর পরিবর্তে সামান্য পরিমাণ ফাউন্ডেশন বা কাউন্সিলর ব্যবহার করতে পারেন।
ভ্রু গুছিয়ে রাখতে: আপনার অগোছালো ভ্রু পরিপাটি রাখতে সরাসরি ভ্রুতে প্রাইমার লাগান। অতঃপর স্পুলি দিয়ে ব্রাশ করুন। এ ছাড়া আপনার ভ্রু-এর কুঁচকে যাওয়া রোধ করতে ভ্রু পেন্সিল বা পাউডার লাগান।
চোখের নিচে ছায়া থাকতে: চোখের নিচের কালো দাগ ঢাকতে আই প্রাইমার ব্যবহার করুন। সে ক্ষেত্রে একটি পরিষ্কার পাউডার ব্রাশ দিয়ে চোখের নিচের দাগ মুছে ফেলুন। তারপর আরও বেশি নিখুঁত করতে ফাউন্ডেশন ব্রাশের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পরিমাণ প্রাইমার ব্যবহার করুন।
আইশ্যাডোর ঘনত্ব বাড়াতে: পাউডার আইশ্যাডোকে ক্রিমে পরিণত করতে এর সঙ্গে কিছু পরিমাণ প্রাইমার মিশিয়ে নিন। এতে পাউডার আইশ্যাডো ক্রিমি টেক্সচার নেবে এবং ঘনত্ব বেড়ে যাবে। ফলে আপনার পছন্দমতো সেড পাওয়ার সহজ হবে।
লিপ লাইনার ঠিক করতে: নিখুঁতভাবে লিপ লাইনার লাগাতে প্রাইমার একটি দারুণ হ্যাক। লিপ লাইনার লাগাতে গিয়ে কোনো ভুল হলে, সেটি না মুছে অতিরিক্ত অংশের ওপর সামান্য পরিমাণ প্রাইমার লাগিয়ে মুছে ফেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে একটি কটন বাড বা কনসিলার ব্রাশ দিয়ে সহজেই মুছে ফেলুন।
প্রাইমার হলো সেই ছোট্ট একটি কৌশল, যা মেকআপকে সারাদিনের জন্য টিকিয়ে রাখতে পারে এবং আপনার ব্যস্ততম জীবনে অনন্য সঙ্গী হতে পারে। প্রাইমার ব্যবহারে এ ধরনের হ্যাকস আপনার সাজসজ্জা করে তুলবে আরও বেশি ফ্রেশ, প্রাণবন্ত এবং আত্মবিশ্বাসী।
- বিষয় :
- মডেল
