নিজের সঙ্গে ভালো থাকুন
রোজী আরেফিন
প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২০
| প্রিন্ট সংস্করণ
আমরা অনেক সময় ঠিক জানিও না নিজের সঙ্গে ভালো থাকার অর্থ কী। সারাদিন নানা ধরনের দায়িত্ব, কাজ, সম্পর্ক, প্রত্যাশা সামলাতে সামলাতে নিজের দিকে তাকানোর সময়ই থাকে না। অথচ দিন শেষে সবচেয়ে বেশি ক্লান্ত থাকে মনটাই। নিজের কষ্ট কাউকে বলা যায় না, আবার নিজেকেও বলা হয় না–তুমি ঠিক আছ তো? নিজেকে নিয়ে ভালো থাকা মানে খুব বড় কিছু নয়; মানে নিজের পাশে একটু দাঁড়ানো, নিজের কথা নিজে শোনা।
নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন
আমরা প্রায়ই নিজের অনুভূতিকে উপেক্ষা করি। আমি ঠিক আছি বলে নিজের ক্লান্তি বা হতাশা চেপে রাখি। কিন্তু নিজের অনুভূতিকে বোঝা মানে নিজের মনের কথা শোনা।
কাজ বা পড়াশোনার চাপে পড়ে যদি মনে হয় সব ভারী হয়ে গেছে, ৫-১০ মিনিট চুপচাপ বসে শুধু নিজের দিকে মনোযোগ দিন। ডায়েরিতে লিখতে পারেন আজ কোন জিনিসটা আপনাকে কষ্ট দিয়েছে, কোন জিনিসটা আপনার ভালো লেগেছে– এ রকম কিছু।
নিজের জন্য সময় রাখুন
নিজের জন্য সময় বের করা মানে কোনো বড় ছুটি নেওয়া নয়। এটি মানসিক শান্তি, শক্তি ও আনন্দ আনার ছোট ছোট মুহূর্ত।
সকালে উঠে ১০ মিনিট হাঁটতে যাওয়া বা দিনের শেষে প্রিয় গান শোনা, বই পড়া–এ ছোট সময়গুলোই আপনার মনের ভার হালকা করবে। নিজের জন্য এসব মুহূর্ত নিন, কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার দরকার নেই।
না বলতে শিখুন
সবসময় অন্যকে খুশি করার চেষ্টা করতে গিয়ে আমরা নিজের শক্তি শেষ করে ফেলি। নিজের সীমা বোঝা এবং প্রয়োজন হলে দৃঢ়ভাবে ‘না’ বলা শেখা মানসিক শান্তি দেয়।
ছোট অর্জনকে স্বীকৃতি দিন
সবসময় বড় সাফল্যের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। ছোট ছোট অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোই আপনাকে আত্মবিশ্বাস এবং শক্তি দেয়। দিনের শেষে নিজেকে বলুন–আজ আমি এটা করেছি এবং এটি আজকের মতো আমার জন্য যথেষ্ট।
তুলনা করা এড়িয়ে চলুন
নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করলে সহজেই মানসিক চাপ বাড়ে। আপনার জীবন নিজস্ব গতিতে এগোচ্ছে, এটি মনে রাখা জরুরি।
সামাজিক মাধ্যমে অন্যের ছবি বা সাফল্য দেখে হতাশ হবেন না বা মন ছোট করবেন না। মনে রাখবেন, অন্যের জীবন আপনি পুরোপুরি জানেন না। নিজের ছোট অগ্রগতিকেই বড় হিসেবে দেখুন।
বিশ্রাম এবং যত্ন নিন
শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া মানে নিজেকে গুরুত্ব দেওয়া। বিশ্রাম ছাড়া টানা কাজ চালিয়ে যাওয়া আপনাকে আরও ক্লান্ত এবং অস্থির করবে।
পড়াশোনা বা অফিসের কাজের মধ্যে ৫-১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে বসে থাকুন বা হালকা হাঁটুন। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমও মানসিক শক্তি বাড়ায়।
নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হোন
ভুল হলে নিজেকে দোষারোপ করা স্বাভাবিক, কিন্তু এতে মন আরও খারাপ হয়। জীবনের নানা ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে নিজেকে ছোট না করে সমর্থন দিন। পাশাপাশি অতীত কোনো ভুলের জন্য নিজেকে ক্রমাগত দায়ী করা বন্ধ করুন; যা হয়ে গেছে তার ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।
নেতিবাচক মানুষ এড়িয়ে চলুন
যারা সবসময় নেতিবাচক কথা বলে বা আপনাকে ছোট করে কথা বলে তাদের এড়িয়ে চলুন। নেতিবাচক মানুষ আপনার মানসিক শক্তি কমিয়ে দেবে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটান
গাছপালা ও খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটালে মন ভালো হয়ে যায়। প্রতিদিন কিছুক্ষণ খোলা বাতাসে হাঁটার চেষ্টা করুন। এতে মন ও শরীর দুই-ই সতেজ থাকবে। v
- বিষয় :
- ভালোবাসার গল্প
