রোজায় শরীরচর্চা
শারমিন রহমান
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোজার দিনগুলোতেও নিয়ম মেনে শরীরচর্চা জরুরি। তবে রোজা রেখে কোন কোন শরীরচর্চা করা যাবে, কখন শরীরচর্চা করা ভালো–সেগুলো জেনে নেওয়া উচিত। শরীরচর্চা না করলে ওজন বেড়ে যায়। বাড়ে নানা জটিলতা। তাই সময় বের করে শরীরচর্চা করতে হবে। এতে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়, দেহে মেদ জমে না এবং অন্যান্য শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সহজে সম্পন্ন হয়। অনেক স্বাস্থ্যবিদ মনে করেন রোজা অবস্থায় শরীরচর্চা করা গুরুতর স্বাস্থ্যঝুকির কারণ হতে পারে। তবে কিছু নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করলে তেমন কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকির ভয় নেই। রোজা থাকাবস্থায় কী কী শরীরচর্চা করা সম্ভব আর কোন কোন সময় করলে শরীরের উপকার হবে তা জেনে নিতে হবে।
কী কী ব্যায়াম করা যাবে
স্ট্রেচিং ও যোগব্যায়াম– পেশির নমনীয়তা বাড়ায় এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে। হালকা কার্ডিও–ধীরগতিতে হাঁটা বা জগিং করা। বডি ওয়েট এক্সারসাইজ–পুশ-আপ, স্কোয়াট, লাংজ ইত্যাদি হালকা মাত্রায় করা যেতে পারে। রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং–অল্প ওজন ব্যবহার করে ব্যায়াম করা যেতে পারে। তবে ভারী ওজন এড়িয়ে চলা উচিত।
কখন শরীরচর্চা করবেন
ইফতারের ৩০-৪৫ মিনিট আগে
এ সময় শরীরে আর কোনো খাদ্য অবশিষ্ট থাকে না। পেট থাকে সম্পূর্ণ খালি। লিভারে জমে থাকা চর্বি গ্লুকোনিওজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ভেঙে শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগান দেয়। ফলে শরীরে সঞ্চিত কোনো চর্বি থাকে না। তাই মেদ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এ সময় ব্যায়াম করা উত্তম। তবে এ সময় হাঁটা, হালকা জগিং, আপডাউন ইত্যাদি ছোট ছোট ব্যায়াম করা যেতে পারে।
ইফতারের ১-২ ঘণ্টা পর
ইফতারের আধা ঘণ্টা পর ব্যায়াম করা যেতে পারে। এ সময় ওয়েট লিফটিং, স্ট্রেচিং, দড়ি লাফ জাতীয় ব্যায়াম করা যেতে পারে। এতে গ্রহণ করা খাদ্য দ্রুত হজম হয়ে যাবে। শরীরে পানির চাহিদা বাড়বে। গ্রহণকৃত খাদ্যের কোনো অংশ সঞ্চিত হয়ে থাকবে না।
সাহ্রির আগে
যারা খুব সকালের দিকে ব্যায়াম করতে অভ্যস্ত, তারা সাহ্রির আগে হালকা স্ট্রেচিং বা যোগব্যায়াম করতে পারেন। এ সময় ব্যায়াম ক্ষুধা ও পানির চাহিদা বাড়াবে। এ ছাড়া ঘুম থেকে উঠে সাহ্রি খাওয়ার বিষয়ে অনীহা ও দেহে অবসাদ কাটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে। তবে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো।
তারাবি নামাজের পর
অনেকে ইফতার ও তারাবি নামাজের আগে সময় বের করতে পারে না। তাদের জন্য তারাবি নামাজের পর ব্যায়াম করা উত্তম। এতে শরীরে রক্ত চলাচল হবে এবং রাতের ঘুমও ভালো হবে। এ ছাড়া শরীরে পানির চাহিদা তৈরি হলে পানি পান করা যাবে।
মনে রাখতে হবে
lরমজানে শরীরে পানির ঘাটতি থাকে বেশি। তাই সাহ্রি ও ইফতারে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
lইফতারে ভাজাপোড়া বেশি না রেখে ফলমূল ও সহজপাচ্য খাবার রাখার চেষ্টা করতে হবে।
lমিহি শর্করা জাতীয় খাদ্যের তুলনায় তন্তু জাতীয় শর্করা খাদ্য গ্রহণ করার দিকে বেশি নজর দিন আর খাদ্য তালিকায় পর্যাপ্ত আমিষ রাখুন।
lযেহেতু দেহের ধারণা ক্ষমতার অতিরিক্ত পানি পান করা সম্ভব নয়, তাই অধিক পানিযুক্ত শাকসবজি যেমন–শসা, গাজর, টমেটো এবং ফলমূল যেমন তরমুজ, মাল্টা, কমলা ইত্যাদি খান।
lএ সময় শরীরে খনিজ লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পানির বদলে শরবত ও ফলের জুস খাওয়া যেতে পারে। খাদ্য তালিকায় আনার, আনারসও রাখুন। v
- বিষয় :
- শরীরচর্চা
