শারদীয় রঙে রঙিন শিশু
শারমিন উদ্দিন
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
শরতের শুভ্র কাশফুল আর শিউলির গন্ধ জানান দেয় দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা। ঢাকের শব্দে চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, তখন বাড়ির ছোটদের অপেক্ষা নতুন পোশাকের। ষষ্ঠী থেকে দশমী, প্রতিদিনই থাকুক আলাদা সাজ–এমন ইচ্ছা থাকে শিশুদেরও। তবে পোশাক যতই সুন্দর হোক, তাতে স্বস্তি না থাকলে উৎসবের আনন্দ যেন অপূর্ণ থেকে যায়। তাই পূজার কেনাকাটায় ছোটদের পোশাক বাছাইয়ে শুধু নকশা বা ফ্যাশন নয়, শিশুর স্বাচ্ছন্দ্য, পছন্দ, রং, নকশা ও কাপড়ের ধরনও বিবেচনা করা জরুরি।
বাহারি রং ও নানা প্যাটার্নের পোশাক বিক্রয় হচ্ছে মার্কেটে। দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোতেও ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমল ঘুরে দেখা যায়, মেয়েশিশুদের ঘেরওয়ালা ফ্রক, সারারা, ঘারারা, সালোয়ার-কামিজ, কুর্তা বেশ বিক্রি হচ্ছে। ছেলেশিশুদের হাফ হাতা শার্ট, টি-শার্ট, থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট, ফুল প্যান্ট, পায়জামা ও পাঞ্জাবি রয়েছে শীর্ষে। অনলাইনের বিভিন্ন পেজে ছোটদের শাড়ি, পোলকা ডটের ফ্রকসহ পূজার বিভিন্ন মোটিফের পোশাকের দেখা মিলছে।
শারদীয় সাজে রঙের ছোঁয়া
পূজার সাজে লাল-সাদার আবেদন চিরন্তন। তবে ছোটদের পোশাকে শুধু এ দুই রঙেই আটকে থাকার দিন নেই। হলুদ, কমলা, গোলাপি, বেগুনি, সবুজ, আকাশি কিংবা মৃদু প্যাস্টেল রঙেও সাজতে পারে শিশুরা। দিনের আলোয় হালকা রঙের পোশাক যেমন সতেজ দেখায়, সন্ধ্যার আয়োজনে গাঢ় রং কিংবা উজ্জ্বল নকশাও হতে পারে মানানসই। ভাইবোনের পোশাকে একই রং বা নকশার ছোঁয়া রেখে সাজেও আনা যায় ভিন্নতা।
নকশায় ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতা
পূজার সাজে ছোটদের পোশাকে থাকুক ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মেলবন্ধন। মেয়েশিশুদের ফ্রক, ঘেরওয়ালা জামা, কুর্তি কিংবা লেহেঙ্গা আর ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা, ফতুয়া ও কটি হতে পারে উৎসবের সঙ্গী। পোশাকের নকশায় ফুল-লতাপাতার পাশাপাশি শঙ্খ, পদ্ম, ত্রিশূল কিংবা দুর্গা প্রতিমার মোটিফ ফুটিয়ে তুলতে পারে পূজার বিশেষ আবহ। আধুনিক কাট, মানানসই কটি কিংবা ধুতির মতো অনুষঙ্গ ঐতিহ্যবাহী সাজে আনবে নতুনত্ব।
হাতের কাজে নিজস্বতা
সুতার বুননে আর সূচের শৈল্পিক ছোঁয়ায় পোশাকে ফুটে ওঠে অনন্য সৌন্দর্য। ব্লক ছাপ, বাটিক, কাঁথা ফোঁড় কিংবা হাতে আঁকা নকশায় ছোটদের পূজার সাজ হয়ে উঠতে পারে আরও রঙিন ও আকর্ষণীয়। ঐতিহ্যের ছোঁয়া আর নকশার বৈচিত্র্যে এমন পোশাকে মেলে স্বতন্ত্র রুচির প্রকাশ। তবে সাজের বাহারের পাশাপাশি শিশুর স্বস্তি ও নিরাপত্তাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারী পুঁতি, খসখসে লেস, ধারালো অলংকরণ কিংবা সহজে খুলে যায় এমন ছোট সাজসজ্জা এড়িয়ে আরামদায়ক পোশাক বেছে নেওয়াই ভালো।
কাপড় বাছাই
পূজায় যেহেতু সারাদিন ঘোরাঘুরি করা হয়, এ সময়টায় শিশুদের জন্য সুতি ও লিনেনের মতো আরামদায়ক কাপড় বেছে নিন। এ কাপড় ঘাম শোষণ করে, ভেতরে বাতাস চলাচল করে। চাইলে ভিসকস, ডাবল জর্জেট ও অন্যান্য ম্যাটেরিয়ালের পোশাক বেছে নিতে পারেন। তবে এ ধরনের ফেব্রিকের পোশাক অল্প সময় পরে রেখে দিতে হবে। আরামদায়ক ফেব্রিকের পোশাক বাছাইয়ের পাশাপাশি গলা, ভেতরের সেলাই ও কোমরের ইলাস্টিক আরামদায়ক কিনা যাচাই করুন। শক্ত বোতাম, ধারালো জিপার ও খসখসে অলংকরণ এড়িয়ে চলুন। মোটকথা বাহারি নকশার চেয়ে শিশুর আরাম ও সহজে চলাফেরার সুবিধাকে প্রাধান্য দিন।
উৎসবের দিনে সাজের বৈচিত্র্য
ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি কিংবা প্রতিমা দর্শনের জন্য হালকা ফ্রক, সুতির কুর্তা, ফতুয়া বা ঢিলেঢালা পোশাক বেছে নিন। অষ্টমীর অঞ্জলিতে ধুতি-পাঞ্জাবি, কটি কিংবা ঐতিহ্যবাহী নকশার পোশাকে ফুটে উঠতে পারে উৎসবের আবহ। নবমী ও দশমীর সাজেও থাকুক আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য। দিনের গরমে পাতলা কাপড় আর সন্ধ্যার আয়োজনে হালকা কারুকাজ বা উজ্জ্বল রঙের পোশাক শিশুর সাজে যোগ করতে পারে ভিন্ন মাত্রা। তবে পোশাকের জৌলুসের পাশাপাশি শিশুর স্বস্তি ও সাবলীল চলাফেরার বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।
সাজের সিদ্ধান্তে শিশুর মত
পূজার পোশাক কেনার সময় অভিভাবকের পছন্দের পাশাপাশি শিশুর মতামতকেও গুরুত্ব দিন। যে পোশাকে সে স্বচ্ছন্দে হাঁটতে, খেলতে ও আনন্দ করতে পারে, সেটিই হোক তার উৎসবের সঙ্গী। প্রতিদিন নতুন পোশাক না কিনেও কয়েকটি পোশাকের সঙ্গে ভিন্ন কটি বা মানানসই অনুষঙ্গ মিলিয়ে তৈরি করা যায় নতুন সাজ। এতে শিশুর পছন্দের প্রতিফলন যেমন ঘটবে, তেমনি কেনাকাটাও হবে সাশ্রয়ী।
- বিষয় :
- শিশু