ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনজনের টান

আপনজনের টান
×

.

আঞ্জুমান আরা

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৪ | ০৯:১০ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৪ | ১২:০৩

ফোনটি পাওয়া মাত্রই অফিসের বস বুঝে গেছেন, রবিন আজ কোনো কাজে আটকে গেছেন। তাঁর দায়িত্বটা সঙ্গে সঙ্গে অন্যদের হস্তান্তর করে দেন। এ নিয়ে কানাঘুষা শুরু হয় অফিসে। ‘ওই যে আজও লাপাত্তা, করো এখন সবাই মিলে তার কাজ ভাগাভাগি করো।’ একেকজনের মুখের দিকে তাকানো যায় না। মনে হচ্ছে কে যেন কুইনাইন গুলিয়ে জোর করে মুখে ঢেলে দিয়েছে। চোখাচোখির পর দু-একজন আবার ফিস্‌ ফিস্‌ করে নিল। বসও জানেন, এটা এসব অকর্মা লোকদের স্বভাব।

এরা চাকরির আশায় পড়াশোনা করে। বেতনের আশায় চাকরি করে। এর বাইরে স্বার্থ ছাড়া এরা কিছুই বোঝে না।

নিজের কাজ করার পর অন্যের কাজ করা কষ্টকর। কিন্তু রবিন ইচ্ছাকৃত অফিস কামাই করে না। মানবিক দায়িত্ব তাঁকে মুক্তি দেয় না। মানুষের বিপদে এগিয়ে আসে।

অটোরিকশার ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়া ভদ্রলোকের নাম জানা নেই রবিনের। বয়সটা ঠিক ওর বাবার মতো। তাই বুকে জড়িয়ে তাঁকে হাসপাতাল নিয়ে যায়, রক্তের ব্যবস্থা করে। অজ্ঞান ভদ্রলোকের মোবাইল ফোন তাঁর পকেটে পাওয়া যায়নি। কে যেন আগেই নিয়ে পালিয়েছে। সন্ধ্যে নাগাদ লোকটির জ্ঞান ফিরে এলেও পরিবারের কারও ফোন নম্বর বলতে পারছে না। তাঁর ছেলে বারবার ফোন দিয়েও বাবাকে পায়নি। অনেক খুঁজে হাসপাতালে পায়। কিন্তু রবিন না হলে হয়তো রাস্তায় পড়ে থেকে বিনা চিকিৎসায় মারা যেত। যেমন মারা গেছেন রবিনের বাবা। সঠিক সময় চিকিৎসা না করে মেডিকেলের বারান্দায় তাঁকে ফেলে রাখা হয়েছিল। বাবাকে পাগলের মতো খুঁজে যখন মেডিকেলের বারান্দায় অজ্ঞান অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে রবিন তখন চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে যায়। বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল সেদিন। সেই থেকে রবিন অপরিচিত কোনো অসুস্থ রোগী পেলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তারাই তার আপনজন। বস এসব কথা জানেন। কারণ তাঁর মানসিক রোগী বাবাকে এ রবিনই খুঁজে হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। সেই থেকে রবিনকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করে সে। রোগীর আপনজন এলে রবিন ছুটি নিত এবং তাঁর ছেলের সঙ্গে বন্ধুত্ব করল একটি শর্তে। অসুস্থ রোগীকে প্রয়োজনে রক্ত দিতে হবে। অফিসে প্রায়ই রবিনকে আজেবাজে মন্তব্য শুনতে হয়। এসব সে কর্ণপাত করে না। নিজের কাজ করে আপন মনে। 

একদিন অফিসের অধিকাংশ কর্মচারী মিলে রবিনের মতো ছুটি চাইল। সবার অনাগ্রহ থাকলেও বস মিটিংয়ে রবিনের গুণাবলির বর্ণনা করলেন। সবাইকে উদ্দেশ করে বললেন এক ব্যাগ রক্ত দিতে কে কে রাজি আাছেন? নিমেষেই সবাই মাথা নিচু করল। কথা বন্ধ হলো। বস আর একটি কথাও না বলে বিরক্তি নিয়ে চলে গেলেন…। 
সুহৃদ ঢাকা

আরও পড়ুন

×