ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মা, আমার মা

মা, আমার মা
×

অলংকরণ:: সাফায়েত সাগর

গোলাম সরোয়ার

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৬:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

তোমার মাকে গ্রামের বাড়িতে রেখে এসো আজহার। এসব ঝামেলা আমার আর ভালো লাগছে না। আবার কী হলো মেহেরুন?
কী আবার হবে? রোজ যা হয়। খাবারটুকুও নিজে খেতে পারেন না তোমার মা। হাত কেঁপে কেঁপে এদিক-ওদিক ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলেন। পানি খেতে গিয়ে গ্লাস হাত থেকে ফেলে দেন। পুরো ঘর এঁটো এবং জলে একাকার হয়ে যায়। বাবুকে সামলাবো নাকি ঘরের নোংরা পরিষ্কার করব? তুমি তাঁকে গ্রামের বাড়িতে রেখে এসো; ওখানে যা পারে করুন।
মেহেরুন, মাকে এখানে আমি এনেছি চিকিৎসার জন্য। মায়ের চিকিৎসা চলছে। মায়ের বয়স হয়েছে। তার ওপর একটা স্ট্রোক হওয়ার পর থেকেই মায়ের হাত দুটো কাঁপে। এখানে ডাক্তার দেখছেন। তুমি যে অভিযোগ করলে তার জন্য ছেলে হয়ে আমি মাকে বিনা চিকিৎসায় গ্রামের বাড়িতে রেখে আসতে পারি না। তোমার উচিত মাকে খাবার সময় সাহায্য করা। গ্রামের বাড়িতে রেখে আসাটা সমস্যার সমাধান নয়। যে মা আমাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছেন, যে মায়ের আঁচলের ছায়াতলে বড় হয়েছি, যে মায়ের আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে চাকরি করছি, যে মায়ের দোয়ায় তোমাকে ও বাবুকে পেয়েছি–সেই মাকে বিনা চিকিৎসায় আমি মরতে দিতে পারব না। আমাকে ক্ষমা কর মেহেরুন্নেসা।

মানে? এসব পোহাতে গিয়ে যদি আমি অসুস্থ... যদি আমার কিছু হয়! তখন বাবুর কী হবে? তোমার কাছে তোমার মা বেশি হলো, আমি আর বাবু কেউ না?
মেহেরুন্নেসা, কথায় কথা বাড়ে। আমি যা বলার বলে দিয়েছি। আর হ্যাঁ, এক মাসের ছুটি নিয়েছি অফিস থেকে। কাল সকালেই আমাকে তোমার বাড়ি যেতে হবে। ফরহাদের ফোন এসেছিল। 
আমার বাড়ি যাবে? ফরহাদের ফোন? কেন? কী হয়েছে?
তিন দিন আগে তোমার মা, মানে আমারও মা স্নান করতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে ফেলেছেন। ওখানকার ডাক্তার বলেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঢাকায় বড় হাসপাতালে দেখাতে। 
তোমার ভাই আসত নিয়ে, কিন্তু তার ছেলেটার জ্বর। আমি বললাম, তোমার আসার দরকার নেই, আমি মাকে নিয়ে আসব। এরপর ভাবলাম, দুজন রোগীকে তুমি সামলাতে পারবে না, তাই বসকে বলে এক মাসের ছুটি নিলাম। 
এই এক মাসের মধ্যে দুই মাকে সুস্থ করে তোলার দায়িত্ব আমার আর তোমার। হ্যাঁ, আমার শাশুড়িকে আমি খাইয়ে দেব, তোমার শাশুড়িকে তুমি খাইয়ে দেবে নাকি গ্রামে ফেলে আসবে তুমি বোঝ।
সব শুনে আজহারের বুকে মুখ লুকিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলে মেহেরুন। আজহারের হাতটা মেহেরুনের মাথায় আশীর্বাদের মতো রইল। রোদ ঝলমলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেহেরুন্নেসার মনে হলো, বাড়ির গুমোট ভাবটা কেটে গিয়ে চারপাশটা আজ অনেক বেশি পরিষ্কার আর পবিত্র লাগছে। 
সুহৃদ, ঢাকা

আরও পড়ুন

×