ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মধুসূদন নিয়ে তিন জেলায় পাঠচক্র

মধুসূদন নিয়ে তিন জেলায় পাঠচক্র
×

মাইকেল মধুসূদন দত্ত (জন্ম: ২৫ জানুয়ারি ১৮২৪-মৃত্যু: ২৯ জুন ১৮৭৩) প্রতিকৃতি:: শেখ শাহাদ, অলংকরণ:: সাফায়েত সাগর

তানজীম আহমেদ, নূর ইসলাম নিয়ন, আরিফুর রহমান লাবিব

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৭:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার রূপকার মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্ম ও জীবনদর্শন নিয়ে পটুয়াখালী, বরিশাল ও বাগেরহাটে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ পাঠচক্র। গত ১৯, ২১ ও ২২ জুন সমকাল সুহৃদ সমাবেশ আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুহৃদদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা, পাঠপ্রতিক্রিয়া আর আবৃত্তিতে মুখরিত ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে আয়োজন

বাগেরহাট
তানজীম আহমেদ
মাইকেল মধুসূদন দত্ত শুধু খুলনা অঞ্চলের গর্ব নন, তিনি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য প্রতীক। তাঁর সাহিত্যকর্ম আমাদের জাতিসত্তার অহংকার। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম তাঁর সাহিত্য ও জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুক। তিনি আরও বলেন, মাইকেল মদুসূদন দত্ত বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ছিলেন। তিনি বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি ইংরেজি সাহিত্যেও অসামান্য অবদান রাখায় বিশ্ববাসী এ ধীমান কবিকে মনে রেখেছে কৃতজ্ঞচিত্তে।’ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের সাহিত্যকর্ম ও জীবনী নিয়ে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মুখার্জি রবীন্দ্রনাথ এ কথা বলেন। 
শহরে অবস্থিত যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজে সুহৃদ সমাবেশ বাগেরহাট শাখা আয়োজিত কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, কবি, সাহিত্যিক ও সুহৃদরা অংশ নেন।
সমকাল সুহৃদ সমাবেশ বাগেরহাটের সভাপতি সেখ সাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সেখ তানজির হোসেনের সঞ্চালনায় মহাকাব্য মেঘনাদবধ কাব্যসহ মধুসূদন দত্তের বিভিন্ন সাহিত্যকর্ম ও জীবনী নিয়ে এ সময় আলোচনা করেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ মুখার্জি রবীন্দ্রনাথ, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের এস কে এ হাসিব, সাংস্কৃতিককর্মী আব্দুল্লাহ বনি, তরুণ কবি ও লেখক মো. ফয়সাল হাওলাদার। উপস্থিত ছিলেন–যদুনাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ঝিমি মণ্ডল, শিক্ষক আমীন হাওলাদার, চন্দনা রানী পাল, সুহৃদ সদস্য নাহিদ ফরাজী, শেখ আবু তালেব, জি এম নুরুল হুদা, শেখ শামীম হাসান প্রমুখ। 

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পথিকৃৎ মধুসূদনের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ি কবি-সাহিত্যিকদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই এক তীর্থভূমি। একই সঙ্গে এটি পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় স্থান। তাই পাঠচক্রে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সফরে এসব স্থানে ঘুরতে যাওয়া, বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের আহ্বান জানান বক্তারা। 
এ সময় শিক্ষার্থীরা আলোচকদের কাছে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন এবং বিদ্যালয়ের পাঠাগারে নিয়মিত বই পড়বেন বলে জানান। এদিকে অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সুহৃদ কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। 
উল্লেখ্য, মাইকেল মধুসূদন দত্ত উনিশ শতকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবি ও নাট্যকার। হিন্দু কলেজে পড়াশোনা করার সময় মধুসূদন প্রথম কাব্যচর্চা শুরু করেন। তাঁকে বাংলা সাহিত্যের নবজাগরণের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব মনে করা হয়। ঐতিহ্যের অনুবর্তন অগ্রাহ্য করে তিনি কাব্যে নতুন রীতি প্রবর্তন করেন। বাংলা ভাষায় তিনিই অমিত্রাক্ষর ছন্দ ও চতুর্দশপদী বা সনেটের প্রবর্তক। ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্ম নিয়ে মাত্র ঊনপঞ্চাশ বছর বয়সে (২৯ জুন ১৮৭৩) কলকাতায় এই মহাকবির মৃত্যু হয়। 
সমন্বয়ক, সুহৃদ সমাবেশ, বাগেরহাট 

 

বরিশাল
নূর ইসলাম নিয়ন 
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠচক্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২১ জুন বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে এই পাঠচক্রের আয়োজন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুহৃদরা।
অনুষ্ঠানে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করা হয়। বক্তারা তাঁর সাহিত্যজীবনের বিভিন্ন দিক এবং বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদানের ওপর আলোকপাত করেন। বিশেষ করে বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তন ও আধুনিকতার সূচনায় তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় সুহৃদের সভাপতি নূর ইসলাম নিয়ন বলেন, মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কাব্যে অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তনের মাধ্যমে নতুন ধারার সূচনা করেন। তাঁর অমর  ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য সৃষ্টি।। তিনি কেবল কবি নন, একজন সাহসী চিন্তাবিদ, যিনি প্রচলিত ধ্যানধারণার বাইরে গিয়ে নতুন পথ দেখিয়েছেন। সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক জাকিয়া সুলতানা শিমু বলেন, ‘পাঠচক্র সাহিত্যচর্চায় আগ্রহ বাড়ায় এবং নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যপাঠে উদ্বুদ্ধ করে।’ পাঠচক্রে উপস্থিত সদস্যরা কবির বিভিন্ন কবিতা আবৃত্তি করেন। সুহৃদ সাইফ উদ্দিনের পাঠপ্রতিক্রিয়া শেষ হয় পাঠচক্রের আনুষ্ঠানিকতা। 
সুহৃদ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

পটুয়াখালী
আরিফুর রহমান লাবিব
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্থানীয় লতিফ মিউনিসিপ্যাল সেমিনারিতে অনুষ্ঠিত হয় পাঠচক্র। 
পাঠচক্র সঞ্চালনা করেন জেলা সুহৃদের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি পলাশ চন্দ্র হাওলাদার। মহাকবির সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমকালের জেলা প্রতিনিধি ও জেলা সুহৃদ সমন্বয়ক মুফতী সালাহউদ্দিন। অন্যদের মধ্যে পাঠপ্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন জেলা সুহৃদ সমাবেশের উপদেষ্টা সদস্য কবি ও লেখক গাজী হানিফ ও সোনিয়া কর্মকার, জেলা সুহৃদ সমাবেশের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) কাজী রফিকুল ইসলাম, পটুয়াখালী সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি নাজমুল খান, সাধারণ সম্পাদক মোসা. হাওলাদার অনু, নবাগত সুহৃদ আরিফুর রহমান লাবিব,  সাইফুল ইসলাম উদয় প্রমুখ। 
আলোচনায় বিশেষ করে নারীর প্রতি মাইকেলের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়। সুহৃদদের আলোচনায় তার বৈচিত্র্যময় জীবন ও কর্মের গুরুত্ব উল্লেখ করে বলেন, ‘জীবনের দ্বিতীয় পর্বে মহাকবি মধুসূদন দত্ত নিজের মাতৃভাষার প্রতি মনোযোগী হন এবং বাংলায় মহাকাব্য, চতুর্দশপদী কবিতা, নাটক ও প্রহসন রচনা করেন। তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত মহাকাব্য। 
সুহৃদ, পটুয়াখালী

আরও পড়ুন

×