সিংগাইরে স্কুলছাত্রীর লাশ
প্রধান আসামির বাড়িতে ভাঙচুর, গ্রেপ্তার ৮
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ | ০৭:৩২
| প্রিন্ট সংস্করণ
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া আক্তার (১৪) হত্যার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার এ ঘটনায় তার মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। এতে অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। এদিকে গতকাল দুপুরে মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে উত্তেজিত জনতা।
মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন– প্রধান আসামি ও মারিয়ার কথিক প্রেমিক সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির এক ছাত্র, তার মা ও বোন; রাসেল, মাসুদ, সুজন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ও আইসিটি শিক্ষক মো. ইয়াকুব মোল্লা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত ১৫ জুন সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে মারিয়ার একটি ঘটনায় তাদের অভিভাবকদের ডেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুজনকেই টিসি দেয়। সেদিনই নিখোঁজ হয় মারিয়া। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর রোববার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার চন্দননগর এলাকায় কবরস্থানের কাছে ঝোপে মারিয়ার অর্ধগলিত খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। দেহের ওপরের অংশ একটি গাছের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ছিল এবং কোমরের নিচের অংশ পাশে মাটিতে পড়ে ছিল। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় রোববার রাতেই স্থানীয় উত্তেজিত জনতা মারিয়ার প্রেমিককে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। সোমবার দুপুরে তার বাড়িতে হামলা হয়। পুলিশ এসে বিক্ষুব্ধ লোকজনকে শান্ত করে।
হত্যা মামলায় বাদী কামরুন্নাহার উল্লেখ করেছেন, প্রধান আসামি তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি পরিবারকে জানালে মেয়ের ক্ষয়ক্ষতি করার হুমকি দেয়। মারিয়া গত ১৫ জুন সকাল ৯টায় স্কুলে যায়। সেদিন বিকেল ৩টার দিকে প্রধান শিক্ষক মোবাইল ফোনে বলেন, ‘স্কুলে আসেন। আপনার মেয়েকে একটি ছেলের সঙ্গে কথা বলতে দেখেছি। মেয়েকে স্কুলে রাখব না।’ তিনি বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর ছেলেটিকে দেখলেও মেয়েকে পাননি।
কামরুন্নাহারের ভাষ্য, মেয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আপনার মেয়ে স্কুলের নিচতলায় আছে। আপনার মেয়েকে নিয়ে যান।’ কিন্তু তিনি মেয়েকে না পেয়ে বাড়ি চলে যান। সন্ধ্যায় দেখা হলে ছেলেটি জানায়, তাঁর মেয়েকে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মেয়ের সন্ধান পাননি। ওই ছেলের হুকুমেই আসামিরা পরিকল্পিতভাবে মারিয়াকে হত্যা করেছে।
মারিয়ার নানা দেওয়ান হাফিজের অভিযোগ, তাঁর নাতনিকে যখন খুঁজছেন, তখন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বিএনপির স্থানীয় কয়েকজন নেতা মেয়ের মায়ের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে সই নেন। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তিনি বলেন, ১০ জুনের ঘটনা নিয়ে ১৫ জুন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছেলেমেয়ের অভিভাবককে ডেকে আনে। এ সময় দুজনকেই টিসি দেওয়া হয়। মেয়েটিকে বহিষ্কার না করার জন্য তার মা বিদ্যালয়ে এসে স্বেচ্ছায় মুচলেকা দেন।
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
মাজহারুল ইসলাম বলেন, মারিয়া হত্যার ঘটনায় তার মায়ের করা মামলায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার
করা হয়েছে। তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেননি। আসামিদের গতকাল সোমবার বিকেলে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। তবে বিচারক শুনানি না করে তাদের কারাগারে পাঠিয়েছেন।
- বিষয় :
- নিহত
