ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কবিতা

কবিতা
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

কাঠগড়া
এমএএম সুমন

কতবার দাঁড়াই মনের কাঠগড়ায়, 
কোনো ধর্মগ্রন্থে হাত না রেখেই
যা বলি, সত্য বলি, সত্য বই মিথ্যা বলি না।
অধিকাংশ সময় নিজেই বাদী, 
একটার পর একটা আরজি,
সুনসান এজলাস, তর্ক নেই, বিতর্ক নেই
যুক্তি উত্থাপন বা খণ্ডনও নেই
অবাক বিষয়–সাক্ষী নেই, বিচারকও নেই।
আছে নীরবতা, চাপা ব্যথা, দীর্ঘশ্বাস 
চোখের কোণে জল।
একই আমি যখন বিবাদী
মাথা নিচু, অপরাধবোধ, ক্ষমাপ্রার্থনা। 
আদালতে যখন সাক্ষী হতে হয়
কত কী যে গোপন রাখতে হয়! 
কখনও সম্মান রক্ষায়, কখনও সম্পর্ক।
এ নশ্বর জীবনে কতশত মামলা আজ অবধি, 
বাস্তবে তার সবই তামাদি, তামাদি।
 

 

খোঁজ
মাইসা আক্তার

কতকাল ধরে নিকুঞ্জ বনে
নিখোঁজ পাথারে জলজের আধারে,
ঝলঝল করে ঢেউ উঠে, তীরে 
তরী নিয়ে অজানা পথে। 

রহস্যে ভারী গন্ধে ভরপুর, 
রাঙা আভায় হাসে পুষ্প-মুকুল,
নিকুঞ্জ পথে নিবিড় আলোকে 
দিবা-নিশি চলে, পরিশ্রমের কূলে।

চলন্ত গাড়ি, উড়ন্ত পাখা সব
অল্প ধাক্কায় হয়ে পড়ে বাঁকা,
তবু ছুটে যাই অন্ধকার চিরে 
যদি মেলে কোথাও আলোর দেখা।।

 

অপেক্ষার প্রহর
শাহীন খান 

কথা ছিল বৃষ্টিটা থেমে গেলে 
নদী পারে যখন ফুটবে কাশ
পাখিরা ডানা মেলবে
প্রজাপতি ছুটবে 
ভ্রমর করবে গান
বেলেহাঁস ডাহুক পাবে অনাবিল সুখ
আকাশে উঠবে চাঁদ, জ্বলবে তারা
দুরন্ত মেঘের হবে ছুটি 
সন্ধ্যা নদীর ঢেউ যাবে থেমে
মাঝি ভাসাবে নাও 
ঝিরিঝিরি বইবে বাতাস
কবির মনে লাগবে দোলা
ছন্দরা পাবে ভাষা
ফুলেরা গন্ধ ছড়াবে 
গাঁয়ের বধূ যাবে জলকে
ঠিক তখনই তুমি আলতা রাঙা পায়ে 
সোনার নূপুর পরে আমার দুয়ারে আসবে
ভীরু ভীরু পায়ে 
অথচ তুমি আসনি। 
আর তাই আমার অপেক্ষার প্রহর
কেঁদেকেটে হয়ে আছে একাকার! 
সুখ যত হয়ে গেছে সারা। 

 

বিবিধ রঙের পৃথিবী 
আবির হাসান 

মেঘের জড়তা মুছে যাচ্ছে, জোয়ার নামবে 
আঁধার সমুদ্রে–একা একটা বিস্তীর্ণ মাঠ 
সবুজের একাকিত্বে পুড়ছে, আছড়ে পড়া 
বৃষ্টির হাহাকার ফুটে উঠছে জীর্ণশীর্ণ হরিণের দেহে। 
এমন থমকে যাওয়া বাতাসের দিকে 
তাকিয়ে আছে দৃশ্য, বাদুড়ের নালায়েক জিন্দেগি 
অন্ধকারের যাপন ভুলে গেছে। 
বুভুক্ষু সরাইখানা তাকিয়ে আছে কালো মদিরার আশায়– 
মানুষ খুন করছে পৃথিবীর জীবিত জবান। 
বধির নসিব, সমুদ্র স্বপ্নের চিতায় পুড়ে যাচ্ছে 
আধুরা সম্ভাবনা। সব মুছে গেলেও হয়তো একদিন 
কিছু নিরর্থ করুণ চিৎকার বেঁচে থাকবে। মৃত মানুষের 
কবরে প্রতিদিন ফুটবে বিবিধ রঙের পৃথিবী...।

আরও পড়ুন

×