দিগন্তের ওপারে তোমার সন্নিকটে
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
হেমন্তের নিমন্ত্রণ
শ্যামল বণিক অঞ্জন
হেমন্তের মাঠ যেন হলুদ চাঁদরে মোড়ানো
নতুন দিনের আলো আভায় উদ্ভাসিত কৃষকের মন-প্রাণ!
পাকা ধানের ম-ম গন্ধ হৃদয়ে দোলা দিয়ে যায়।
রূপসী প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে হেমন্তের নিমন্ত্রণ বার্তা।
শোভিত হয় শখের কানন মল্লিকা শিউলি ফোটে।
শিশিরসিক্ত স্নিগ্ধ সকাল সোনা সোনা রোদ মাখা–
ঘাসের বুকে উল্লাসে ফড়িংগুলো পাখা মেলে
সতেজ দুপুর মুখরিত পাখিদের গুঞ্জরনে–
আলো-আঁধারীর হিমেল সন্ধ্যায় পুলক ঝরে পড়ে।
জ্যোৎস্না স্নাত মায়াবী রাত কুয়াশার চাঁদরে ঢাকা–
নীল-সাদা নীলিমায় রুপালি চাঁদখানি মনে হয়
ক্যানভাসে আঁকা কোনো শিল্পীর চিত্রকর্ম!
জলছবির দেশে
খান মো. মহসীন
কাঁঠালিয়া লঞ্চঘাট
বিষখালী নদীতীর
মনোরম বেড়িবাঁধ
বহে মৃদু সমীর।
জল জোছনা, তরঙ্গ নীড়
যাত্রী বসার ছাউনি
জলছবি ক্যাফেতে
মন হারাও এখনই!
তোমার চোখ
রাজ্জাক মিকা
আকাশে সূর্য নেই
তোমার মুখে তবুও রোদ্দুর
তোমার মুখই যেন সূর্য
হ্যামিলনের বাঁশির সুরে ছুটছি
থামব দিগন্তের ওই ওপারে তোমার সন্নিকটে
এখানে ভোর-রৌদ্রের নিবিড় ছায়া
দিন ও রাতের আলিঙ্গন, আঁধার-আলোর মিলন
তোমার মুখের মতো লাবণ্য ছড়ানো পথ
অসীম, উদার!
তোমার চোখে কিশোর চন্দ্রগ্রহণ
শরতের উঠানজুড়ে স্নিগ্ধতার আবেশ
কাজলধোয়া বৃষ্টিভেজা প্রেমকদম
তোমার চোখ বৃষ্টির, বর্ষার মতো
টাপুরটুপুর, রিমঝিম, ছন্দের নৃত্য জল
তোমার চোখ ঠিক তোমার মতো;
তোমার চোখের মতো তুমি
তোমার চোখ প্রেমের মতো
হৃদয়ে জমানো সুখ ও দুঃখের মতো…।
মনোভাব
মাইসা আক্তার
মনুষ্য জাতির বিধান
সময়ের আবর্তে ব্যবধান।
সমুদ্রের স্রোতের কণা
সেগুলো আমাদের অজানা।
সমুদ্রের স্রোতেই মিলন,
তার এই মাঝে বিলীন।
নতুন কিছুর অন্বেষণে
মনুষ্যের গড়ে বন্ধন।
অজানা সাগরকে জানতে
নেই কোনো বারণ।
সময়ের নতুন প্রেরণা
দীর্ঘ সাধনার বাসনা।
পশ্চাতে কর না ভাব,
বদলাতে হবে মনোভাব।
এপারে নদীর কূল,
ওপারে অজস্র ফুল।
নদীর বিন্দু বিন্দু ফোঁটায়
মনুষ্যের প্রিয় হয়ে ওঠে।
মনুষ্য জাতির বিধান
সময়ের আবর্তে ব্যবধান।
অসময়ে শান্তির প্রয়াণ।
স্বপ্নের গ্রাম
মকবুল মজুমদার
এমন একটি ভোরের জন্য জেগে আছি আজও,
যে ভোর এলে ঘুচে যাবে আঁধার জমা কাজল;
প্রতিটি ঘরে ভালোবাসার জোনাকি জ্বলে,
মানুষ আবার মানুষ হবে ধানের সবুজ দলে।
খুনের রক্ত মুছে যাবে শিউলিঝরা ঘাসে,
ভাইয়ের বুকে ভাই ফিরবে আপন ভালোবেসে;
চাঁদাবাজির কালো ছায়া হারাবে দিগন্তে,
ন্যায়ের পাখি ডানা মেলবে বাংলার প্রান্তরে।
প্রতিটি গ্রাম হোক মানুষের, সেবার পবিত্র ঘর,
হিংসা যেথায় হার মানে, মমতা হয় নির্ভর;
পরের দুঃখ নিজের করে কাঁদুক সবার প্রাণ,
এক মুঠো ভাত ভাগ করে নিক বাংলার সন্তান।
শূন্যতাকে
মুহাম্মদ রফিক ইসলাম
শূন্যতাকে সান্ত্বনা দিতে
খুলে দিয়েছি দখিনা দুয়ার।
তুমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছুঁয়ে দেখ চাঁদ
থইথই জোছনা।
আঙিনায় ডালিম ফুলের গন্ধ, কুড়িয়ে নাও
মুছে দাও হৃদয়ের ক্ষত।
নিঃসঙ্গতার কোলাহল থেকে, হেঁটে যাও
শিশিরের স্নানে, জীবনের পূর্ণতা নিয়ে।
- বিষয় :
- কবিতা