ময়মনসিংহে বিজয়ী জিলা স্কুল
বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ জিলা স্কুল এবং রানার্সআপ নেত্রকোনার আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতার্কিকসহ অংশগ্রহণকারীরা
তানভীর হোসাইন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
কার্তিকের স্নিগ্ধ সকালে তারেক স্মৃতি মিলনায়তন চত্বরে তৈরি হয়েছিল এক অন্যরকম দৃশ্যপট। ময়মনসিংহসহ শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল–সাত জেলা থেকে দল বেঁধে ছুটে এসেছিলেন খুদে বিতার্কিক, শিক্ষক এবং উৎসাহী অভিভাবকরা। বর্ণিল ব্যানার, ফেস্টুন আর ফুলের মালায় সেজে ওঠা পুরো অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছিল তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে। রেজিস্ট্রেশন পর্ব শেষ হতেই শিক্ষার্থীদের তিনটি ভিন্ন কক্ষে শুরু হয় প্রথম রাউন্ডের তীব্র লড়াই। বিজ্ঞানের নানা জটিল তত্ত্ব, মহাকাশ গবেষণা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রযুক্তির ভালো-মন্দের নানামুখী যুক্তিতে জমে ওঠে আসর। বিচারকদের কঠিন প্রশ্নবাণ আর খুদে বিতার্কিকদের তাৎক্ষণিক যুক্তিখণ্ডন মুগ্ধ করে সবাইকে।
চ্যাম্পিয়নদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে সেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। দিনব্যাপী এ উৎসব তারুণ্যের উচ্ছ্বাস ও যুক্তির দ্যুতিতে মুখরিত ছিল মিলনায়তন।
গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ নগরীর প্রাণকেন্দ্র টাউন হল প্রাঙ্গণের তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে এ বর্ণিল উৎসবের আয়োজন করা হয়। পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় ছিল সমকাল সুহৃদ সমাবেশ।
প্রাথমিক রাউন্ডের টানটান উত্তেজনার পর শুরু হয় আরও রোমাঞ্চকর সেমিফাইনাল পর্ব। গাজীপুরের আবেদ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নেত্রকোনার আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ জিলা স্কুল এবং জামালপুর জিলা স্কুলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ফাইনালে জায়গা করে নেয় স্বাগতিক ময়মনসিংহ জিলা স্কুল ও নেত্রকোনার আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। দুপুরের বিরতির পর বিকেল ৩টায় শুরু হয় ফাইনাল পর্ব। ‘ডিজিটাল আসক্তি রোধে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ থাকা উচিত’–এই সময়োপযোগী বিষয়বস্তুর ওপর চলে চূড়ান্ত বিতর্ক। ডিজিটাল যুগের অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও আধুনিক শিক্ষার প্রয়োজনের পক্ষে যেমন যুক্তির ফুলঝুরি ছুটেছিল, তেমনি অতিরিক্ত স্ক্রিনটাইম ও আসক্তি নিবারণে নিয়ন্ত্রণের জোরালো দাবি উপস্থাপন করে বিতার্কিকরা। বিচারকদের রায়ে ফাইনালে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে ময়মনসিংহ জিলা স্কুল। এ ছাড়া বিজয়ী দলের দলনেতা সাগ্নিক সরকার তার অনবদ্য বাচনভঙ্গি ও তথ্যবহুল যুক্তির কারণে টুর্নামেন্টের ‘শ্রেষ্ঠ বক্তা’ নির্বাচিত হয়। পড়ন্ত বিকেলের নরম আলোয় ট্রফি হাতে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের উল্লাস আর আনন্দধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। কুসংস্কার ও অন্ধত্ব দূর করে একটি বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠনে তরুণদের এই মেধা ও যুক্তির লড়াই এক নতুন আশার বার্তা ছড়িয়ে দেয়।
- বিষয় :
- সুহৃদ সমাবেশ