ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তিতর্কে প্রাণবন্ত বিভাগীয় উৎসব

চট্টগ্রামে চ্যাম্পিয়ন ফেনী

চট্টগ্রামে চ্যাম্পিয়ন ফেনী
×
×

চট্টগ্রাম শহরের বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন ফেনীর সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতার্কিকসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্

আহমেদ কুতুব

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘বিতর্ক মানে যুক্তি, বিজ্ঞানে মুক্তি’ প্রতিপাদ্যে চলছে ‘বিএফএফ-সমকাল জাতীয় বিজ্ঞান উৎসব ২০২৬।’ জেলা পর্যায়ে উৎসবমুখর বিতর্ক শেষে ২২ অক্টোবর ময়মনসিংহ ও সিলেট এবং ২৪ অক্টোবর চট্টগ্রামে বিভাগীয় উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন ও সমকালের যৌথ উদ্যোগে সুহৃদ সমাবেশের আয়োজনে ১২তম বিতর্ক আসরের পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি

সকাল ৯টা বাজতেই স্কুলের গেট দিয়ে ইউনিফর্ম পরা একের পর এক শিক্ষার্থী প্রবেশ করছে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে (বাওয়া)। তাদের কেউ এসেছে পার্বত্য এলাকা থেকে, কেউবা এসেছে সুদূর কক্সবাজার থেকে। ঘড়ির কাঁটা ১০টা ছুঁতেই মুখর হয়ে ওঠে বিতর্কের মঞ্চ। দিনভর তর্ক-বিতর্কের লড়াই শেষে সেই মঞ্চ আলোকিত করে এবারের বিভাগ সেরার হাসি হাসে ফেনী জেলার সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। বিভাগের চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা ঢাকার জাতীয় পর্বে চট্টগ্রামের প্রতিনিধিত্ব করবে। 
বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে আয়োজিত বিএফএফ-সমকাল জাতীয় স্কুল বিজ্ঞান বিতর্ক প্রতিযোগিতার চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্বে রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। 

এই বিভাগীয় বিতর্কে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো হলো–রাঙামাটি জেলার মনঘর রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কক্সবাজার জেলার বাঁকখালী উচ্চ বিদ্যালয়, বান্দরবান আইডিয়াল স্কুল, চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। 
এবারের আসরে সেরা বিতার্কিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী আফসানা হালিম তিশা। চ্যাম্পিয়ন এ স্কুলের অন্য দুই বিতার্কিক ছিল ফারিহা ইবনাত মুন ও সিদরাতুল মুনতাহা। অন্যদিকে রানার্সআপ হওয়া লক্ষ্মীপুর দলের তিন বিতার্কিক হলো– জান্নাতুল মাওয়া তিহি, সাবেকুন মুনতাসির জাফিয়া ও নূরে জান্নাত তানহা। 
সকালে আটটি স্কুল চারটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের মুখোমুখি হয়। ‘গ্রুপ এ’ টিমে চট্টগ্রামের মুখোমুখি হয় বান্দরবান জেলা। এতে চট্টগ্রামের হালিশহর পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন বিতার্কিক বিজয়ী হয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। একইভাবে গ্রুপ বি, সি ও ডি থেকে সেমিফাইনালে ওঠে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী জেলার তিনটি স্কুল। সেমিফাইনালে চট্টগ্রাম ও ফেনীর দ্বৈরথে বিজয়ী হয় ফেনী। আরেক সেমিফাইনালে নোয়াখালীকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে লক্ষ্মীপুর। পরবর্তী সময়ে জমজমাট ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয় বাওয়া স্কুল মিলনায়তনে; যেখানে শেষ হাসি হাসে ফেনীর সোনাগাজী মো. ছাবের সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। 

বিকেলে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। সমকালের চট্টগ্রাম রিজিওনাল এডিটর সারওয়ার সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে  অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, বাওয়ার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আরিফ উল হাছান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (বিএফএফ) নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী, সমকাল সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান এবং দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা বিতার্কিক মাসুদ বকুল। বিচারক ছিলেন কৃতী বিতার্কিক ফজল আল মাহমুদ অয়ন, আবু জুনায়েদ আসাদ, আকরাম হোসেন রানা, মোশাররফা পারভীন, আরোহী হাসান, খন্দকার তানভীন কায়েস, সিফাত নুর চৌধুরী, মেহরাব বিন মিজান, অরিজিৎ বড়ুয়া, কাজী আলদীন ফারদিন, মারুফ ইসলাম মুন্না ও আবদুল্লাহ আলভী। উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক তৌফিকুল ইসলাম বাবর, স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ কুতুব, আনোয়ারুল হায়দার, আতোয়ার রহমান, 
মো. রাশেদ প্রমুখ। 

আরও পড়ুন

×