মূলধন ছিল না, মনের জোরে সফলতা
সাপনা আক্তার
ফারহানা আক্তার
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩৪ | আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২০:১৩
খুলনার সোনাডাঙায় বানরগাতীর এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম সাপনা আক্তারের, সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তিনি এক ভাই, এক বোনের মধ্যে বড়। শৈশব কেটেছে নানাবাড়িতে। কারণ বাবা-মা দুজনই ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী। কর্মব্যস্ত বাবা-মায়ের ভালোবাসা ও সঙ্গ না পাওয়ায় ছোটবেলাতেই শিখেছেন দৃঢ়তা আর আত্মবিশ্বাসে দাঁড়িয়ে থাকতে। সেই একাকিত্বই তাঁকে করেছে শক্ত, অদম্য এবং সাহসী।
সাপনার নানাবাড়ি দৌলতপুরে। সেখানকার দৌলতপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু হয়। পরে যশোর এমএম কলেজ থেকে এমবিএ করেছেন। বর্তমানে খুলনার সিটি কলেজে প্রফেশনাল ল-তে অধ্যয়নরত।
সাপনা আক্তার বলেন, ‘‘অনেক বান্ধবীকে দেখতাম সংসারের পাশাপাশি অনেক কিছু করে। সারাদিন সংসার, সন্তানদের কথা ভাবতে গিয়ে দেখতাম নিজের স্বপ্নটা মরে যাচ্ছে। সংসারের দায়িত্বের পাশাপাশি মনে হলো শুধু সংসার নয়, নিজেকেও প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। প্রথম উদ্যোক্তা হওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও হার মানিনি। সাহস আর দৃঢ় মনোবল রাখতাম– আমি পারব। স্বপ্ন দেখলে তা বাস্তবায়ন করতে কষ্ট করতে হবে তা আমি জানতাম। নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে গেছি নতুন পথে। নিজের ভালো লাগাকে ব্যবসার হাতিয়ার বানিয়ে শুরু করলাম মানসম্মত হিজাব বিক্রি। ২০১৫ সালে অনলাইন পেজ খুললাম। নাম দিলাম ‘এন এ গ্যালারি’। বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতাম। এভাবেই শুরু হলো আমার স্বপ্নের উদ্যোগ।’’
তিনি আরও জানান, ২০১৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত শুধু অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে শোরুম নিয়েছেন। এরপর থেকে অনলাইন-অফলাইন, দুই জায়গায়ই ব্যবসা সামাল দিচ্ছেন। পরে কারিগরি দক্ষতা বাড়িয়ে সাপনা বানাতে শুরু করেন কাঠের মালা, চুড়ি এবং পাট ও কাপড়ের ব্যাগ। পুরোনো কাপড় দিয়ে ব্যাগ বানিয়ে পরিবেশ রক্ষার কাজেও যুক্ত হন তিনি। সাপনা বলেন, ‘প্রথম আয় ছিল মাত্র ২০০ টাকা। যদিও অঙ্কে ছোট, তবু আনন্দ ছিল সীমাহীন। কারণ গ্রাহকের হাসিই আমার কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য।’
উদ্যোক্তা হওয়ার পথে তাঁকে লড়তে হয়েছে সামাজিক বাধার সঙ্গে। সামান্য দেরিতে বাসায় ফিরলেও প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হতে হয়েছে। পরিবার ও সমাজ নানাভাবে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করেছে। অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর স্বপ্ন তাঁকে কখনোই পিছু হটতে দেয়নি। ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে প্রথম বাধা ছিল পরিবার। পরিবারকে সময় দিয়ে তবেই ব্যবসা করতে পারব–এমন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। ব্যবসার কাঁচামাল সংগ্রহ করতে বাইরে যেতে হলে পরিবার কখনোই রাজি হতো না। তারপর ছিল মূলধনের অভাব। একেবারেই স্বল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা শুরু। কাস্টমারের সঙ্গে যোগাযোগ করাটাও ছিল চ্যালেঞ্জিং। সব কাজ নিজেকেই করতে হতো। কারও পরামর্শ পেতেন না। একমাত্র মায়ের সমর্থনই ছিল তাঁর অবলম্বন।
ধীরে ধীরে অনলাইনে ব্যবসায় গড়ে ওঠে তাঁর ব্র্যান্ড এন এ গ্যালারি। আজ খুলনায় তাঁর দুটি শোরুম রয়েছে। ব্যবসায় মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ২০০ টাকা থেকে শুরু হওয়া বিনিয়োগ এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েক লাখে। শুধু দেশে নয়, বিদেশিরাও পণ্য সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন দুজন কর্মী।
- বিষয় :
- সফল উদ্যোক্তা
- উদ্যোক্তা
