ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

কেনিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা

ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা

ক্ষোভে ফুঁসছে জনতা
×

গত ১ জুন মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ডাকে হাজারো মানুষ ফেমিসাইডকে ‘জাতীয় সংকট’ ঘোষণার দাবিতে নাইরোবির রাস্তায় বিক্ষোভ করেন ছবি: এএফপি

 শাহেরীন আরাফাত 

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৭:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

রক্তের দাগ আর কান্নার শব্দে ভারী হয়ে উঠেছে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির বাতাস। একের পর এক নারী হত্যার ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সাধারণ মানুষ। নারী অধিকারকর্মী, মানবাধিকার সংগঠন এবং শিশু সুরক্ষা গোষ্ঠীগুলোর ডাকে হাজার হাজার কেনিয়াবাসী ১ জুন (সোমবার) নাইরোবির রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের দাবি একটাই–নারী হত্যা বা ফেমিসাইডকে ‘জাতীয় সংকট’ ঘোষণা করতে হবে।
‘এন্ড ফেমিসাইড’ আন্দোলনের ব্যানারে আয়োজিত এই মিছিলে নারীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। গত কয়েক মাসের মধ্যে এটি ছিল লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীর ঢলে শহরের কেন্দ্রস্থলের যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। সাদা পোশাকে, হাতে লাল গোলাপ আর নিহতদের স্মরণে প্রতীকী কফিন নিয়ে তারা প্রতিবাদ জানান। একটি বড় দেয়ালে নিহত নারীদের নাম লেখা ছিল; যার ওপর বড় বড় অক্ষরে লেখা–‘কেনিয়ায় নারী হত্যা বন্ধ কর।’ 
এই বিক্ষোভের প্রধান অনুঘটক ছিল র‍্যাচেল ওয়ান্ডেটো নামের এক জনপ্রিয় গসপেল গায়িকার নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ১৬ মে রাতে নাইরোবিতে বাড়ি ফেরার পথে তিনজন দুর্বৃত্ত তাঁর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়া ওয়ান্ডেটো দুদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে কেনিয়াত্তা ন্যাশনাল হাসপাতালে মারা যান। এই মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, সরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না। রুবি আবুরা নামের এক বিক্ষোভকারী নিজের জীবনের করুণ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমার মাকে হত্যা করা হয়েছে আর আমি নিজে আমার প্রেমিকের ছুরিকাঘাতের শিকার হয়েছি। এত নারী খুন হচ্ছে, অথচ কেউ কিছু করছে না। আমাদের নারী নেত্রীদেরও কোনো ভূমিকা আমরা দেখছি না, এটি মেনে নেওয়া যায় না।’
শুধু নারী হত্যা নয়, শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাও কেনিয়ায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শিশু সেবা বিভাগের মুখ্য সচিব কারেন আজেংওর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১০ হাজার ৫০০-এর বেশি শিশু সুরক্ষাসংক্রান্ত মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৯৫২টি অপহরণ এবং ছয় হাজার ৮২০টি শিশু পরিত্যক্ত হওয়ার ঘটনা রয়েছে। প্রায় দুই হাজার ৩২৮ জন শিশুর কোনো খোঁজই নেই। এই উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানের কারণে বিক্ষোভকারীদের হাতে ‘শিশু হত্যা বন্ধ কর’ লেখা প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়। 

আরও পড়ুন

×