ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুঁজিবাজার সংস্কারে অগ্রগতি নেই

পুঁজিবাজার সংস্কারে অগ্রগতি নেই
×

.

আনোয়ার ইব্রাহীম

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৪৪

দেশের আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারে দুর্নীতি এবং গুরুতর ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি বহুকাল ধরেই ‘ওপেন সিক্রেট’। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর এ সংকট দূর করতে শীর্ষ নেতৃত্বে রদবদল করে অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব নিয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ব্যাংক খাতের ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছেন, যা এরই মধ্যে দৃশ্যমান। এর সুফলও পেতে শুরু করেছে অর্থনীতি। এমনকি পুঁজিবাজারও তার সুফল পাচ্ছে।
তবে বছর পেরিয়ে গেলেও খোদ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কোনো সংস্কার উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। উল্টো বিগত দুই দুর্নীতিবাজ খায়রুল হোসেন এবং অধ্যাপক শিবলী কমিশনের মতো কর্তৃত্ববাদী মানসিকতায় অভিযোগ আছে। স্টক এক্সচেঞ্জসহ বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠা ছাড়াও খোদ কমিশন কর্মকর্তারা এ অভিযোগ করেছেন।
শীর্ষ বাজার মধ্যস্থতাকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, কমিশন আদতে কী সংস্কার করছে, তা 
তারা জানেন না। বিএসইসি গঠিত সংস্কার টাস্কফোর্স স্রেফ আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড এবং মার্জিন ঋণ বিধিমালা সংশোধন নিয়ে বেশি আগ্রহী ছিল।
কী ধরনের সংস্কার বাজার প্রত্যাশা করে জানতে চাইলে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, বিগত কমিশনের সময়ে কী কী দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে, কোন দুর্বলতায় সেগুলো সংগঠিত হলো, কমিশনের চেয়ারম্যানসহ কতিপয় কমিশনার ও কর্মকর্তা কীভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করলেন, কেন তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেল না এবং ভবিষ্যতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় কী– এমন কোনো আলোচনা হয়নি। ফলে কী সংস্কার হবে বোঝাই যাচ্ছে।
তারা আরও জানান, এ কমিশন দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ১০ মাস পুরো বাজারই মৃত ছিল। ক্রমাগত দর পতন হয়েছে। যারা বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা ২০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজি খুঁইয়েছেন। এর মধ্যেও ২৫-৩০টি শেয়ার নিয়ে কারসাজি হয়েছে, যা ঠেকাতে পারেনি কমিশন। দেড় বছর বাজারে কোনো আইপিও নেই। শুধু এর সঙ্গে ওর সঙ্গে বৈঠক করছে, কোনো ফল নেই।
জানতে চাইলে ব্রোকারদের সংগঠন ডিবিএর সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সংস্কারের সুপারিশ প্রণয়নে একটা টাস্কফোর্স করা হয়েছিল। টাস্কফোর্সের মতো একটি আনুষ্ঠানিক বডির যেভাবে সংলাপ করার কথা ছিল, সে রকম আনুষ্ঠানিক বা সিরিয়াসনেসের ব্যাপক ঘাটতি দেখেছি।’
এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, টাস্কফোর্স সদস্যদের সবাই নিজ নিজ পেশায় গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। নিজ কাজের বাইরে কিছুটা সময় বের করে কাজ করেছেন। এমনও হয়েছে– ডিবিএর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে ৩টায়, আর ওই বিষয়ে টাস্কফোর্স কমিশনের কাছে ৪টায় সুপারিশ জমা দিয়েছে। এমন আলোচনায় কী সমস্যা চিহ্নিত হলো, তার সমাধানের কী পথই বের হবে– প্রশ্ন তাঁর।
এ বিষয়ে কথা হয়েছে বিগত ১৬ বছরের সংগঠিত সুনির্দিষ্ট ১২টি অনিয়ম বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য ও সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানির এইমস বাংলাদেশের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রায় প্রতিটি ঘটনাতে লক্ষ্য করেছি– অনিয়মগুলো সংগঠিত হয়েছে কমিশনের জ্ঞাতসারে, কমিশনের চেয়ারম্যান বা কমিশনারের ইচ্ছায়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের নোট উপেক্ষা করা হয়েছে, নোট ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, বা গায়েব করা হয়েছে। এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে বা যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রভাবশালী বা স্বার্থান্বেষী মহলকে আইনি ছাড় দেওয়া হয়েছে। এখানে সবার ‘নেক্সাস’ ছিল। এমন অবস্থার পুনরাবৃত্তি রোধে কিছু নীতি-সুপারিশ দিয়েছি। প্রতিটি তদন্ত রিপোর্টে নীতি সুপারিশ আছে। এর বাইরে ১৩ নম্বর একটি প্রতিবেদন দিয়েছি শুধু নীতি সুপারিশ নিয়ে। এখন কমিশন কী করবে, তা তাদের বিষয়।
আদতে সংস্কার কী হচ্ছে?
গত কয়েক দিন বিএসইসি কী সংস্কার পদক্ষেপ নিচ্ছে– সে বিষয়ে কমিশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আইপিও বিধিমালা, মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা এবং মার্জিন (শেয়ার কিনতে ঋণ) বিধিমালা সংশোধন ছাড়া আর কোনো সংস্কার আলোচনা কমিশনে নেই।
শেয়ারবাজারে আমূল সংস্কারের লক্ষ্যে ১৭টি বিষয়ে সংস্কার সুপারিশ প্রণয়নে গত বছরের অক্টোবরে সংস্কার টাস্কফোর্স গঠন করে বিএসইসি। গত জুন নাগাদ টাস্কফোর্স ৮টি ইস্যুতে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে আইপিও, মিউচুয়াল ফান্ড এবং মার্জিন ঋণ বিধিমালা বিষয়ে টাস্কফোর্সই সংবাদ সম্মেলন করে তার খসড়া প্রকাশ করেছিল। বাকিগুলো প্রকাশ করেনি। কমিশনের কর্মকর্তারাও জানান, বাকিগুলো বিষয়ে তারাও জানেন না।
জানতে চাইলে কমিশনের মুখপাত্র ও পরিচালক আবুল কালাম সমকালকে বলেন, টাস্কফোর্স আটটি বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে টাস্কফোর্সের সুপারিশ আমলে নিয়ে গত কমিশন সভায় মার্জিন ঋণ সংশোধন খসড়া জনমত যাচাইয়ের জন্য প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিগগির বাকি দুটির বিষয়ে একই সিদ্ধান্ত হবে।
কী সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছেন জানতে চাইলে টাস্কফোর্স সদস্য ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠা হুদা ভাসি চৌধুরীর সিনিয়র পার্টনার এ এফ নেসারউদ্দিন ওই তিন বিধিমালার বাইরে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নীতিমালা, স্টক এক্সচেঞ্জের ডিমিউচুয়ালাইজেশন সুপারিশ বিষয়ে স্মরণ করতে পারলেন। 
বিগত কমিশনে শীর্ষ কর্মকর্তারা যে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে সরাসরি জড়িত হয়েছিলেন বা প্রত্যক্ষভাবে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন, যার প্রমাণ গণমাধ্যম ছাড়াও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও এসেছে, সে ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কোনো সুপারিশ দিয়েছেন কিনা– এমন প্রশ্নে নেসারউদ্দিন বলেন, ‘এমন কোনো সুপারিশ দেননি। তবে কমিশনের কাজ পর্যবেক্ষণে স্বতন্ত্র বডি করার কথা বলেছি।’
বিএসইসি ১৭টি বিষয়ে সুপারিশ চাইলে কেন ৮টি বিষয়ে সুপারিশ দিলেন– এমন প্রশ্নে টাস্কফোর্সের এ সদস্য বলেন, ‘টাস্কফোর্সকে যে কাজ দেওয়া হয়েছে এটা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৮-১০ মিলিয়ন ডলার (একশ থেকে সোয়াশ কোটি টাকা) ব্যয়ে দেশি-বিদেশি পরামর্শক সমন্বয়ে করার ব্যাপার। এটা আমাদের মতো টাস্কফোর্সের কাজ না। তা সত্ত্বেও সাধ্যানুযায়ী কাজ করেছি। যে ৮টি সুপারিশ দিয়েছি তা কমিশনের চাওয়া ১৭ ইস্যুতে চাওয়া পরামর্শকে কোনো না কোনোভাবে পূরণ করে।’ অংশীজনের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা করা হয়নি– এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনারও বাস্তবায়ন নেই
শেয়ারবাজারে ক্রমাগত দর পতনে মানুষের ক্ষোভ বাড়লে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত ১১ মে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠকে তিন মাসের মধ্যে বিদেশি পরামর্শক এনে নিরপেক্ষ সংস্কার প্রস্তাব তৈরির নির্দেশ দেন। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো পরামর্শক নিয়োগ হয়নি। 
এ নির্দেশনাগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি জানতে কমিশনে যোগাযোগ করা হলে কেউ প্রকৃত তথ্য দিতে পারেননি। সবাই জানান, এ বিষয় কমিশনার ও চেয়ারম্যান তত্ত্বাবধান করছেন। একাধিক দিন চেয়ারম্যানের দপ্তরে গিয়ে সাক্ষাৎ চেয়েও পাওয়া যায়নি।
তবে ভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টা বিগত সময়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত জুলাই পর্যন্ত বর্তমান কমিশন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মোট এক হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা জরিমানা করেছে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে বিএসইসি। এ পরিমাণ জরিমানার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র দুই থেকে তিন কোটি টাকা।
দেশীয় বড় কোম্পানির সঙ্গে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা। এ নিয়ে বিএসইসি বেশ কিছু বৈঠক করেছে। তবে ফলাফল শূন্য। সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির বিষয়েও 
অগ্রগতি নেই। বড় কোম্পানিগুলোকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যানের আলোচনা হয়েছে। এ নিয়ে কমিটিও হয়েছে।
পাশাপাশি শেয়ারবাজার সংস্কার করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে তিন মাসের মধ্যে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ করে পরামর্শ ও সুপারিশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। নাম প্রকাশ না করা শর্তে বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, সর্বশেষ জুনে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ বিষয়ে ফাইল দেখেছিলেন, তাতে ‘টার্মস অব কন্ডিনেশন’ কী হবে, তার উল্লেখ ছিল। পরে এ-সংক্রান্ত কোনো অগ্রগতি জানা নেই। 
কমিশনের ভেতরে প্রশাসনিক সংকট
সংস্কারের অগ্রগতি না হওয়ার পাশাপাশি কমিশনের ভেতরেও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। একজন নির্বাহী পরিচালককে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোয় গত মার্চে কর্মকর্তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। গত ৫ মার্চ কমিশনের চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তাদের কমিশন বোর্ড রুমে অবরুদ্ধ করে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন কিছু কর্মকর্তা। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়। এ ছাড়া ২২ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। যাদের বরখাস্ত করা হয়, তারা নিজেদের নিরপরাধ বলছেন। যদিও সাংবাদিকদের বিএসইসির চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের প্রমাণ আছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক কর্মকর্তা জানান, কমিশনের চাকরিবিধিতে অনিয়মের কারণে গুরুদণ্ড দেওয়ার বিধান আছে। সে পথে ব্যবস্থা না নিয়ে অবসরে পাঠালে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হলো না। কমিশন কর্মকর্তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিপক্ষে নন। তারা চেয়েছিলেন, আইনি কাঠামোর মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে দৃষ্টান্ত তৈরি হয়। তবে এ ঘটনায় কমিশনও যেভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে, তা অনেকটা প্রতিহিংসামূলক বলে অভিযোগ করেন তিনি। 
কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, কমিশনে কাজ বেড়েছে। কিন্তু একসঙ্গে ঊর্ধ্বতন ২৫-২৬টি পদ খালি হওয়ায় কাজের চাপ বেড়েছে, মান কমেছে। কিন্তু কমিশনের সেদিকে নজর নেই। যারা অফিস শৃঙ্খলাবিরোধী কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে এ বিষয়ে সুরাহায় কমিশনের তাগিদ কম। 
স্টক এক্সচেঞ্জ চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচ শীর্ষ পদের তিনটি এখন অধস্তন কর্মকর্তাদের ভারপ্রাপ্তের দায়িত্ব দিয়ে চলছে। প্রধান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (সিআরও) পদ সম্প্রতি শূন্য হয়েছে। এ বিষয়ে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ডিএসই এখন যেভাবে 
শীর্ষ পদের কর্মকর্তা ছাড়া জোড়াতালি দিয়ে চলছে, তার নজির বিশ্বের আর একটি দেশেও মিলবে না। এমন ঘটনা বর্তমান কমিশনের সামনেই ঘটছে। অবাক হই এটা কী করে হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো টাস্কফোর্স বা তদন্ত কমিটির দরকার নেই। 
বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকীও এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি ও কারসাজির জন্য আইন সমস্যা নয়। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত এই আইন দিয়ে বাজার সামলেছি। কোনো সমস্যা হয়নি। সমস্যা হচ্ছে ব্যক্তির। এখানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যাকে নিয়োগ দেওয়া হলো, তিনি যদি পদের মর্যাদা না রাখেন, বা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন, তাহলেই সংকট তৈরি হয়।’
ফারুক আহমেদ ‍সিদ্দিকী আরও বলেন, ব্যাংকের তুলনায় শেয়ারবাজার সংস্কার একটু জটিল। তবে আইপিও, মার্জিন বা মিউচুয়াল ফান্ডের বিধিমালা সংশোধন নিয়ে কমিশন এক বছর পড়ে আছে– এটাই অবাক করার বিষয়। চাইলে এগুলো তিন মাসে সংশোধন করতে পারত। 
সার্বিক অবস্থাদৃষ্টে সংস্কারের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কা করেন ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, এটা ঠিক গত এক বছরে কিছু কারসাজি হলেও বড় সিন্ডিকেট হয়নি। আবার এ সময়ে একটি আইপিও বা মিউচুয়াল ফান্ড আসেনি। শুরুতে স্টক এক্সচেঞ্জসহ অংশীজনের সঙ্গে কমিশনের দূরত্ব ছিল, সরকারের হস্তক্ষেপে তা কমেছে। আবার স্টক এক্সচেঞ্জের যে স্বকীয়তা নষ্ট হয়েছিল, তা এখনও ফিরে আসেনি। অতীতে যেসব খারাপ শেয়ার এসেছে, সেগুলো ক্রমান্বয়ে তালিকাচ্যুত করার পাশাপাশি নতুন ও ভালো কোম্পানি দিয়ে ওই শূন্যতা পূরণ করা দরকার। এমন উদ্যোগ এখনও দেখা যাচ্ছে না। 
সাইফুল ইসলাম বলেন, এক বছর সময় চলে গেছে। এমন নিরপেক্ষ সরকার আর পাব 
না। উচিত ছিল এ সরকারের সময়ে বিগত ১৬ বছরের ১৫ বছরে অনিয়ম ঘটনাগুলো নথিভুক্ত করা, যাতে সেগুলো দেখে আমরা সতর্ক থাকতে পারি।

আরও পড়ুন

×