ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

মালয়েশিয়ায় দোকান থেকে শপিংমলে প্রাণের পণ্য

মালয়েশিয়ায় দোকান থেকে  শপিংমলে প্রাণের পণ্য
×

কুয়ালালামপুরে মাইডিন শপিং মলে প্রাণপণ্যের কর্নার সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি, কুয়ালালামপুর থেকে ফিরে 

প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৪

বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী অন্যতম বৃহৎ কোম্পানি প্রাণের জন্য মালয়েশিয়া গুরুত্বপূর্ণ বাজার হয়ে উঠছে। বাংলাদেশিদের পাশাপাশি এখানে বসবাসকারী স্থানীয় মালয়, ভারতীয়, চায়নিজ ও নেপালিজ জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস বাংলাদেশের সঙ্গে অনেক মিল থাকায়  প্রাণপণ্যের  চাহিদা বাড়ছে। প্রাণের  স্ন্যাকস, স্পাইসি খাবার, নুডলস, ফ্রোজেন খাদ্যপণ্য, বিস্কুট, বেভারেজসহ নানা পণ্য  ছোট মুদি দোকান থেকে শুরু করে শপিংমল সর্বত্রই পাওয়া যাচ্ছে।  
মালয়েশিয়ায় প্রাণ ব্র্যান্ডের ৮৫০টি পণ্য বাজারজাত হচ্ছে। দেশ থেকে সরাসরি রপ্তানির পাশাপাশি সেখানে  প্রাণের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান পিনাকল ফুডস দেশটিতে প্রাণ ব্র্যান্ডে কোকোনাট ওয়াটার, ড্রিংকিং ওয়াটার, এনার্জি ড্রিংকস, বিস্কুট, স্ন্যাকস, কনডেনস্ড মিল্ক, চাল, ডাল, কুকিং অয়েল বিপণন করছে, যা তারা মালয়েশিয়া ও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে চুক্তিভিত্তিক  উৎপাদন করে। এর মধ্যে ভিয়েতনাম থেকে বাসিল সিড, কোকোনাট ড্রিংকস, পাওয়ার এনার্জি ড্রিংকস এবং মালয়েশিয়া থেকে কনডেনস্ড মিল্ক, স্ন্যাকস, ড্রিংকিং ওয়াটার, কুকিং ওয়েল, চাল, ডাল চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন করে বাজারজাত করছে। 
বর্তমানে প্রাণের লোগোসংবলিত ১২০টি গাড়ির মাধ্যমে পণ্য বাজারজাত করছে পিনাকল ফুডস। তাদের মালয়েশিয়ার ১৩টি রাজ্যের মধ্যে ১১টিতে অফিস রয়েছে। বিপণনসহ সার্বিক কাজে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় এক হাজার কর্মী। বর্তমানে মালয়েশিয়ার প্রতিটি বড়  শপিংমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রোসারি দোকানে প্রাণ ব্র্যান্ডের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। মাইদিন, কে কে সুপার মার্ট, ইকনসেভ, জায়ান্ট, ইয়নসহ উল্লেখযোগ্য শপিংমলগুলোতে প্রাণপণ্য পাওয়া যায়। পিনাকল ফুডসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সেখানকার ক্রেতাদের ৯০ শতাংশ স্থানীয় মালয় জনগণ। 
কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় প্রাণ সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বের হালাল পণ্যের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী মিহাস ফেয়ারে অংশ নেয়। প্রদর্শনী শুরুর আগে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী সমকালকে বলেন, মালয়েশিয়ায় হালাল ফুডের বাজার ৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এসব পণ্যের চাহিদা মেটাতে দেশটি ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ডসহ পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে। বাংলাদেশ সব মিলিয়ে বছরে ৩০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের  পণ্য রপ্তানি করছে। অথচ হালাল ফুড নিয়ে কাজ করলে বাংলাদেশ থেকে  পাঁচ বিলিয়ন ডলারের পণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করা সম্ভব। 

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে তিন কোটি ৬০ লাখ লোকের বসবাস। সেখানকার মানুষ নুডলস, বিভিন্ন ধরনের স্ন্যাকস, ফ্রোজেন খাদ্যপণ্য, বিস্কুট, জুস, বেভারেজ পছন্দ করে। সেখানে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাণ বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলারের খাদ্যপণ্য মালয়েশিয়ায় রপ্তানি করছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে মসলা, নুডলস, জুস, ড্রিংকস, বিস্কুট, কুকিজসহ বিভিন্ন পণ্য। পিনাকল ফুডস মালয়েশিয়া ও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে বর্তমানে ৭০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য বিক্রি করছে। বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪০ শতাংশ। মালয়েশিয়ায় প্রাণপণ্যের প্রসেস ফুডের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। 
প্রাণ গ্রুপের চেয়ারম্যান জানান, বাংলাদেশ সরকার মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে হালাল পণ্য রপ্তানি নিয়ে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) কিংবা কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) চুক্তি করার মাধ্যমে দুদেশের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। 

প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, প্রাণ মালয়েশিয়ায় অংশীদারি ভিত্তিতে ব্যবসার মাধ্যমে বিশাল বাজার তৈরি করতে চায়। বাংলাদেশি পণ্যের বাজার বাড়াতে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া শ্রমিকরা ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠানে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে কর্মী নিয়োগে স্থানীয়রা প্রাধান্য পাওয়ায় প্রাণের মতো বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্য বিপণনে বেশ পিছিয়ে পড়তে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজের সুযোগ দেওয়া গেলে একদিকে যেমন বাংলাদেশি পণ্যের প্রসার ঘটাতে বড় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ব্যাপক কাজের সুযোগ তৈরি হবে।  মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন দেশটিতে হালাল ফুডের ব্যবসা বাড়াতে কাজ করতে পারে। সে ক্ষেত্রে তারা দুদেশের ব্যবসায়ী ও সরকারের মধ্যে সেতুবন্ধনে কাজ করবে এবং বাংলাদেশি পণ্যের সম্ভাবনাময় জায়গাগুলোতে কীভাবে কাজ করা যায়, সেগুলো নিয়ে ব্যবসায়ীদের দিকনির্দেশনা দিতে পারেন।  

আরও পড়ুন

×