ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

যেভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলো

যেভাবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলো
×

বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলো নর্থ সাউথ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৫ | ১২:১৮ | আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২৫ | ১৩:০৫

একটা সময় ছিল যখন যেসব শিক্ষার্থীরা সাধারণত কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারতো না তারাই মূলত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতো। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন। শুধু যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেনি এমন শিক্ষার্থীরাই নয়, এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও নিজের পছন্দমতো বিষয় পায়নি বলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দের বিষয়ে ভর্তি হয়।

এর মূল কারণ নিজের ভালো লাগার বিষয়ে পড়তে পারা। এছাড়া প্রথম সারির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মান যথেষ্ট ভালো। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজটের আশঙ্কা থাকে না, যার ফলে নির্দিষ্ট সময়ে পড়াশোনা শেষ করা যায়। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দিয়ে থাকে নানা ধরনের বৃত্তি  সুবিধা। যায় ফলে শিক্ষার্থীরা কম খরচে তাদের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করতে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে যার কারণে শিক্ষার্থীরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় প্রাথমিক পরিকল্পনা শুরু করেন ১৯৮০ এর দশকে, যা ১৯৮৯ সালে একটি কার্যপত্রে রূপ নেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক পরিচালক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশের জন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ধারণা কার্যপত্র প্রণয়ন করেন। সেখানে তিনি প্রায় অর্ধশত শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকের সঙ্গে এ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। ক্যানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। দেশে ফিরে তিনি ১৯৮৯ সালের ২৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাব জমা দেন। 

নানা প্রক্রিয়া শেষে জাতীয় সংসদে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হয়, ৫ আগষ্ট ১৯৯২। বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলো নর্থ সাউথ, যা ১২ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩ সালে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। এর পরপরই ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) প্রতিষ্ঠা পায়। 

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা আসছেন। বর্তমানে ২৬টির বেশি দেশের শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশ, যেমন- আমেরিকা, কানাডা, চীন ও জাপান থেকেও শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করতে আসছেন। এতে একদিকে যেমন বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হচ্ছে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে, তা প্রমাণিত সত্য। এখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের মুখাপেক্ষী না হয়ে শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের মুখাপেক্ষী। একজন শিক্ষককে ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সব ধরনের শিক্ষাসংক্রান্ত উপকরণ প্রদান করতে হয়। মোট কথা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে কার্যকর প্রক্রিয়া চলমান থাকে।

দেশে বর্তমানে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। ভবিষ্যতে আরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হবে। শিক্ষার মান আরও বাড়বে। এতে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ গমনের প্রবণতা কমার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও মেধা পাচার রোধ করাও সম্ভব হয়। এমনকি অনেক বিদেশি শিক্ষার্থীও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়তে বাংলাদেশে আসছে। এছাড়া, দেশে ও বিদেশে বিশাল কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী তৈরিসহ বিশাল জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রুপান্তরিত করার মাধ্যমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। যার শুরু হয়েছিল আইইউবিএটি প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে। 

আরও পড়ুন

×