মহাযুদ্ধের একজন
×
পি. কে. সরকার প্রবোধ
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২০ | ১২:০০
সেদিন সীমান্ত অতিক্রমের অভিপ্রায়ে পথ চলতে অজস্র কান্না-মৃত্যু- বেদনাবিধুর দৃশ্যের প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে আজও বেঁচে আছি। স্বামী পথক্লান্তিতে অনাহারে পাশে মরে পড়ে আছে। তারই ঘরনি, পাশে বসে চিড়া-মুড়ি খাচ্ছে। একটু এগিয়ে দেখলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক তার পাঁচ বছরের মৃত কন্যা বিজয়ার মুখে দিয়াশলাইয়ের কাঠি ছুঁইয়ে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিচ্ছেন। পথে এমন শত শত বিষণ্ণভরা দৃশ্য। ২ জুন ১৯৭১, শিকারপুর বর্ডারের ইছামতি নদী ভেলায় পার হয়ে ভারতের করিমপুরে রাতে পা রাখলাম। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অনেকেই ছিলেন আমাদের সঙ্গে। করিমপুর সীমান্তঘেঁষা গ্রাম। তখন মধ্যরাত্রি। এক কৃষক পরিবারের স্ত্রী সমাদরে খেতে দিলেন। অনেকদিন পর ভাত খেলাম আমরা দুই ভাই আমি ও পরিতোষ। সে রাতে সেই বাড়িতেও তিলঠাঁই ছিল না, চারদিকে শরণার্থী মানুষের ঢল।
কৃষ্ণনগর থেকে ট্রেনে শিয়ালদহ খেজুরিয়া ঘাট (ফারাক্কা) পার হয়ে এলাম মামাবাড়ি জলপাইগুড়ি শহরে। এখান থেকে হলদিবাড়ি সীমান্ত বেশি দূরে নয়। প্রতিরাতে ভারতীয় বিএসএফের মর্টারিং সাপোর্টে, মুক্তিযোদ্ধাদের হানাদারদের বিরুদ্ধে মেশিনগানের ফায়ারিংয়ের আওয়াজ শুনতে পেতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, যুদ্ধে যাব। মা, ভাই, বোন আছেন ওই পারে, বাংলাদেশে। সুপারি গাছে আমার টানানো মানচিত্র খচিত দেশের পতাকা। বুঝলাম, সর্বনাশ যা হওয়ার ইতোমধ্যে তা হয়ে গেছে। হয়তো ঘরবাড়ি সবই শেষ হয়ে গেছে।
একদিন কেষ্ট মামা আমাকে নিয়ে গেলেন হলদিবাড়ি বর্ডারে। সেখানে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সুবেদার মাহাবুব ভাই শারীরিক ও অস্ত্রের শর্টকোর্স ট্রেনিং দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের রণাঙ্গনে পাঠাতেন। আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলাম। ২০ জুলাই, '৭১ আমাদেরকে ৬ নম্বর সেক্টরভুক্ত সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর নওয়াজেসের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ওই দিনই তেঁতুলিয়া ব্রিজ অবস্থানে রাজাকারদের তাড়ানোর জন্য আমাদেরকে অপারেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হলো। সুবেদার আহম্মেদের নেতৃত্বে আমরা ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা রাইফেল ও হালকা মেশিনগান নিয়ে যাত্রা করলাম। রাত ৮টার দিকে আমরা প্রথম ফায়ার ওপেন করি। প্রাথমিক গুলির ধকল সামলে নিয়ে রাজাকাররা কাউন্টার ফায়ার শুরু করে। মনে হলো, এর মধ্যে পাকিস্তানের নিয়মিত বাহিনীর সদস্যও আছে। বৃষ্টির মতো অবিরাম গুলি বর্ষিত হচ্ছিল। একমাত্র সমতল ভূমি ছাড়া আমাদের সামনে কাভার করে ফায়ারিংয়ের কোনো অবস্থা ছিল না। বাধ্য হয়ে নিরাপদ অবস্থানে সরে আসতে হচ্ছিল। হঠাৎ বোমাসদৃশ কিছু আমার পায়ের কাছে নিক্ষিপ্ত হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচণ্ড ঝাঁকুনি, বারুদের গন্ধ আর ব্যথায় জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরে দেখলাম বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচে ব্যান্ডেজ বাঁধা। ব্যথায় সারা শরীর টনটন করছে। পা থেকে স্পিল্গন্টার অপসারণ করা হয়েছিল।
আমাকে জলপাইগুড়ি হসপিটালে দেখতে আসেন রংপুর ও দিনাজপুরের এমএনএ আ. রউফ ও মোশাররফ হোসেন, ভারতীয় সেনা অফিসার কর্নেল কেহের সিং কালকাট। জানতে পারলাম আমার রণাঙ্গনে যাওয়ার শারীরিক উপযুক্ততা ফিরে পেতে অনেক দিন লেগে যাবে। ইতোমধ্যে জলপাইগুড়ি জেলায় ধানেশ্বরী গ্রামে একটি প্রশিক্ষণ শিবির (ইয়ুথ ক্যাম্প) চালু হয়েছে। এই শিবিরের সাংকেতিক নাম 'দিল্লি ক্যাম্প'। সেখানে স্টুডেন্ট মোবাইলাইজার হিসেবে আমি যোগ দিই।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রেনিং নিতে আসা তরুণদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন কাজ করতাম, তাদের সঙ্গে কথা বলতাম। প্রথম দুই মাস আমিই একমাত্র মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে এখানে দায়িত্ব পালন করি। এরপর আসেন জনাব এম এ রহিম (ফরিদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক) আতাউর রহমান ক্যাম্প ইনচার্জ আমিনুর রহমান, ডেপুটি ক্যাম্প ইনচার্জ মিঠু ভাই, মেডিকেল অফিসার প্রফুলল্গ কুমার দেব, মিস্টার সান্যাল প্রমুখ। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আমাকে ক্লোদিং কোয়ার্টার মাস্টার হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের জামা-কাপড়-কেডস্, রেশন সামগ্রী ইত্যাদি সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের বিশালকায় ক্যাম্প রিক্রুট রেজিস্ট্রার প্রথমে আমি, পরবর্তী পর্যায়ে শিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে সংরক্ষণ করা হতো। মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর মুজিবনগর সরকারের চারটি প্রশাসনিক অঞ্চলভুক্ত করে পরিচালনা করা হতো। আমাদেরটি ছিল নর্দার্ন জোনের আওতায়। হেড কোয়ার্টার কোচবিহার।
মুখে ও ব্ল্যাকবোর্ডের চিত্র এঁকে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা শিক্ষা দেওয়া হতো। এই শিবিরের যে প্রথম দলটি উত্তরবঙ্গের মাটিতে রণাঙ্গনে পা রাখে, সেই দলটির শপথবাক্য পাঠ করানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছে (ফটোগ্রাম, সনদপত্র, চশমা স্মারকচিহ্ন হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁও ও দুটি চিত্র ফরিদপুর মিউজিয়ামে সংরক্ষিত)।
এক দিন ভাই পরিতোষ এসে জানাল, বীরেন কাকা ভারতে এসেছে। তিনি জলপাইগুড়ি জেলার প্রত্যন্ত ডাঙ্গী ক্যাম্পে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। লক্ষাধিক বাঙালি রিফিউজি হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। আমাকে দেখে কাকা-কাকি কাঁদতে লাগলেন। কাকার কাছ থেকে জানলাম, তারা ভেবেছিল আমাকে ফরিদপুরে সাধুদের সঙ্গে হত্যা করে হয়েছে। ডাঙ্গী ক্যাম্পে চলছিল সেদিন শবদেহ সৎকারের পালা। লম্বা সারি সারি ড্রেন কাটা। হিন্দু-মুসলমান শ্রেণিভেদ নেই, নেই কোনো আবরণ, লৌকিকতার পালা। স্বাধীনতা যুদ্ধে অকাল আত্মবলিদানের আজ কোনো নাম পরিচয় নেই, সংরক্ষিতও হয়নি। ওরা বেঁচে আছে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যার নামাবলিতে।
৬নং সেক্টর হেড কোয়ার্টার বুড়িমারী ছিল দেশের অভ্যন্তরে একমাত্র মুক্তাঞ্চল। এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বকীয়তার দাবিদার। এই সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা অসম শৌর্য-বীর্য দিয়ে এই সেক্টর হেড কোয়ার্টার বুড়িমারীকে মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষাবধি শত্রুমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিল দেশের অভ্যন্তরে।
৩ ডিসেম্বরের পর আমাদের সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা যৌথ কমান্ডের অধীনে দুর্বার গতিতে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা অতিদ্রুত সেক্টরাঞ্চলভুক্ত বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়।
লেখক, মুক্তিযোদ্ধা
অনুলিখন ::হাসানউজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
কৃষ্ণনগর থেকে ট্রেনে শিয়ালদহ খেজুরিয়া ঘাট (ফারাক্কা) পার হয়ে এলাম মামাবাড়ি জলপাইগুড়ি শহরে। এখান থেকে হলদিবাড়ি সীমান্ত বেশি দূরে নয়। প্রতিরাতে ভারতীয় বিএসএফের মর্টারিং সাপোর্টে, মুক্তিযোদ্ধাদের হানাদারদের বিরুদ্ধে মেশিনগানের ফায়ারিংয়ের আওয়াজ শুনতে পেতাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, যুদ্ধে যাব। মা, ভাই, বোন আছেন ওই পারে, বাংলাদেশে। সুপারি গাছে আমার টানানো মানচিত্র খচিত দেশের পতাকা। বুঝলাম, সর্বনাশ যা হওয়ার ইতোমধ্যে তা হয়ে গেছে। হয়তো ঘরবাড়ি সবই শেষ হয়ে গেছে।
একদিন কেষ্ট মামা আমাকে নিয়ে গেলেন হলদিবাড়ি বর্ডারে। সেখানে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সুবেদার মাহাবুব ভাই শারীরিক ও অস্ত্রের শর্টকোর্স ট্রেনিং দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের রণাঙ্গনে পাঠাতেন। আমি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হলাম। ২০ জুলাই, '৭১ আমাদেরকে ৬ নম্বর সেক্টরভুক্ত সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর নওয়াজেসের অধীনে ন্যস্ত করা হয়। ওই দিনই তেঁতুলিয়া ব্রিজ অবস্থানে রাজাকারদের তাড়ানোর জন্য আমাদেরকে অপারেশনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হলো। সুবেদার আহম্মেদের নেতৃত্বে আমরা ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা রাইফেল ও হালকা মেশিনগান নিয়ে যাত্রা করলাম। রাত ৮টার দিকে আমরা প্রথম ফায়ার ওপেন করি। প্রাথমিক গুলির ধকল সামলে নিয়ে রাজাকাররা কাউন্টার ফায়ার শুরু করে। মনে হলো, এর মধ্যে পাকিস্তানের নিয়মিত বাহিনীর সদস্যও আছে। বৃষ্টির মতো অবিরাম গুলি বর্ষিত হচ্ছিল। একমাত্র সমতল ভূমি ছাড়া আমাদের সামনে কাভার করে ফায়ারিংয়ের কোনো অবস্থা ছিল না। বাধ্য হয়ে নিরাপদ অবস্থানে সরে আসতে হচ্ছিল। হঠাৎ বোমাসদৃশ কিছু আমার পায়ের কাছে নিক্ষিপ্ত হলো। কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রচণ্ড ঝাঁকুনি, বারুদের গন্ধ আর ব্যথায় জ্ঞান হারালাম। জ্ঞান ফিরে দেখলাম বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচে ব্যান্ডেজ বাঁধা। ব্যথায় সারা শরীর টনটন করছে। পা থেকে স্পিল্গন্টার অপসারণ করা হয়েছিল।
আমাকে জলপাইগুড়ি হসপিটালে দেখতে আসেন রংপুর ও দিনাজপুরের এমএনএ আ. রউফ ও মোশাররফ হোসেন, ভারতীয় সেনা অফিসার কর্নেল কেহের সিং কালকাট। জানতে পারলাম আমার রণাঙ্গনে যাওয়ার শারীরিক উপযুক্ততা ফিরে পেতে অনেক দিন লেগে যাবে। ইতোমধ্যে জলপাইগুড়ি জেলায় ধানেশ্বরী গ্রামে একটি প্রশিক্ষণ শিবির (ইয়ুথ ক্যাম্প) চালু হয়েছে। এই শিবিরের সাংকেতিক নাম 'দিল্লি ক্যাম্প'। সেখানে স্টুডেন্ট মোবাইলাইজার হিসেবে আমি যোগ দিই।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ট্রেনিং নিতে আসা তরুণদের মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন কাজ করতাম, তাদের সঙ্গে কথা বলতাম। প্রথম দুই মাস আমিই একমাত্র মুজিবনগর সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হিসেবে এখানে দায়িত্ব পালন করি। এরপর আসেন জনাব এম এ রহিম (ফরিদপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক) আতাউর রহমান ক্যাম্প ইনচার্জ আমিনুর রহমান, ডেপুটি ক্যাম্প ইনচার্জ মিঠু ভাই, মেডিকেল অফিসার প্রফুলল্গ কুমার দেব, মিস্টার সান্যাল প্রমুখ। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে আমাকে ক্লোদিং কোয়ার্টার মাস্টার হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের জামা-কাপড়-কেডস্, রেশন সামগ্রী ইত্যাদি সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের বিশালকায় ক্যাম্প রিক্রুট রেজিস্ট্রার প্রথমে আমি, পরবর্তী পর্যায়ে শিক্ষিত মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়ে সংরক্ষণ করা হতো। মুক্তিযুদ্ধের ১১টি সেক্টর মুজিবনগর সরকারের চারটি প্রশাসনিক অঞ্চলভুক্ত করে পরিচালনা করা হতো। আমাদেরটি ছিল নর্দার্ন জোনের আওতায়। হেড কোয়ার্টার কোচবিহার।
মুখে ও ব্ল্যাকবোর্ডের চিত্র এঁকে মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা শিক্ষা দেওয়া হতো। এই শিবিরের যে প্রথম দলটি উত্তরবঙ্গের মাটিতে রণাঙ্গনে পা রাখে, সেই দলটির শপথবাক্য পাঠ করানোর সৌভাগ্য আমার হয়েছে (ফটোগ্রাম, সনদপত্র, চশমা স্মারকচিহ্ন হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর আগারগাঁও ও দুটি চিত্র ফরিদপুর মিউজিয়ামে সংরক্ষিত)।
এক দিন ভাই পরিতোষ এসে জানাল, বীরেন কাকা ভারতে এসেছে। তিনি জলপাইগুড়ি জেলার প্রত্যন্ত ডাঙ্গী ক্যাম্পে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। লক্ষাধিক বাঙালি রিফিউজি হয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। আমাকে দেখে কাকা-কাকি কাঁদতে লাগলেন। কাকার কাছ থেকে জানলাম, তারা ভেবেছিল আমাকে ফরিদপুরে সাধুদের সঙ্গে হত্যা করে হয়েছে। ডাঙ্গী ক্যাম্পে চলছিল সেদিন শবদেহ সৎকারের পালা। লম্বা সারি সারি ড্রেন কাটা। হিন্দু-মুসলমান শ্রেণিভেদ নেই, নেই কোনো আবরণ, লৌকিকতার পালা। স্বাধীনতা যুদ্ধে অকাল আত্মবলিদানের আজ কোনো নাম পরিচয় নেই, সংরক্ষিতও হয়নি। ওরা বেঁচে আছে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যার নামাবলিতে।
৬নং সেক্টর হেড কোয়ার্টার বুড়িমারী ছিল দেশের অভ্যন্তরে একমাত্র মুক্তাঞ্চল। এটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বকীয়তার দাবিদার। এই সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা অসম শৌর্য-বীর্য দিয়ে এই সেক্টর হেড কোয়ার্টার বুড়িমারীকে মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকে শেষাবধি শত্রুমুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছিল দেশের অভ্যন্তরে।
৩ ডিসেম্বরের পর আমাদের সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধারা যৌথ কমান্ডের অধীনে দুর্বার গতিতে শত্রুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা অতিদ্রুত সেক্টরাঞ্চলভুক্ত বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুর শত্রুমুক্ত করতে সক্ষম হয়।
লেখক, মুক্তিযোদ্ধা
অনুলিখন ::হাসানউজ্জামান
নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর
- বিষয় :
- মহাযুদ্ধের একজন
