যখন যুদ্ধের ডাক এলো
--
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২০ | ১২:০০
হাজার বছরের বহিরাগত শত্রুর নির্যাতন-নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম আর আত্মত্যাগের সুদীর্ঘ ইতিহাস বাঙালির। তারই পথ ধরে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১-এর মার্চে পুরো জাতি ঐক্য ও আত্ম-বিস্ম্ফোরণের চূড়ান্ত বিন্দুতে এসে দাঁড়ায়। সেই কেন্দ্রবিন্দুর নাম বাংলাদেশ।
ইতিহাসের আবর্তে একের পর এক শাসক ও শোষকের পালাবদলের ভেতর দিয়ে ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভ্রান্ত ও সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ তাদের সর্বশেষ দখলদার শত্রুশক্তি পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়। বাঙালি শত্রুর মোকাবিলা রাজনৈতিকভাবেই করতে চেয়েছিল শেষ পর্যন্ত। ১৯৭০ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও পাকিস্তানিরা এ দেশের মানুষকে কেবল ক্ষমতা না দেওয়ার টালবাহানাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তারা নিরস্ত্র বাঙালিকে নির্বিচারে হত্যার ষড়যন্ত্র চূড়ান্ত করে। এই পরিস্থিতিতে নিজ দেশের মাটিকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করতে বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে কার্যত স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনি বলেন, 'তোমাদের যা-কিছু আছে তা-ই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে।' এবং 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলে।
২৫ মার্চ ১৯৭১- বাঙালি জাতির ওপর বর্বর হিংস্র আক্রোশে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। প্রধানত ঢাকায় সামরিক-বেসামরিক ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি করে তারা। সংঘটিত হয় ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যা। প্রতিরোধের শুরুও সেই কালরাত থেকেই। পরবর্তী দিনগুলোতে যা দানা বেঁধে ওঠে দেশের নানা প্রান্তে। বীর বাঙালি ঝাঁপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে।
মুক্তিযুদ্ধের অনিঃশেষ যাত্রাপথের বিবরণ এই জাতির ইতিহাসের অনিবার্য অধ্যায়। আমরা ফিরে তাকাতে চাই সেই দিনগুলোর দিকে- যখন মুক্তিযোদ্ধারা দেশমাতৃকাকে রক্ষায় জীবন বাজি রেখে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে গেছেন যুদ্ধক্ষেত্রে। রুদ্ধশ্বাস, রক্তাক্ত-ক্ষতবিক্ষত অভিজ্ঞতার সেইসব ডালি রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলে মেলে ধরেছেন সমকালের তৃণমূল প্রতিনিধিরা। করোনা আক্রান্ত বিশ্ব ও বাংলাদেশের বাস্তবতায় আমরা মনে করি, মহান মুক্তিযুদ্ধের মতোই সম্মিলিতভাবে এই দেশ ও দেশের মানুষকে আবারও আরেক যুদ্ধে জয়ী হতে হবে। আর তার প্রত্যয় আমরা পাব বাঙালির শৌর্য ও বীরত্বের সবচেয়ে বড় ঘটনা মহান মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে।
নিরাপদে থাকুন। ঘরে থাকুন। সুস্থ থাকুন।
সবাইকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।
-মুস্তাফিজ শফি
- বিষয় :
- যখন যুদ্ধের ডাক এলো
