ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

তবু সৌর আলোয় ভরসা পাচ্ছে গ্রাম

তবু সৌর আলোয়  ভরসা পাচ্ছে গ্রাম
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৮ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের গ্রামীণ এলাকায় হোম সোলার এখন ঘর আলোকিত ও শিক্ষায় সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সমকাল ও গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি দেশব্যাপী পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় সব পরিবার তাদের ঘর সম্পূর্ণভাবে আলোকিত করার জন্য পর্যাপ্ত সৌর আলো পাচ্ছে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (আইডিসিওএল হোম সোলার) ব্যবহারকারীর ৯৬ দশমিক ১২ শতাংশ এবং টিআর- কাবিটা ব্যবহারকারীর ৯৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ জানিয়েছে, তাদের ঘরে পুরোপুরি আলো পাওয়া যাচ্ছে। এতে দেশের মোট ঘরের আলোকিতের হার দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৭ শতাংশ।

এই ফলাফল প্রমাণ করে, যেখানে গ্রিড বিদ্যুৎ সীমিত বা অনির্ভরযোগ্য, সেখানে হোম সোলার কার্যকরভাবে আলো পৌঁছে দিতে সক্ষম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্রামীণ বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে হোম সোলারের ওপর ভরসা করা যায়। তবে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ ও মানোন্নয়নের ওপর নজর দেওয়া দরকার।

জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ এলাকায় ঘরের পুরোটা আলোকিত হচ্ছে। আইডিসিওএল হোম সোলার কর্মসূচি ও টিআর-কাবিটা উভয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রে অধিকাংশ জেলায় ১০০ শতাংশ আলোকিত হয়েছে। তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। যেমন– ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আইডিসিওএল হোম সোলার কর্মসূচির ঘর আলোকিতকরণের হার ৯৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং পটুয়াখালীতে উভয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রেই সবচেয়ে কম; প্রায় ৭২ শতাংশ।

শিক্ষার ক্ষেত্রে সৌর আলোর গুরুত্বও স্পষ্ট। জরিপে দেখা গেছে, আইডিসিওএল হোম সোলার কর্মসূচির ব্যবহারকারীর ৯৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং টিআর-কাবিটা ব্যবহারকারীর ৯৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য আলো যথেষ্ট। মোট মিলিয়ে শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত আলোর হার দাঁড়িয়েছে ৯৫ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে গাজীপুরে এটি কমে ৭০ দশমিক ৬ শতাংশ ও পটুয়াখালীতে ৫৫ দশমিক ৬ শতাংশে নেমেছে। বরগুনা ও কিশোরগঞ্জে এই হার ৯০ শতাংশের ওপরে।

গৃহস্থালির সন্তুষ্টি সূচকেও পার্থক্য দেখা গেছে। আইডিসিওএল হোম সোলার কর্মসূচির ব্যবহারকারীর গড় সন্তুষ্টি স্কোর ১০-এর মধ্যে ৫ দশমিক ৯৮ আর টিআর কাবিটা ব্যবহারকারীর গড় স্কোর ৮ দশমিক ২১। আইডিসিওএল হোম সোলার কর্মসূচির ক্ষেত্রে সন্তুষ্টির মান বিচ্যুতি ২ দশমিক ৮৮, অর্থাৎ ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা জেলাভিত্তিক বিভিন্ন। টিআর কাবিটার স্কোর তুলনামূলকভাবে ধারাবাহিক; মাত্র শূন্য দশমিক ৯৯। জেলা অনুযায়ী দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে আইডিসিওএল হোম সোলার কর্মসূচির ব্যবহারকারীরা কম সন্তুষ্ট, যেখানে জামালপুর ও সুনামগঞ্জে স্কোর ৯-এর বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হোম সোলার শুধু আলো দেয় না, পড়াশোনায়ও সহায়তা করে। তবে কিছু জেলায় মানোন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ বাড়ানো দরকার, যাতে সব পরিবার সমান সুবিধা পায়। সরকার ও নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ এবং সুযোগ উভয়েই তুলে ধরছে। গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুতের ঘাটতি দূর করতে, শিক্ষাসহ ঘরের অন্যান্য কার্যকর ব্যবহারের জন্য হোম সোলার সম্প্রসারণ এখনই জরুরি।

আরও পড়ুন

×