ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাজশাহীর অধিকাংশ সোলার সিস্টেম ৬ মাসেই অকেজো

রাজশাহীর অধিকাংশ সোলার সিস্টেম ৬ মাসেই অকেজো
×

 সৌরভ হাবিব, রাজশাহী

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২৫ | আপডেট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

২০১৫-১৬ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজশাহীর একেকটি উপজেলায় সোলার সিস্টেম স্থাপনের জন্য বরাদ্দ ছিল পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকা। সেই পরিকল্পনা থেকেই রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ও একটি থানা এলাকায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ হাজার ৫৪৬টি সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়। ২০২৩ সালে আট হাজার ৩১টি সোলারই অকেজো পাওয়া যায়। সরকারের কাবিখা, কাবিটা ও টিআর কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দ হয় এসব সোলার। তিন বছর ওয়ারেন্টির মেয়াদে দেওয়া হবে সব ধরনের সার্ভিসিং সেবার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু এসব স্থাপনার অধিকাংশই টেকেনি ছয় মাসের বেশি। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজশাহীর ৯টি উপজেলা ও নগরীর বোয়ালিয়া থানা এলাকায় অর্ধশত আট হাজার ৩৭৪টি সোলার হোম সিস্টেম, ছয় হাজার ৯৮৩টি সড়ক সৌরবাতি, ২৫৮টি এসি সিস্টেম, ২৮টি ডিসি সিস্টেম ও ৯০৩টি উন্নত সোলার চুলা স্থাপন হয়। এর জন্য প্রতিটি উপজেলায় পাঁচ থেকে সাত কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়। সৌরবাতির অধিকাংশই ছয় মাসও টেকেনি। সাধারণ সময়ের পাশাপাশি তারা লোডশেডিং হলে এসব সোলার ব্যবহার করতেন। বাসাবাড়িতে দেওয়া সোলার হোম সিস্টেম নষ্ট হলে বাড়ির লোকজন কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে মেরামত করে নিয়েছেন। কিন্তু যাদের সাধ্য নেই তাদের অধিকাংশই মেরামত করেননি।

২০২৩ সালে রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ছিলেন সালাহ উদ্দিন আল ওয়াদুদ। তিনি এখন ঢাকা জেলার একই পদের কর্মকর্তা। তিনি ওই বছর রাজশাহী জেলার সচল ও অচল সোলার নিয়ে একটি প্রতিবেদন করেছিলেন। সেই প্রতিবেদনে মোট ১৬ হাজার ৫৪৬টি সোলারের মধ্যে আট হাজার ৫১৫টি সচল এবং আট হাজার ৩১টি সোলার অচল বলে উল্লেখ করেন।

চারঘাট উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, হোম সোলার সিস্টেমগুলো ভালো সার্ভিস দেয়নি। সড়কবাতিও বেশি দিন জ্বলেনি। স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থাপনের পর কোনো খোঁজ রাখেনি। কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে কিছু চালু রেখেছেন। 

পুঠিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার আব্দুল জলিল বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডের সমেজের মোড়ে দুটি এবং তাহেরের মোড়ে দুটি সৌরবাতি স্থাপন করা হয়। এর কয়েকটি এক বছর, কয়েকটি ছয় মাস ভালো ছিল। এরপর নষ্ট হয়ে যায়। কেউ মেরামত করতে আসেনি। 

পুঠিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবা আক্তার বলেন, ‘এগুলো অনেক আগের প্রকল্প। তখন আসলে কী হয়েছিল তা জানি না।’
পবা উপজেলায় চার কোটি ৮২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫০ টাকা ব্যয়ে ৮৫৫টি সোলার সিস্টেম প্যানেল ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়। প্রতিটি ল্যাম্পপোস্টের বরাদ্দ ধরা হয় ৫৬ হাজার ৪৯০ টাকা। 

পবার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চারপাশে বেশ কয়েকটি সড়কবাতি লাগানো হলেও সেগুলো বেশিদিন জ্বলেনি।  বিকল থাকার বিষয়টি উপজেলা এবং জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। কিন্তু তা ঠিক করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পবা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল বাসির বলেন, স্থাপনের তিন বছর পরেই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এখন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো দায় নেই। নতুন বরাদ্দ এলে আবার নতুন করে স্থাপন করা হবে। 

রাজশাহী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার বলেন, ইডকলের সহযোগী বিভিন্ন কোম্পানি এসব সোলার স্থাপন কাজ করে। এগুলো বাসাবাড়ি, মসজিদ ও মন্দিরে স্থাপন করা হয়। প্রকল্পের সার্ভিসিং ওয়ারেন্টির মেয়াদ ছিল তিন বছর। সে সময় কোম্পানিগুলো সার্ভিস দেওয়ার কথা। তবে তখন তিনি এখানে দায়িত্বে ছিলেন না। 

আরও পড়ুন

×