ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রপ্তানির আয় ১৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য

রপ্তানির আয় ১৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য
×

কোলাজ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ | ১২:০৪

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে মোট ৬৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অর্জিত রপ্তানি আয়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

চলতি অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। সেবা থেকে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। গতকাল রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার মোট ৬৩ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার পণ্য ও সেবা রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের গত অর্থবছরের তুলনায় সামগ্রিক রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি ডলার কমানো হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার। তবে অর্থবছর শেষে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয়নি। গত অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে সেবা খাত থেকে প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে। অর্থাৎ পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে প্রায় ৫৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে। তবে সেবা রপ্তানির হিসাব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, গত দুটি অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে এক ধরনের মন্দাভাব ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দুটি যুদ্ধ চলমান, উন্নত দেশগুলোতে ভোগ কমেছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক রয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের বাজেটে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।

তিনি জানান, আগামী কিছু দিনের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়াসহ অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ব্যবসা সহজীকরণ এবং রপ্তানি গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের নাম পরিবর্তন হয়েছে, তবে শুল্কের হারে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ব্যবসায়ীরা স্থিতিশীল পরিবেশ ও নীতির পূর্বানুমান যোগ্যতা চান। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যবসায়ীরা সেই পূর্বানুমান করতে পারছেন। পাশাপাশি এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ নিশ্চিত হওয়ায় আগামী তিন বছরে দেশের পণ্যের বাজার-সুবিধা সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন রপ্তানি গন্তব্য দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। ফলে দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ঘাটতিসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও ১৫ শতাংশ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে।

রপ্তানি বহুমুখীকরণ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কোনো দেশের জন্য এত বেশি নির্ভরতা স্বস্তিদায়ক নয়। এ কারণে সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতের রপ্তানি বাড়াতে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগির এসব খাতভিত্তিক পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে। আমরা চাই, তৈরি পোশাক খাত থেকে ৮০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি হোক। পাশাপাশি অন্যান্য খাত থেকেও ১০০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় আসুক।

জ্বালানি সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ খুব সীমিত। বর্তমানে প্রতিদিন ৯০০ থেকে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। তবে দেশে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে এর বেশি এলএনজি আমদানি সম্ভব নয়। ফলে রাতারাতি জ্বালানি পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সরকার আরও দুটি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে এবং বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছে।

বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী বলেন, এটা সত্য, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানাগুলো তাদের স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে না। এ সমস্যার রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়। সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এটি সমাধানের চেষ্টা করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×