ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

আকবরের চোখ আগামীর দিকে

আকবরের চোখ আগামীর দিকে
×

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:১৭

দেশের মাটিতে পা দিয়ে বিমানবন্দর থেকে মিরপুর স্টেডিয়াম পর্যন্ত জনতার বাঁধভাঙা উল্লাস দেখেছেন বিশ্বকাপজয়ী যুবারা। তাই বলে আবেগে গা ভাসিয়ে দিচ্ছেন না তারা। অধিনায়ক আকবর আলী তো বেশ ভালোমতোই বাস্তবটা বোঝেন। তারা যে মাত্র পেশাদার ক্রিকেটের জগতে প্রবেশ করলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখতে হলে এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে এই ছোট বয়সে তারা কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন একটা স্তরে পৌঁছে দিয়েছেন। অধিনায়ক আকবর আলী মনে করছেন, এই শিরোপা হতে পারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির সোপান (স্টেপিং স্টোন)। বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে আকবরদের এই অর্জনই সেরা। আইসিসি ট্রফি জয়, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট জয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল, নারীদের এশিয়া কাপ জয়- সবকিছু ছাপিয়ে গেছে এই শিরোপা। এত বড় অর্জনের পরও কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে তাদের তেমন চাওয়া নেই। যদিও বিসিবি সভাপতি গতকাল আকবরকে পাশে বসিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন তাদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনার কথা। আগামী দুই বছর বিশেষ অনুশীলন ও মাসে এক লাখ করে টাকা দেওয়া হবে তাদের। এ জন্য বিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে আকবর বলেন, 'ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে যেটা পাব, তার জন্য আমি আগে থেকে তাদের ধন্যবাদ দিয়ে রাখছি। তবে সে রকম কোনো প্রত্যাশা নিয়ে কিন্তু আমরা বিশ্বকাপ খেলতে যাইনি। এই যেমন বোর্ড থেকে আমরা এটা নেব, ওটা নেব। যখন বিশ্বকাপে গেছি, তখন আমরা বলেই গিয়েছিলাম যে ফাইনাল খেলার টার্গেট নিয়ে বিশ্বকাপে যাচ্ছি। সেটা পূরণ করতে পেরেছি বলে সন্তুষ্ট আমরা। আর সমর্থকদের কাছ থেকে যেটা প্রত্যাশা, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য প্যাশন অনেক বেশি। সব সময় তারা যেমন সমর্থন করে আসছেন আমাদের, সে সমর্থনটাই প্রত্যাশা করব।'
আকবরের চাওয়া বরং পরবর্তী পর্যায়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা, 'আগামী দুই দিন হয়তো আমরা আনন্দ করব। এরপরই কাজে ফিরে যাব। ফাইনালে জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটো দিন আমরা সময় পেয়েছি। তখন টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা বুঝিয়েছেন যে আমাদের পেশাদার ক্যারিয়ার কেবল শুরু। স্রোতে গা ভাসিয়ে না দিয়ে পরবর্তী পর্যায়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগে যেন বসে না থাকি।' তবে আন্তর্জাতিক লেভেলের সঙ্গে যুব দলের পার্থক্যটা বোঝেন বলেই ভবিষ্যতে তাদের কাজটা অনেক কঠিন বলেও মনে করছেন তিনি, 'অনূর্ধ্ব-১৯ বা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বা সিনিয়র লেভেলের ক্রিকেটের একটা বিরাট ব্যবধান রয়েছে। আশা করব, বোর্ড আমাদের নিয়ে যে পরিকল্পনাগুলো সাজাবে, সেখানে নিজেদের সর্বোচ্চ দিয়ে যে ব্যবধানটা রয়েছে, সেটা যত দ্রুত সম্ভব কমানোর চেষ্টা করব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কোনো সময়ই সহজ নয়। আমাদের প্রথম টার্গেট, পরবর্তী কয়েক বছর বা মাসে যতটা সম্ভব মানসিক ও স্কিল দুটো দিক থেকে ওই গ্যাপটার কাছাকাছি যাওয়ার। এটাই টার্গেট থাকবে।'
ফাইনালে বিপদের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে দলকে জয় এনে দেওয়ায় এরই মধ্যে আকবরকে ভারতের সাবেক অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গেও তুলনা শুরু হয়েছে। তবে আকবর এতে যেন কিছুটা বিরক্তই হলেন, 'মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে তুলনা করা বাড়াবাড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়। কেবল একটি ইনিংস দেখে তার সঙ্গে তুলনা উঠতেই পারে না।' কারও সঙ্গে তুলনা না করলেও যুব দলের কোচ নাবিব নেওয়াজ কিন্তু ভূয়সী প্রশংসা করেছেন আকবরের, 'তার মতো চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে খেলতে আমি আর কাউকে দেখিনি। সে ছয়-সাতে ব্যাট করে। অধিকাংশ ম্যাচে সে ব্যাট করার সুযোগ পায়নি। এরপরও আমাদের ভরসা ছিল, আকবর আছে!'
আকবর-জয়দের আগেও অনেক ক্রিকেটার যুব বিশ্বকাপ খেলেছেন। এর মধ্যে কেবল সাকিব, তামিম, মুশফিকরা নিজেদের আলাদা জায়গায় নিয়ে গেছেন। দেশের ক্রিকেটেও তাদের অবদান অনেক। অধিকাংশ ক্রিকেটারই পরে হারিয়ে গেছেন। আকবরের বিশ্বাস, তারাও দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য সাকিব-তামিমদের মতো অবদান রাখতে পারবেন।

আরও পড়ুন

×