ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

ক্রিকেটে যোগ হচ্ছে 'ইমিউনিটি টেস্ট'

ক্রিকেটে যোগ হচ্ছে 'ইমিউনিটি টেস্ট'
×

আলী সেকান্দার

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৩১

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগের দেওয়া নির্দেশনায় ইমিউনিটি বাড়াতে শারীরিক-মানসিক ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যের সঙ্গে নতুন যোগ হচ্ছে ভিটামিন ট্যাবলেট। প্রতিদিন দুটি করে মাল্টি ভিটামিন খেতে বলা হবে। এই সার্কুলার জারি করা হবে ১ মে থেকে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানবদেহে ইমিউনিটি বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। ইমিউনিটি ভালো থাকলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুঝুঁকি কম থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই পরামর্শ অনুসরণ করছেন দেশের ক্রিকেটাররা। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগের দেওয়া নির্দেশনায় ইমিউনিটি বাড়াতে শারীরিক-মানসিক ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যের সঙ্গে নতুন যোগ হচ্ছে ভিটামিন ট্যাবলেট। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী জানান, খেলোয়াড়দের প্রতিদিন দুটি করে মাল্টি ভিটামিন খেতে বলা হবে। এই সার্কুলার জারি করা হবে ১ মে থেকে।

স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ ও শারীরিক-মানসিক ব্যায়াম করায় তামিম, মুশফিকদের অ্যান্টিবডি সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার কথা। এরপরও কেন ভিটামিন ট্যাবলেট খেতে বলা হচ্ছে? এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে চিকিৎসক দেবাশীষ বলেন, 'খেলোয়াড়রা অনেকদিন রোদে যেতে পারছে না, এতে ভিটামিন ডির অভাব দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডি ও ক্যালসিয়াম জাতীয় ট্যাবলেট খেতে বলা হবে। প্রতিদিন দুটি করে মাল্টি ভিটামিন ও একটি করে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট লিখব সবার জন্য। ১ মে থেকে সেটি সবাইকে খাওয়ার জন্য মেইল দেব।'

বিসিবির এই প্রধান চিকিৎসক জানান, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বড় একটা পরিবর্তন আনবে ইমিউনিটি পরীক্ষা। খেলা শুরুর আগে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা নেওয়া হবে ক্রিকেটারদের। যদিও বিশ্বের কোনো ক্রীড়া ফেডারেশন থেকে এ ধরনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মেডিকেল বিভাগ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। জার্মানির ফুটবল লিগ বুন্দেসলিগার করোনাভাইরাসের পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ফুটবলারদের জন্য। প্রতিটি দলের প্রস্তুতি শুরুর আগে খেলোয়াড় ও সাপোর্টিং স্টাফদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে।

প্রতি সপ্তাহে দু'বার করে হবে এই পরীক্ষা। লিগে ম্যাচে নামাতে হবে করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও অনুসরণ করা হচ্ছে এ নিয়ম। বিশ্বের কোথাও এখন পর্যন্ত পেশাদার ক্রিকেটারদের অনুশীলন শুরু হয়নি। শিগগির হয়তো সুখবর পাবেন ক্রিকেটের দর্শকরাও। এ ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্ব দ্রুত করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাতে পারলেও উন্নয়নশীল দেশে খেলোয়াড়দের অ্যান্টিবডি পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। দেবাশীষ বলেন, 'যেটুকু বুঝতে পারছি করোনাভাইরাসের পরীক্ষা হবে না, অ্যান্টিবডি টেস্ট করা হতে পারে। দেখা হবে কার অ্যান্টিবডি কেমন আছে। মজার ব্যাপার হলো, এতদিন খেলোয়াড়রা নির্বাচিত হত স্কিল ও ফিটনেসের ওপর ভিত্তি করে। এখন হয়তো আরেকটি পরীক্ষা করা হবে খেলোয়াড়দের- ভাইরাস অ্যান্টিবডি টেস্ট।'

অ্যান্টিবডি টেস্টের নিয়ম করা হলে বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সাময়িকভাবে বড় ধরনের একটা পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। এর একটা বিশ্নেষণও করলেন দেবাশীষ, 'এতে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে। দেখা গেল একজন বড় খেলোয়াড় অ্যান্টিবডি কম থাকার কারণে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। বেশি অ্যান্টিবডি নিয়ে সাইডলাইন থেকে এসে কেউ তারকা হয়ে যাচ্ছে। দল নির্বাচন ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে পড়ে যেতে পারে আগামী কিছুদিন। যতদিন না ভ্যাকসিন আবিস্কার হচ্ছে, ততদিন এই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যেতে হতে পারে।' ভ্যাকসিন আবিস্কার হলেও তা সর্বসাধারণের কাছে না পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থাই ভরসা। ক্রিকেটাররাও ভালো করেই জানেন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা বড় বাস্তবতা।

আরও পড়ুন

×