ঢাকা বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

কেমন আছেন তারা?

জীবনে ঠকেও জয়ী নাজমুল

জীবনে ঠকেও জয়ী নাজমুল
×

--

প্রকাশ: ০৪ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ০৫ মে ২০২০ | ০২:২৯

থেমে গেছে ক্রীড়াঙ্গনের কোলাহল। স্তব্ধ খেলার মাঠ। ঘরে সময় কাটছে খেলাধুলার তারকাদের। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদের ড্রয়িং রুমের খবর আসছে প্রতিনিয়তই। কিন্তু চারপাশের এই বৈরী সময়ে কেমন আছেন সাবেক তারকারা। কীভাবে কাটছে জীবন। সমকাল ক্রীড়া বিভাগের নতুন এই ধারাবাহিক আয়োজনে আজ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক পেসার নাজমুল হোসেনের বর্তমান সময় নিয়ে কথা বললেন আলী সেকান্দার

মেনে নেওয়ার মানসিক গুণাবলি অসম্ভব নাজমুল হোসেনের। ঠকছেন জেনেও চুপ থাকাকে অভ্যাসে পরিণত করে নিয়েছিলেন। এতে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হয়ে গিয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও লম্বা করতে পেরেছিলেন এই মিডিয়াম পেসার। খেলোয়াড়ি জীবনের শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখলেন আত্মত্যাগে প্রাপ্তিযোগ বেশ। জাতীয় দলের সদস্য থাকার সমানুপাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলে রেকর্ডের খেরো খাতায় নিজেকে দেখতে পেতেন আর সমৃদ্ধরূপে। বেশির ভাগ সময় রিজার্ভ বেঞ্চে কাটলেও প্রাপ্তিকে বড় করে দেখতে চান নাজমুল। যেটুকু অপূর্ণতা রয়ে গেছে তা পুষিয়ে নিতে চান কোচিং দিয়ে।

২০০৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নাজমুলের ওয়ানডে অভিষেক। জীবনের প্রথম তিনটি আন্তর্জাতিক ওয়ানডে খেলেন ভিন্ন ভিন্ন দেশে। প্রথম দুই ম্যাচে উইকেটশূন্য। তৃতীয় ম্যাচ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে পেলেন চার উইকেট। এভাবেই ২০১২ সাল পর্যন্ত খেলেছেন ৩৮টি ওয়ানডে, চারটি টি২০ ও দুটি টেস্ট ম্যাচ। তিন ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের স্বীকৃতিটাও বড় অর্জন নাজমুলের জন্য, 'প্রাপ্তি বলতে অনেক কিংবদন্তির সঙ্গে খেলেছি। শচীন, রাহুল দ্রাবিড়, লারাদের বিপক্ষে খেলেছি। বাংলাদেশে যারা লিজেন্ড বা ভবিষ্যতে লিজেন্ড হবে সাকিব, তামিম, মুশফিক তাদের সঙ্গে খেলেছি। ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ভারতকে হারানো। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচে চার উইকেট শিকার করা। কার্ডিফে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো অবশ্যই বিশাল অর্জন। এদিক থেকে দেখলে তৃপ্তি বেশি। অতৃপ্তি সামান্য।'

নাজমুল মনে করেন, একাদশ সমন্বয় এবং চোট ছাড়াও ক্যারিয়ারে উপেক্ষার শিকার হয়েছেন প্রতিনিয়ত। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করার পরের ম্যাচে তাকে যেতে হয়েছে রিজার্ভ বেঞ্চে। এই বঞ্চনা জীবনের অংশ হলেও ভুলতে চান না নাজমুল, ''কিছু ক্ষেত্রে আমি বঞ্চিত। আমার সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় ডেভ হোয়াটমোর খেলার সুযোগ দিয়েছেন। তিনি চলে যাওয়ার পর উপেক্ষিত হতে থাকি। জেমি সিডন্স খেলাতে চাইতেন না। ২০০৯ সালে ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনালে হঠাৎ করেই খেলার সুযোগ মেলে। জেমির সঙ্গে অনেক লড়াই করে সাকিব আমাকে সুযোগটা দেয়।

ম্যাচের ঠিক আগে জেমি আমাকে বলেন- 'সাকিব তোমাকে অনেক লড়াই করে খেলার সুযোগ দিয়েছে। খারাপ খেললে তোমার ক্যারিয়ার এখানেই শেষ।' একজন কোচ ম্যাচের ঠিক আগে এভাবে বললে মানসিক চাপেই তো খেলা শেষ। কিন্তু আমি ওই ম্যাচে ভালো করি। পাঁচ রানে শ্রীলঙ্কার ছয় উইকেট ফেলে দিই আমরা। যদিও ম্যাচটি জিততে পারিনি আমরা। ২০১২ সালের এশিয়া কাপের সব ম্যাচ খেলি এবং ভালো করি। অথচ এশিয়া কাপের পর টানা সাত ম্যাচে সুযোগ পাইনি। এভাবেই জাতীয় দলে বেশির ভাগ সময় কেটেছে। কোপটা আমার ওপর দিয়ে যেত। নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে ওয়ানডেতে আমার একশ' উইকেট থাকত।''

হবিগঞ্জের এ পেসারের দুঃখ টেস্ট ক্যারিয়ারটা মোটে দুই ম্যাচের। যেখানে তার স্বপ্ন ছিল আকাশ ছোঁয়ার। ডানহাতি এ পেসার জানান, তার জীবনের সবচেয়ে বড় হতাশা এবং আক্ষেপ নিয়মিত টেস্টে সুযোগ না পাওয়া। ২০০৪ সালে শেবাগ, গম্ভীর, রাহুল দ্রাবিড়, শচীন, সৌরভদের ভারতের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক নাজমুলের। বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে বোলিংটা খারাপ করেননি। ২৬ ওভারে ১১৪ রান দিয়ে শিকার দুই উইকেট। অথচ দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে তাকে অপেক্ষা করতে হয় সাত বছর। ২০১২ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৯ ওভারে ৮০ রান দিয়ে পেয়েছিলেন তিন উইকেট। কিছুটা আক্ষেপ নিয়েই বললেন নাজমুল, 'বলা হয় আমার পেস নেই। আমি, রবিউল এবং সাহাদাত রাজিব খেলেছিলাম পাকিস্তানের বিপক্ষে। টিভিতে বলের স্পিড দেখাল আমার সবচেয়ে বেশি। ছয় মাস পর আরেকটি টেস্টে রাজিব ও রবিউল খেলার সুযোগ পেল, আমি বাদ। আজও বুঝতে পারি না, আমার সঙ্গে কেন এমন হতো।'

খেলা ছাড়ার পর কোচিংকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন নাজমুল। এই অধ্যায় শুরু করেছেন বেশিদিন হয়নি। তবে অধ্যবসায় দিয়ে এই জীবনেও প্রতিষ্ঠা পেতে চান নাজমুল, 'খেলা শেষ করার পর দুই-তিন বছর আয়-রোজগার বন্ধ ছিল। সুজন ভাই (খালেদ মাহমুদ) আমাকে কোচিংয়ে সুযোগ করে দেন। কোচিংকে পেশা এবং নেশা হিসেবে নিয়েছি। আমি স্বপ্ন দেখি, কোনো এক সময়ে জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ হওয়ার। এজন্য নিজেকে আগে তৈরি করব। কোচিং আমার ধ্যানজ্ঞান। একজন ভালো মানের কোচ হতে যত পরিশ্রম করতে হয় করব।' কোচিং পেশায় প্রতিষ্ঠা পেলে নিশ্চয়ই নিজের অধিকার আদায় করে নেওয়া শিখবেন নাজমুল।

আরও পড়ুন

×