সুন্দর শুরু চাই আর্জেন্টিনার
সাবিনা খাতুন
সাবিনা খাতুন
প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:০২ | আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৮:০৬
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ম্যাচ শেষ করেছে জাপান। জাপানের একটা জিনিস আমার দারুণ ভালো লাগে। ওরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিষ্ঠা দেখায়। ম্যাচ হচ্ছে, ওরা ফুরফুরে মেজাজে খেলছে। মানে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত মাঠে ওরা জান দিয়ে খেলে। কখনও হাল ছাড়ে না। ২-১ গোলে যখন হেরে যাচ্ছিল, একেবারে শেষ মুহূর্তে যে গোলটা হয়েছে, সেটি অবিশ্বাস্য। এজন্যই আসলে জাপানের খেলা ভালো লাগে। ভালো লাগার আরেকটা কারণ হচ্ছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করা। আমি চাইব, জাপান যেন অন্তত সেমিফাইনালে যেতে পারে।
সত্যি বলতে, বিশ্বকাপে অপ্রত্যাশিত অনেক কিছুই তো হচ্ছে। ব্রাজিলের সঙ্গে মরক্কোর ম্যাচটি যদি দেখেন, ১-১ গোলে ড্র। আবার নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে জাপানের ড্র। আমার মনে হয়, এবারের বিশ্বকাপে অবাক করার মতো অনেক কিছুই হবে। নবীন যে দলগুলো আছে, তারা বড় দলগুলোকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাবে।
গত বিশ্বকাপের সময় সাক্ষাৎকারে আমি বলেছিলাম সৌদি আরবকে নিয়ে। সৌদি আরব তো গতবার আর্জেন্টিনাকে একদম চমকে দিয়েছে। বিশ্বকাপের জন্য মানুষ চার বছর অপেক্ষা করে। তাই (৪৮ দলের কারণে) দীর্ঘ হচ্ছে, সাধারণ দর্শকের জায়গা থেকে যদি বলি, আমার কাছে ভালো লাগবে। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বকাপ দেখব। নবীন যে দলগুলো আছে, আমার মনে হয়, ওরা বেশ চমক দেখাবে।
ব্রাজিলের ম্যাচের দিকে যদি দেখেন–বাংলাদেশের মানুষের কাছে তো বিশ্বকাপ বলতে দুটি দল–আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। ওই জায়গা থেকে সমর্থকদেরও এ দুটো দলের কাছে প্রত্যাশা থাকে। সে জায়গা থেকে হয়তো (ব্রাজিলকে নিয়ে) সমর্থকদের প্রত্যাশার জায়গাটা পূরণ হয়নি। তবে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আমার একটা ভালোলাগা কাজ করে। শুধু সমর্থক হিসেবেই বলছি, এমন নয়। একজন ফুটবলার হিসেবেও যদি বলি, আর্জেন্টিনার টিম কম্বিনেশনটা অনেক গোছানো। আমার মনে হয়, ওদের টিম বন্ডিংটা খুবই চমৎকার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটা ভালোভাবেই উতরে যাবে আর্জেন্টিনা–এটি আমার ধারণা।
তবে বিশ্বকাপ এমন একটা জায়গা, যা বাকি দলগুলোকেও আলাদা একটা স্পৃহা জোগায়। বিশ্বমঞ্চে নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করা। আপনি যত বড় দলের সঙ্গেই খেলেন না কেন, আলাদা একটা স্পিরিট কাজ করে। সেই জায়গা থেকে, আর্জেন্টিনাকেও সতর্ক থাকতে হবে। অনেক সময় আমরা বলি যে, পচা শামুকে যেন পা না কাটে। বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে এসব হচ্ছে। তাই আলাদা একটা চাপ তৈরি হয়। আবার দুর্বল দলের সঙ্গে খেলার সময় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, অনেক বড় দল গা-ছাড়া ভাব দেখায়। তাই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। আমার মনে হয়, আর্জেন্টিনা যথেষ্ট চেষ্টা করবে।
তবে লিওনেল মেসির নামের একটা ভার আছে। সর্বশেষ বিশ্বকাপের দিকেও যদি দেখেন, মেসির পায়ে বল যাওয়া মানেই মনে হচ্ছে, এবার কিছু একটা হতে পারে। মেসির পায়ে বল গেলে আমারও সেটিই মনে হয়। মেসি দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র খেলোয়াড়। মেসির ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করছে। মেসি নিজেও জানে সেটি। সারা বিশ্বে মেসির যত ভক্ত আছে, সবাই তাঁর দিকে তাকিয়ে। দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে হলেও মেসির ওপর একটু হলেও চাপ থাকবে। এ ছাড়া মেসির এটি শেষ বিশ্বকাপ। আমার মনে হয়, মেসিও চাইবে সবকিছু উজাড় করে দিয়ে শেষ টানার। আমি চাইব, আর্জেন্টিনা যেন ফাইনালে যায়। যদিও তা খুব কঠিন।
সাবিনা খাতুন, নারী জাতীয় দলের ফুটবলার
- বিষয় :
- আর্জেন্টিনা
- সাবিনা খাতুন
